
রিপোর্টার

আমরা প্রতিদিন অজান্তেই অসংখ্যবার নিজের শরীরের বিভিন্ন অংশে হাত দিই। কখনও অভ্যাসবশত, কখনও অস্বস্তি দূর করতে, আবার কখনও একেবারেই অচেতনভাবে। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই সাধারণ অভ্যাসই অনেক সময় বিভিন্ন সংক্রমণ, ত্বকের সমস্যা এমনকি গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমাদের হাত সারাদিনে অসংখ্য জিনিস স্পর্শ করে। দরজার হাতল, মোবাইল ফোন, টাকা, কম্পিউটারের কিবোর্ড, যানবাহনের আসন কিংবা বিভিন্ন ব্যবহার্য জিনিসের মাধ্যমে হাতে অসংখ্য জীবাণু জমা হয়। পরে সেই হাত দিয়ে যদি শরীরের সংবেদনশীল অঙ্গগুলো স্পর্শ করা হয়, তাহলে সহজেই জীবাণু শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
তাই সুস্থ থাকতে চাইলে শরীরের কয়েকটি বিশেষ অংশে অপ্রয়োজনে হাত না দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
কানের ভেতরে হাত বা অন্য কোনো বস্তু প্রবেশ করাবেন না
কান চুলকালে অনেকেই আঙুল, কলম, পেন্সিল কিংবা বিভিন্ন বস্তু দিয়ে কানের ভেতর পরিষ্কার করার চেষ্টা করেন। চিকিৎসকদের মতে, এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অভ্যাস।
কানের ভেতরের চামড়া খুবই পাতলা ও সংবেদনশীল। সামান্য অসাবধানতাও সেখানে ক্ষত সৃষ্টি করতে পারে। এমনকি কানের পর্দাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
কান চুলকালে বা অস্বস্তি হলে জোর করে কিছু প্রবেশ করানোর পরিবর্তে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়। একইভাবে কান পরিষ্কার করার প্রয়োজন হলেও বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়াই উত্তম।
অকারণে মুখে হাত দেবেন না
মুখ ধোয়া বা ত্বকের পরিচর্যার সময় মুখ স্পর্শ করতেই হয়। কিন্তু এর বাইরে বারবার মুখে হাত দেওয়া একেবারেই স্বাস্থ্যকর নয়।
সারাদিন বিভিন্ন স্থানে হাত ব্যবহারের কারণে তাতে অসংখ্য জীবাণু জমে। সেই জীবাণু মুখে চলে গেলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। শুধু তাই নয়, হাতের আঙুলের প্রাকৃতিক তেলও মুখের ত্বকে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্রণ, ফুসকুড়ি ও অন্যান্য ত্বকের সমস্যার কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি অপ্রয়োজনে মুখে হাত দেওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করাও ত্বক সুস্থ রাখার অন্যতম উপায়।
চোখে হাত দেওয়ার আগে সতর্ক হোন
চোখ আমাদের শরীরের সবচেয়ে সংবেদনশীল অঙ্গগুলোর একটি। অনেকেই চোখ চুলকালে বা ক্লান্ত লাগলে হাত দিয়ে চোখ ঘষে থাকেন। কিন্তু এই অভ্যাস বিপজ্জনক হতে পারে।
হাতে থাকা জীবাণু সহজেই চোখে প্রবেশ করে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। চোখ পরিষ্কার করার সময় সরাসরি হাত ব্যবহার না করে পরিষ্কার পানি দিয়ে চোখ ধোয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
শুধু প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে, যেমন কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহারের সময়, ভালোভাবে হাত ধুয়ে চোখ স্পর্শ করা উচিত।
ঠোঁট ও মুখের ভেতরে হাত দেওয়া থেকে বিরত থাকুন
চিকিৎসাবিষয়ক বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের শরীরে প্রবেশ করা অনেক জীবাণুই হাতের মাধ্যমে মুখ দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম বড় মাধ্যম হলো অপ্রয়োজনে ঠোঁট কিংবা মুখের ভেতরে হাত দেওয়া। তাই এই অভ্যাস যত দ্রুত সম্ভব বাদ দেওয়াই ভালো।
নাকের ভেতরে আঙুল দেওয়া স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়
নাকে আঙুল দেওয়ার অভ্যাস শুধু সামাজিকভাবে অগ্রহণযোগ্য নয়, এটি স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর।
গবেষণায় দেখা গেছে, স্ট্যাফাইলোকক্কাস অরিয়াস নামের ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যকেরই নাকে আঙুল দেওয়ার অভ্যাস রয়েছে।
নাকের ভেতরের নরম টিস্যুতে ক্ষত তৈরি হলে সেখানে জীবাণু সহজেই সংক্রমণ ঘটাতে পারে। তাই নাক পরিষ্কার করার প্রয়োজন হলে নিরাপদ পদ্ধতি অনুসরণ করাই উচিত।
নখের ভেতরের অংশ পরিষ্কারে ব্যবহার করুন নরম ব্রাশ
নখের নিচে সহজেই ধুলাবালি, মৃত কোষ এবং বিভিন্ন জীবাণু জমে থাকে। অনেকেই নখ পরিষ্কার করার সময় অন্য আঙুল ব্যবহার করেন, যা জীবাণু শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে দিতে পারে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, নখ পরিষ্কার করার সময় আঙুলের বদলে নরম ব্রাশ ব্যবহার করা সবচেয়ে নিরাপদ। এতে নখের নিচে থাকা ময়লা ও জীবাণু সহজেই পরিষ্কার হয় এবং সংক্রমণের ঝুঁকিও কমে।
সুস্থ থাকতে ছোট অভ্যাসেই বড় পরিবর্তন
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, অপ্রয়োজনে মুখ, চোখ, নাক কিংবা কানের ভেতর হাত না দেওয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা—এই কয়েকটি সাধারণ অভ্যাসই অনেক সংক্রমণ থেকে আমাদের রক্ষা করতে পারে।
সুস্থ জীবনযাপনের জন্য বড় কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। বরং দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট সচেতন অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের বিকল্প নেই। চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের মতে, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় সঠিক পুষ্টিগুণসম্পন্ন খাবার রাখলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি কমে এবং সার্বিক সুস্থতা বজায় থাকে।
২ দিন আগে

