
সিনিয়র রিপোর্টার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইসলামি ইতিহাসের পাতায় চৌদ্দশ বছর আগে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এমন কিছু কালজয়ী ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, যা বর্তমান বিশ্বের—বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার—রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিচ্ছে। হাদিস শরীফে বর্ণিত এই সুদূরপ্রসারী বার্তাটি 'গাজওয়াতুল হিন্দ' বা 'হিন্দুস্তানের যুদ্ধ' নামে পরিচিত। বর্তমানের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ক্ষমতার রদবদল কি সেই প্রাচীন বার্তার দিকেই কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছে? এই প্রশ্নটি এখন কেবল ধর্মীয় মহলে নয়, বরং অনেক সমর বিশ্লেষকের মনেও ঘুরপাক খাচ্ছে।
ইসলামি ঐতিহ্যে 'গাজওয়া' বলতে সাধারণত এমন যুদ্ধকে বোঝানো হয় যেখানে রাসুলুল্লাহ (সা.) স্বয়ং অংশগ্রহণ করেছিলেন। তবে 'গাজওয়াতুল হিন্দ'-এর ক্ষেত্রে এই শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে এর বিশেষ গুরুত্ব এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সরাসরি দিকনির্দেশনার কারণে। 'হিন্দ' বলতে এখানে প্রাচীন অবিভক্ত ভারত উপমহাদেশকে নির্দেশ করা হয়েছে। সুনানে নাসাঈ ও মুসনাদে আহমদে বর্ণিত সহিহ হাদিস অনুযায়ী, হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) হিন্দুস্তানের সাথে যুদ্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, "আমার উম্মতের দুটি দল এমন হবে যাদের মহান আল্লাহ জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দেবেন—একটি যারা হিন্দুস্তানের সাথে যুদ্ধ করবে এবং অন্যটি যারা হযরত ঈসা ইবনে মারিয়াম (আ.)-এর সঙ্গী হবে।" এই হাদিসটি মুসলিম উম্মাহর কাছে একাধারে একটি ভবিষ্যদ্বাণী এবং আধ্যাত্মিক অনুপ্রেরণা।
এই মহাযুদ্ধের সময়কাল নিয়ে আলেম ও গবেষকদের মধ্যে প্রধানত দুটি ধারা বিদ্যমান। একদল প্রবীণ গবেষক মনে করেন, উমাইয়া খলিফাদের শাসনামলে মোহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু বিজয় কিংবা পরবর্তী সুলতানদের ভারত অভিযানই ছিল এই ভবিষ্যদ্বাণীর প্রাথমিক প্রতিফলন। তবে আধুনিক যুগের অধিকাংশ মুহাদ্দিস ও ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, গাজওয়াতুল হিন্দ মূলত কিয়ামতের আগের একটি বড় নিদর্শন (Sign of Qiyamah)। তাদের যুক্তির মূলে রয়েছে হাদিসের সেই বর্ণনা, যেখানে এই যুদ্ধের কথা হযরত ঈসা (আ.) এবং ইমাম মাহদীর আগমনের সমসাময়িক কালে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, এটি এমন এক 'মালহামা' বা মহাযুদ্ধ যা দাজ্জালের আবির্ভাবের কিছুকাল আগে ঘটার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমান সময়ের তিনটি প্রধান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এই প্রাচীন ভবিষ্যদ্বাণীকে আলোচনায় নিয়ে এসেছে:
কাশ্মীর সংকট: ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী কাশ্মীর বিরোধকে অনেক বিশ্লেষক সম্ভাব্য এই যুদ্ধের সূচনাবিন্দু বা 'ফ্ল্যাশপয়েন্ট' হিসেবে দেখেন।
খোরাসান ও কালো পতাকাবাহী দল: হাদিসের বর্ণনায় 'খোরাসান' (বর্তমান আফগানিস্তান ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চল) থেকে একটি শক্তিশালী দলের আগমনের কথা রয়েছে। বর্তমান তালেবান শাসিত আফগানিস্তান এবং সেই অঞ্চলের সামরিক ও কৌশলগত অবস্থান অনেকের নজর কাড়ছে।
সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ: দক্ষিণ এশিয়ায় উগ্র জাতীয়তাবাদের উত্থান এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ ও অস্থিরতা অনেককে এই আধ্যাত্মিক সতর্কবার্তার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।
ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে এই ভবিষ্যদ্বাণীগুলো কেবল যুদ্ধের রণহুঙ্কার নয়, বরং একটি বৈশ্বিক পরিবর্তনের বার্তা। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, এই যুদ্ধের চূড়ান্ত ফলাফল হবে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে। তবে মনে রাখা জরুরি, ইসলাম কখনো অহেতুক রক্তপাত সমর্থন করে না। গাজওয়াতুল হিন্দের প্রকৃত শিক্ষা হলো—যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ঈমানি শক্তিতে বলীয়ান থাকা এবং জুলুমের বিরুদ্ধে ইনসাফ কায়েমের চেষ্টা করা। এটি আমাদের শেখায় যে, পৃথিবীতে অন্যায় ও অন্ধকার কখনো স্থায়ী হয় না; শেষ পর্যন্ত মহান আল্লাহর পরিকল্পনা অনুযায়ী সত্যেরই জয় হবে। সেই মাহেন্দ্রক্ষণটি ঠিক কখন আসবে, তা একমাত্র সর্বজ্ঞাত মহান আল্লাহ তায়ালাই ভালো জানেন।

