
সিনিয়ার রিপোর্টার

সারাদিনের ব্যস্ততা ও ক্লান্তি শেষে রাতে বিছানায় শুয়ে একটু স্বস্তির ঘুমের অপেক্ষা। কিন্তু চোখে ঘুম এলেও পায়ের অস্বস্তি যেন সেই ঘুম কেড়ে নেয়। পা স্থির রাখতে গেলেই ভেতরে অদ্ভুত এক অনুভূতি তৈরি হয়। মনে হয়, পা নাড়াতেই হবে। কিছুক্ষণ পা নড়ালে কিংবা উঠে হাঁটলে অস্বস্তি কিছুটা কমে যায়। কিন্তু আবার স্থির হয়ে শুয়ে পড়লেই ফিরে আসে একই সমস্যা। এভাবে রাতের পর রাত ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে থাকে।
অনেকেই বছরের পর বছর এ ধরনের সমস্যাকে সাধারণ ক্লান্তি বা শরীরে কোনো সাময়িক অস্বস্তি হিসেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু নিয়মিত এমন উপসর্গ দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। কারণ, এটি একটি স্বীকৃত স্নায়বিক রোগ—রেস্টলেস লেগ সিনড্রোম বা আরএলএস (RLS)। রোগটি সাধারণত গুরুতর না হলেও দীর্ঘদিনের ক্ষেত্রে ঘুমের স্বাভাবিকতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কর্মক্ষমতা, মানসিক স্বস্তি এবং সামগ্রিক জীবনমানের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
কীভাবে বুঝবেন রেস্টলেস লেগ সিনড্রোম
আরএলএসের ক্ষেত্রে সবচেয়ে পরিচিত বৈশিষ্ট্য হলো বিশ্রামে থাকলে বা দীর্ঘ সময় শুয়ে থাকলে পায়ের অস্বস্তি বেড়ে যাওয়া। তখন আক্রান্ত ব্যক্তির পা নাড়ানোর বা নাচানোর তীব্র ইচ্ছা তৈরি হয়। অনেক সময় কয়েক মিনিট হাঁটাহাঁটি করলেই অস্বস্তি কমে আসে।
সাধারণত সন্ধ্যা কিংবা রাতের দিকে এই সমস্যা বেশি প্রকট হয়। কারও কাছে মনে হতে পারে পায়ের ভেতর পিঁপড়া হাঁটছে, কারও টান লাগার মতো অনুভূতি হয়। আবার কেউ পায়ের ভেতরে কিলবিল বা অস্বস্তিকর এক ধরনের অনুভূতির কথা জানান।
অস্বস্তি কমানোর জন্য কেউ কেউ রাতে ঘুমের মধ্যেও নানা উপায় অবলম্বন করেন। এমনকি অনেকে পায়ে রশি বা কাপড় দিয়ে গিঁট বেঁধে রাখেন, যাতে কিছুটা আরাম পাওয়া যায়।
কেন হয় এই সমস্যা
রেস্টলেস লেগ সিনড্রোমের সঠিক কারণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। তবে বিভিন্ন গবেষণায় মস্তিষ্কে লৌহ বা আয়রনের স্বল্পতা এবং ডোপামিন নামের রাসায়নিক বার্তাবাহকের কার্যকারিতার পরিবর্তনের সঙ্গে এই রোগের সম্পর্কের কথা উঠে এসেছে।
এ কারণে শুধু রক্তশূন্যতা রয়েছে কি না, সেটি পরীক্ষা করাই যথেষ্ট নয়। অনেক ক্ষেত্রে শরীরে আয়রনের অবস্থা বোঝার জন্য আয়রন প্রোফাইল ও ফেরিটিন পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতিও ঘুমের সমস্যা ও পেশির অস্বস্তি বাড়াতে পারে। তাই খাদ্যতালিকায় সবুজ শাকসবজি, ডাল, বাদাম এবং বীজজাতীয় খাবার রাখাকে উপকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
কিছু নির্দিষ্ট অবস্থার সঙ্গেও আরএলএসের সম্পর্ক রয়েছে। আয়রনজনিত রক্তশূন্যতা, গর্ভাবস্থা, দীর্ঘমেয়াদি কিডনির রোগ, পরিবারে একই রোগের ইতিহাস এবং কিছু স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে এ সমস্যা তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়।
চিকিৎসায় প্রথমেই যে বিষয়টি খুঁজে দেখা হয়
আরএলএসের চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রথমেই বোঝার চেষ্টা করা হয়, শরীরে আয়রনের ঘাটতি বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না। আয়রনের মাত্রা কম থাকলে চিকিৎসার মাধ্যমে তা পূরণ করা হয় কিংবা প্রয়োজন অনুযায়ী সাপ্লিমেন্ট দেওয়া হতে পারে।
অনেক রোগীর ক্ষেত্রে শুধু আয়রনের মাত্রা স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসতেই উপসর্গ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। আবার কিছু রোগীর ক্ষেত্রে মুখে খাওয়ার নির্দিষ্ট ওষুধ ব্যবহার করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে আরএলএস চিকিৎসায় ব্যবহৃত এসব ওষুধ অনেক রোগীর ক্ষেত্রে ভালো ফল দিতে পারে।
তবে দীর্ঘ মেয়াদে কিছু রোগীর ক্ষেত্রে এসব ওষুধ ব্যবহারের পর রোগের তীব্রতা বেড়ে যেতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন কোনো ওষুধ ব্যবহার করা উচিত নয়।
শুধু ওষুধ নয়, জীবনযাপনেও নজর জরুরি
রেস্টলেস লেগ সিনড্রোম নিয়ন্ত্রণে শুধু ওষুধের ওপর নির্ভর না করে দৈনন্দিন জীবনযাপনের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। নিয়মিত মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম, হাঁটা, সাইক্লিং, স্ট্রেচিং এবং পায়ের পেশি শক্ত করার ব্যায়াম অনেকের ক্ষেত্রে উপসর্গ কমাতে সহায়তা করতে পারে।
দীর্ঘ সময় এক জায়গায় বসে থাকলেও অস্বস্তি বেড়ে যেতে পারে। তাই অফিসে দীর্ঘ সময় কাজ করার সময়, ভ্রমণের ক্ষেত্রে কিংবা টানা টেলিভিশন দেখার সময় মাঝেমধ্যে উঠে হাঁটা এবং পা নড়াচড়া করা উপকারী হতে পারে।
রাতে পায়ে অস্বস্তি শুরু হলে কয়েক মিনিট হাঁটাহাঁটি করা, কাফ স্ট্রেচিং, হালকা ম্যাসাজ কিংবা গরম পানিতে গোসল সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে।
ঘুমের অভ্যাসেও পরিবর্তন আনুন
রোগ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত ও সুশৃঙ্খল ঘুমের অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করা যেতে পারে।
বিকেল ও সন্ধ্যার পর অতিরিক্ত চা-কফি পান কমানো এবং ঘুমানোর আগে মুঠোফোন ব্যবহার সীমিত করাও উপকারী হতে পারে। পাশাপাশি সামগ্রিকভাবে একটি সুশৃঙ্খল জীবনযাপন বজায় রাখার চেষ্টা করা প্রয়োজন।
রাতে বারবার পা নাড়ানোর তাগিদ, পায়ে অস্বস্তি এবং নড়াচড়া করলে স্বস্তি পাওয়ার মতো উপসর্গ নিয়মিত দেখা দিলে বিষয়টিকে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ, সমস্যার কারণ চিহ্নিত করা গেলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও জীবনযাপনের পরিবর্তনের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

