
সিনিয়ার রিপোর্টার

বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু। মধ্যপ্রাচ্যের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এই প্রণালী দিয়েই বিশ্ববাজারে প্রবেশ করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে কোনো উত্তেজনা, সামরিক চাপ বা নিয়ন্ত্রণ তৈরি হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে।
নতুন উত্তেজনা, বাড়ছে গুরুত্ব
সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের নতুন শর্ত, নৌচলাচলে বিধিনিষেধ এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালী আবারও আন্তর্জাতিক মনোযোগের কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই সামাজিক ও ধর্মীয় আলোচনায় কেউ কেউ এই প্রণালীর গুরুত্বকে কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের সঙ্গে তুলনা করছেন—যা নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
কুরআনের আয়াতে সমুদ্র ও প্রাকৃতিক সম্পদ
ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে কুরআনে সমুদ্র, পানি ও পৃথিবীর সম্পদকে আল্লাহর সৃষ্টির গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
তবে কোথাও সরাসরি “হরমুজ প্রণালী” বা আধুনিক “তেল বাণিজ্য ব্যবস্থা”-র উল্লেখ নেই।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ আয়াতে বলা হয়েছে—
সূরা ইউনুস (১০:২২): “তিনিই তোমাদের স্থল ও সমুদ্রে চলাচল করান…”
সূরা ইব্রাহিম (১৪:৩২): “তিনি সমুদ্রকে তোমাদের নিয়ন্ত্রণে দিয়েছেন…”
সূরা আন-নাহল (১৬:১৪): “সমুদ্র থেকে খাদ্য ও অলংকার আহরণ…”
সূরা ফাতির (৩৫:১২): “লবণাক্ত ও মিঠা পানি সমান নয়…”
এসব আয়াতের মূল বার্তা হলো সমুদ্র আল্লাহর নিয়ন্ত্রিত একটি ব্যবস্থা, যা মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়।
“দুই সমুদ্রের মিলন”—প্রাকৃতিক ভারসাম্যের নিদর্শন
কুরআনে “দুই সমুদ্রের মিলনস্থল” সম্পর্কেও আলোচনা রয়েছে।
সূরা আর-রহমান (৫৫:১৯–২০)-এ বলা হয়েছে, দুই সমুদ্রের মধ্যে একটি সীমারেখা রয়েছে, যা তারা অতিক্রম করে না।
ইসলামি ব্যাখ্যায় এটিকে সৃষ্টির ভারসাম্য ও প্রাকৃতিক নিয়মের এক বিস্ময়কর নিদর্শন হিসেবে দেখা হয়।
পৃথিবীর সম্পদ ও মানুষের ব্যবহার
কুরআনে পৃথিবীর সম্পদ ও মাটির গুরুত্ব সম্পর্কেও একাধিক আয়াত রয়েছে—
সূরা আল-বাকারা (২:২৯):“তিনিই পৃথিবীর সবকিছু তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন।”
সূরা লুকমান (৩১:২০):“আল্লাহ আকাশ ও পৃথিবীর সব কিছু তোমাদের জন্য নিয়োজিত করেছেন।”
সূরা নূহ (৭১:১৭–১৮):“আল্লাহ তোমাদের পৃথিবী থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং আবার সেখানে ফিরিয়ে নেবেন।”
এসব আয়াতকে অনেক ইসলামি চিন্তাবিদ পৃথিবীর খনিজ, পানি ও প্রাকৃতিক সম্পদের প্রতি ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী-এর গুরুত্ব মূলত ধর্মীয় নয়, বরং সম্পূর্ণভাবে ভূরাজনীতি ও জ্বালানি অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত।
এটি আধুনিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট, যার সঙ্গে তেলের উৎপাদন, সরবরাহ এবং বৈশ্বিক বাজারের স্থিতিশীলতা সরাসরি জড়িত।
অন্যদিকে, কুরআনের আয়াতগুলো মূলত প্রকৃতি, সৃষ্টির ভারসাম্য এবং মানুষের জন্য আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের দিকেই ইঙ্গিত করে কোনো নির্দিষ্ট আধুনিক ভৌগোলিক স্থানের প্রতি নয়।

পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ শুধু জীবদ্দশায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং তাদের মৃত্যুর পরও এই দায়িত্ব অব্যাহত রাখার নির্দেশনা এসেছে হাদিসে।
৩ দিন আগে

মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে আনন্দের দিনগুলোর একটি ঈদুল আজহা। ত্যাগ, আনুগত্য ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের শিক্ষা নিয়ে প্রতি বছর জিলহজ মাসের ১০ তারিখে আসে কোরবানির এই ঈদ। এই দিনটিকে ঘিরে মুসলমানদের মধ্যে থাকে বিশেষ প্রস্তুতি, আর দিনের শুরু হয় ঈদের নামাজের মাধ্যমে।
২৭ মে ২০২৬

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর মুসলমানদের মধ্যে কুরবানি নিয়ে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা দেখা যায়। বিশেষ করে যৌথ পরিবারে বসবাসকারীদের মধ্যে একটি প্রচলিত ধারণা হলো, পরিবারের একজন সদস্য, বিশেষ করে পরিবারের প্রধান ব্যক্তি কুরবানি দিলেই পুরো পরিবারের পক্ষ থেকে দায়িত্ব আদায় হয়ে যায়। কিন্তু ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি ভিন্ন।
২২ মে ২০২৬

প্রত্যেক প্রাণীকেই একদিন এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী ছেড়ে চিরস্থায়ী জীবনের পথে যাত্রা করতে হবে এটাই মানবজীবনের চিরন্তন বাস্তবতা। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন: প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। আর কিয়ামতের দিন তোমাদের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে। যে ব্যক্তি জাহান্নাম থেকে রক্ষা পেয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে, সেই-ই প্রকৃত সফল। আর পার্থিব জীবন শুধুই ছলনার বস্তু।
২ মে ২০২৬

ঈদুল ফিতরের আনন্দ-উৎসব শেষ না হতেই মুসলিম বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহার প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে শুরু হয়েছে আগাম আলোচনা ও অপেক্ষা। এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ আরব আমিরাত ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছে, যার ভিত্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য তারিখ নিয়েও ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।
২১ এপ্রিল ২০২৬

মানুষের জীবনে প্রতিদিনের ব্যস্ততা ও দুশ্চিন্তার মাঝেও আত্মিক শান্তির সন্ধান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম আমাদের শেখায়, দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করা যায়।
১৮ এপ্রিল ২০২৬

রোগ মানুষের জীবনের এমন এক অধ্যায়, যা কখনোই পুরোপুরি এড়ানো যায় না। শরীর অসুস্থ হলে শুধু দেহ নয়, মনও ভেঙে পড়ে। এই দুর্বল মুহূর্তেই একজন মানুষ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বোধ করে আশ্রয়, সান্ত্বনা এবং আল্লাহর রহমতের।
১৬ এপ্রিল ২০২৬

জীবনে মানুষের চাহিদা ও প্রয়োজন কখনোই শেষ হয় না। অভাব ও লোভের চাপ অনেক সময় মানুষকে হালাল-হারামের সীমা ভুলিয়ে দেয়। কিন্তু ইসলামে একজন মুমিনকে শেখানো হয়েছে, সে যেন সবসময় পবিত্র ও বরকতময় রিজিকের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করে।
১০ এপ্রিল ২০২৬

মুসলমানদের জন্য জুমার দিন শুধু সাপ্তাহিক দিবস নয় এটি বরকত, রহমত ও নূরে পরিপূর্ণ এক মহান দিন। এই দিনের প্রতিটি মুহূর্ত আল্লাহর মেহেরবানির ছায়ায় ঢাকা। আর সেই বিশেষ দিনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আমল হলো সুরা কাহাফ তিলাওয়াত।
১০ এপ্রিল ২০২৬