ঢাকা, সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২

হাসান

রিপোর্টার

প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা কি বাতিল: অধিদপ্তর ঘেরাও পরীক্ষার্থীদের

জাতীয় ডেস্ক . ২৪ নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১২ ১৪:৪২:৪১
প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা কি বাতিল: অধিদপ্তর ঘেরাও পরীক্ষার্থীদের

হাসান: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাকে ঘিরে প্রশ্নফাঁস ও প্রযুক্তিনির্ভর জালিয়াতির অভিযোগে দেশজুড়ে উত্তাল হয়ে উঠেছে পরীক্ষার্থীরা। এসব অনিয়মের প্রতিবাদে পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে রবিবার (১১ জানুয়ারি) মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ঘেরাও করে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন আন্দোলনকারীরা।

বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছে, তাদের ৫ দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে। তারা অভিযোগ করছেন, সাম্প্রতিক পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস ও ডিভাইস ব্যবহার করে জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে, যা পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

পরীক্ষার্থীদের ৬ দফা দাবি

আন্দোলনকারীদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-

১) সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করে দ্রুত পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া

২) সব সরকারি চাকরির পরীক্ষা ঢাকায় আয়োজন করা এবং প্রতিটি কেন্দ্রে ডিভাইস চেকার ও নেটওয়ার্ক জ্যামার বসানো

৩) স্বতন্ত্র একটি কমিটির অধীনে সব নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণ

৪) একই দিনে ও একই সময়ে একাধিক সরকারি পরীক্ষা না নেওয়া

৫) যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পূর্বে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ রয়েছে, তাদের দিয়ে প্রশ্ন প্রণয়ন না করানো

৬) প্রশ্নফাঁস প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া এবং প্রশ্ন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ

স্মারকলিপি ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

এই দাবিগুলো জানিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামানের কাছে একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। পরীক্ষার্থী আবু তাহের জানান, মহাপরিচালক তাদের স্মারকলিপি গ্রহণ করে দ্রুত তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন।

অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানায়, প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। খুব শিগগিরই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে পরীক্ষা বাতিলের সম্ভাবনাও রয়েছে এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফল প্রকাশ স্থগিত রাখা হতে পারে।

পরীক্ষার পটভূমি

উল্লেখ্য, গত ৯ জানুয়ারি বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশের ৬১ জেলায় (পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা ছাড়া) একযোগে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন ১০ লাখ ৮০ হাজারেরও বেশি চাকরিপ্রার্থী।

পরীক্ষার আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁসের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, দুই দিন আগে ফেসবুক ও অন্যান্য মাধ্যমে যে প্রশ্ন ছড়ানো হয়েছিল, সেখান থেকে কয়েকটি প্রশ্ন পরীক্ষায় হুবহু এসেছে যা প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে।

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