মালয়েশিয়ায় কঠোর পরিশ্রম করে যাওয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বৈদেশিক মুদ্রার বাজার সংক্রান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত বা শিগগিরই দেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর কথা ভাবছেন, তাদের জন্য বর্তমান বাজারদর জানা অত্যন্ত জরুরি। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ান রিংগিতের বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মান বেশ স্থিতিশীল রয়েছে।
১৪ আগস্ট ২০২৬

বর্তমান আধুনিক ও যান্ত্রিক জীবনযাত্রায় ব্যস্ততা, কাজের চাপ এবং নানা ধরনের দুশ্চিন্তার কারণে আমাদের শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক শান্তি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অথচ একটি সুন্দর ও সফল জীবনযাপনের জন্য শারীরিক স্বাস্থ্যের চেয়েও মানসিক স্বাস্থ্যের সুস্থতা অনেক বেশি জরুরি। মানসিকভাবে সুস্থ না থাকলে জীবনের কোনো আনন্দই ঠিকমতো উপভোগ করা যায় না। দৈনন্দিন জীবনের নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে কীভাবে মানসিক শান্তি বজায় রাখা যায় এবং একটি চাপমুক্ত জীবনযাপন করা সম্ভব, সে বিষয়েই আজকের এই বিস্তারিত আলোচনা।
১২ আগস্ট ২০২৬

বিশ্বের মূল্যবান ধাতুর বাজারে বেশ জোরালো ও স্থিতিশীল চাঙ্গা ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে মার্কিন ডলারের মান দুর্বল হওয়া এবং বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমে আসার প্রেক্ষাপটে বিনিয়োগকারীদের মূল মনোযোগ এখন নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে পরিচিত স্বর্ণের দিকে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, টানা তৃতীয় কার্যদিবসের মতো বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
৫ আগস্ট ২০২৬

পৃথিবীতে সফল ও ব্যর্থ মানুষের মধ্যে দিনশেষে সবচেয়ে বড় পার্থক্যটি গড়ে দেয় সময়ের সঠিক ব্যবহার। দিন বা রাতের ২৪ ঘণ্টা সময় সবার জন্যই সমান বরাদ্দ, কেউ তা বাড়িয়ে নিতে পারে না। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কিছু মানুষ এই সীমিত সময়ের মধ্যেই নিজেদের লক্ষ্য অর্জন করে সফলতার শিখরে পৌঁছে যান, আবার অনেকেই সারাদিন ব্যস্ত থেকেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য থেকে অনেক দূরে রয়ে যান। এর মূল রহস্য লুকিয়ে রয়েছে নিখুঁত এবং কার্যকর 'সময় ব্যবস্থাপনা' বা Time Management-এর দক্ষতার মধ্যে। সময় একবার চলে গেলে তা আর কোনোভাবেই ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়, তাই সময়ের সদ্ব্যবহার করা অত্যন্ত বুদ্ধিমানের কাজ।
২৮ জুলাই ২০২৬

আধুনিক ব্যস্ততার এই যুগে মানুষের জীবনযাত্রা দিন দিন যান্ত্রিক হয়ে পড়ছে। কর্মব্যস্ততা, অপর্যাপ্ত ঘুম এবং ফাস্টফুড বা প্রক্রিয়াজাত খাবারের অতিরিক্ত নির্ভরতা আমাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলছে। অথচ একটু সচেতনতা এবং জীবনধারায় সামান্য ইতিবাচক পরিবর্তন এনে খুব সহজেই একটি দীর্ঘ, সুস্থ ও রোগমুক্ত জীবন নিশ্চিত করা সম্ভব। আর এজন্য নিয়মিত শরীরচর্চা এবং সুষম খাদ্যাভ্যাসের বিকল্প কিছু হতে পারে না। যুগের পর যুগ ধরে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কাছে এই দুটি বিষয়ই সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর ও চিরন্তন ফর্মুলা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
২৮ জুলাই ২০২৬

আমরা প্রতিদিন অজান্তেই অসংখ্যবার নিজের শরীরের বিভিন্ন অংশে হাত দিই। কখনও অভ্যাসবশত, কখনও অস্বস্তি দূর করতে, আবার কখনও একেবারেই অচেতনভাবে। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই সাধারণ অভ্যাসই অনেক সময় বিভিন্ন সংক্রমণ, ত্বকের সমস্যা এমনকি গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
১৭ জুলাই ২০২৬

সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের বিকল্প নেই। চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের মতে, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় সঠিক পুষ্টিগুণসম্পন্ন খাবার রাখলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি কমে এবং সার্বিক সুস্থতা বজায় থাকে।
১৪ জুলাই ২০২৬

বর্তমান বিশ্বে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণগুলোর একটি হলো ক্যানসার। প্রতি বছর লাখো মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যানসারের অনেক ধরনের ঝুঁকি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার মাধ্যমে অনেকটাই কমানো সম্ভব।
১৪ জুলাই ২০২৬

অনেকেই দিনের শুরু করেন এক গ্লাস পানি পান করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে পানি পান করা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি অভ্যাস। এটি শুধু শরীরকে সতেজ রাখে না, বরং বিভিন্ন শারীরিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
১২ জুলাই ২০২৬