ঢাকা, রবিবার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২

হাসান

রিপোর্টার

পে স্কেল নিয়ে সরকারের নতুন যে সিদ্ধান্ত এলো

জাতীয় ডেস্ক . ২৪ নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১১ ১৬:৩৩:৩৯
পে স্কেল নিয়ে সরকারের নতুন যে সিদ্ধান্ত এলো

হাসান: আর্থিক চাপ ও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে বাস্তবতায় বড় সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছে অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের নতুন পে–স্কেল এখনই ঘোষণা করা হচ্ছে না তবে এ জন্য গঠিত পে–কমিশনের কাজ থামছে না। বরং কমিশনকে পূর্ণাঙ্গ কাঠামো ও সুপারিশ চূড়ান্ত করে সরকারের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে, যাতে নতুন নির্বাচিত সরকার সেটি বাস্তবায়ন করতে পারে।

গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) এ বিষয়ে দীর্ঘ বৈঠক করে জাতীয় বেতন কমিশন। কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় ভবিষ্যৎ বেতন কাঠামোর খসড়া ও অনুপাত নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়।

নির্বাচনের আগেই নয়, দায়িত্ব যাবে নতুন সরকারের হাতে

কমিশন সূত্র জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ স্বল্প হওয়ায় তারা পে–স্কেল ঘোষণা করবে না। কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হলেও সেটি নতুন নির্বাচিত সরকারের হাতে হস্তান্তর করা হবে। ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন থাকায় বর্তমান সরকার আর্থিক চাপের মধ্যে বড় কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চায় না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরও স্পষ্ট করে বলেছেন, নির্বাচনের আগে নতুন পে–স্কেল ঘোষণার সম্ভাবনা নেই এবং অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়াই যুক্তিযুক্ত।

নবম পে–স্কেল প্রায় চূড়ান্ত

পে–কমিশনের আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, সরকারি কর্মচারীদের নবম পে–স্কেলের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ২১ জানুয়ারি কমিশনের চূড়ান্ত সভা হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে সুপারিশ চূড়ান্ত করে প্রধান উপদেষ্টা ও অর্থ উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করা হবে।

নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীরা নিয়ম অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা পেতে থাকবেন।

বেতন অনুপাত ও সর্বনিম্ন বেতনের প্রস্তাব

কমিশন বেতনের অনুপাত হিসেবে তিনটি বিকল্প বিবেচনা করেছিল ১:৮, ১:১০ ও ১:১২। এর মধ্যে ১:৮ অনুপাতকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ সর্বনিম্ন গ্রেডের (২০তম) কর্মচারীর বেতন যদি ১০০ টাকা ধরা হয়, তাহলে সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতন হবে ৮০০ টাকা।

সর্বনিম্ন মূল বেতন নিয়েও তিনটি প্রস্তাব রাখা হয়েছে ২১ হাজার টাকা, ১৭ হাজার টাকা এবং ১৬ হাজার টাকা। পরবর্তী বৈঠকে এর মধ্যে একটি চূড়ান্ত হতে পারে।

কমিশনের গঠন ও মেয়াদ

মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের লক্ষ্যে গত ২৭ জুলাই ২৩ সদস্যের ‘জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫’ গঠন করা হয়। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খান এই কমিশনের সভাপতি। কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে সুপারিশ জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রথম সভা হয়েছিল ১৪ জানুয়ারি, সে অনুযায়ী ১৪ ফেব্রুয়ারি কমিশনের মেয়াদ পূর্ণ হবে যার দুই দিন আগেই, ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, কমিশনকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে এবং সেখানে দেশের আর্থসামাজিক বাস্তবতা ও মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সময় পাওয়া গেলে বর্তমান সরকার কাঠামো ঘোষণা করে যেতে পারে, আর বাস্তবায়ন করবে নতুন সরকার।

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