জীবনে মানুষের চাহিদা ও প্রয়োজন কখনোই শেষ হয় না। অভাব ও লোভের চাপ অনেক সময় মানুষকে হালাল-হারামের সীমা ভুলিয়ে দেয়। কিন্তু ইসলামে একজন মুমিনকে শেখানো হয়েছে, সে যেন সবসময় পবিত্র ও বরকতময় রিজিকের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করে।
৪ দিন আগে

মুসলমানদের জন্য জুমার দিন শুধু সাপ্তাহিক দিবস নয় এটি বরকত, রহমত ও নূরে পরিপূর্ণ এক মহান দিন। এই দিনের প্রতিটি মুহূর্ত আল্লাহর মেহেরবানির ছায়ায় ঢাকা। আর সেই বিশেষ দিনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আমল হলো সুরা কাহাফ তিলাওয়াত।
৪ দিন আগে

নিজস্ব প্রতিবেদক: পবিত্র রমজান মাসের এক মাস সিয়াম সাধনার পর যখন শাওয়ালের চাঁদ দেখা যায়, তখন মুসলিম বিশ্বের হৃদয়ে নেমে আসে আনন্দ, প্রশান্তি ও কৃতজ্ঞতার আবহ। সেই আনন্দকে পূর্ণতা দেয় পবিত্র ঈদুল ফিতরের দুই রাকাত নামাজ। মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হিসেবে ঈদের নামাজ মুসলিম সমাজে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
২১ মার্চ ২০২৬

রাকিব: পবিত্র মাহে রমজান ধীরে ধীরে বিদায়ের পথে। রহমত ও মাগফিরাতের পর এখন চলছে নাজাতের পর্ব রমজানের শেষ দশ দিন। ইসলামে এই সময়টিকে ইবাদত-বন্দেগির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
১০ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: বর্তমান বিশ্ব এক অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত ক্রমবর্ধমান, আর বিশ্বের নানা অঞ্চলে যুদ্ধের উত্তেজনা বাড়ছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এই পরিস্থিতি হাদিসে বর্ণিত শেষ জামানার মহাযুদ্ধ বা ‘মালহামা’-র আগাম সংকেত। বিশেষ করে ইরানের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান এবং সেখানে সংঘটিত সাম্প্রতিক ঘটনা ১৪০০ বছর আগের নবীর পূর্বাভাসের আলোকে নতুনভাবে আলোচিত হচ্ছে।
৩ মার্চ ২০২৬

হাসান: রমজান মাস আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন ও আল্লাহর রহমত লাভের এক অনন্য সময়। এ মাসে প্রতিটি ইবাদতের সওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। তবে রোজা কেবল পানাহার থেকে বিরত থাকার নাম নয়; বরং আচরণ, কথা-বার্তা ও দৈনন্দিন কাজেও সংযম বজায় রাখা জরুরি।
২ মার্চ ২০২৬

হাসান: বছর ঘুরে আবারও আমাদের মাঝে সমাগত হতে যাচ্ছে পবিত্র মাহে রমজান। ২০২৬ সালের রমজান মাস শুরুর সম্ভাব্য তারিখ চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল হলেও, প্রাথমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সিয়াম সাধনার প্রস্তুতি শুরু করেছেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, আগামী মার্চ মাসের শুরুর দিকেই প্রথম রমজান শুরু হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ঢাকা জেলার জন্য প্রথম রমজানের সময়সূচী: ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মানদণ্ড অনুযায়ী প্রথম রমজানের সময়সূচী নিচে ...
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

হাসান: রমজান মাসে সারাদিন রোজা রাখার ফলে শরীরে স্বাভাবিকভাবেই কিছু পরিবর্তন আসে। ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন না করলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে। ফলে গ্যাস্ট্রিক, দুর্বলতা, পানিশূন্যতা কিংবা অন্যান্য জটিলতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। রোজায় সুস্থ থাকতে কীভাবে খাবেন, কী এড়িয়ে চলবেন— সে বিষয়ে বিস্তারিত পরামর্শ দিয়েছেন ফাহমিদা হাশেম, সিনিয়র পুষ্টিবিদ, ল্যাবএইড আইকনিক। রোজার স্বাস্থ্য উপকারিতা— তবে শর্ত আছে ফাহমিদা হাশেম বলেন, রোজা রাখলে শরীরের কোষগুলো বিশ্রাম ...
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আজ পবিত্র শবে বরাত, যা ইসলামে পরিচিত ‘লাইলাতুল বরাত’ নামে। হিজরি বর্ষের শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত এই রাত মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও বরকতময়। ফারসি শব্দ ‘শবে বরাত’-এর অর্থ মুক্তির রাত। বিশ্বাস অনুযায়ী, এ রাতে মহান আল্লাহ অসংখ্য বান্দাকে ক্ষমা করে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করেন। শবে বরাতের গুরুত্ব ও ফজিলত হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন “যখন শাবান মাসের মধ্যবর্তী রাত আসে, তখন তোমরা রাতে ইবাদত ...
৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