বর্তমান বিশ্বে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণগুলোর একটি হলো ক্যানসার। প্রতি বছর লাখো মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যানসারের অনেক ধরনের ঝুঁকি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার মাধ্যমে অনেকটাই কমানো সম্ভব।
২ দিন আগে

অনেকেই দিনের শুরু করেন এক গ্লাস পানি পান করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে পানি পান করা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি অভ্যাস। এটি শুধু শরীরকে সতেজ রাখে না, বরং বিভিন্ন শারীরিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৪ দিন আগে

আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়ালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করে, তাহলে দেশটির ওপর এমন পরিস্থিতি নেমে আসবে, যা তারা কল্পনাও করতে পারবে না।
১৬ জুন ২০২৬

দেশের স্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে হামের বিস্তার। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়লেও সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার হিসাব পরিস্থিতিকে আরও চিন্তার মধ্যে ফেলেছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্যখাতে বাড়ছে চাপ।
২৫ মে ২০২৬

বাংলাদেশে থাইরয়েড রোগ এখন বড় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে থাইরয়েডজনিত সমস্যায় আক্রান্ত। এর মধ্যে নারীদের আক্রান্ত হওয়ার হার সবচেয়ে বেশি। উদ্বেগের বিষয় হলো, আক্রান্তদের অধিকাংশই জানেন না যে তারা এই রোগে ভুগছেন।
২০ মে ২০২৬

বাংলাদেশজুড়ে হাম পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা, আর সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশুরা। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গে আরও ১২ শিশুর মৃত্যুর খবর জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে ৪ জনের মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হাম রোগে হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৮ জন শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ ছিল।
১৫ মে ২০২৬

কয়েক দফা পতনের পর বিশ্ববাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে স্বর্ণের দামে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) মার্কিন ডলারের দুর্বলতা এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে রুপাসহ অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।
১৭ এপ্রিল ২০২৬

গরমের দিনে রোদের তীব্রতা যত বাড়ে, ততই বাড়ে ত্বকের সমস্যাও। বাইরে বের হওয়ার আগে ছাতা নেওয়া বা সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি হলেও, অনেক সময় ত্বকে কালচে দাগ পড়া এড়ানো যায় না। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় রোদে থাকা, ব্রণজনিত সমস্যা কিংবা হরমোনের পরিবর্তনের কারণে এই সমস্যা বেশি দেখা দেয়। তাই ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে প্রয়োজন বাড়তি যত্ন।
১৬ এপ্রিল ২০২৬