
সিনিয়ার রিপোর্টার

মুসলমানদের কাছে জুমার দিন সপ্তাহের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ দিন। এ দিনকে ঘিরে রয়েছে বিশেষ কিছু ইবাদত ও আমল। এর মধ্যে অন্যতম হলো বেশি বেশি দোয়া করা। হাদিসে জুমার দিনের এমন একটি বিশেষ সময়ের কথা বর্ণিত হয়েছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কল্যাণকর কিছু চাইলে আল্লাহ তাকে তা দান করেন। তবে সেই বিশেষ সময়টি দিনের ঠিক কোন অংশ—এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে একাধিক মত রয়েছে।
হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনা এবং ইসলামি গবেষকদের ব্যাখ্যা পর্যালোচনা করলে জুমার দিনের দুটি সময়কে দোয়া কবুলের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একটি হলো ইমামের খুতবার সময় থেকে জুমার নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত। অন্যটি হলো আসরের নামাজের পর থেকে সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত সময়।
তাই জুমার দিন একজন মুসলিমের জন্য শুধু জুমার নামাজ আদায়ের মধ্যেই ইবাদত সীমাবদ্ধ রাখার সুযোগ নেই। বরং পুরো দিনটিকে ইবাদত, জিকির, কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ পাঠ এবং আন্তরিক দোয়ার মাধ্যমে কাজে লাগানোর চেষ্টা করা উত্তম।
খুতবার সময় থেকে জুমার নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত
জুমার দিনের দোয়া কবুলের গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে যে সময়টির কথা হাদিসের বর্ণনায় পাওয়া যায়, তার একটি হলো ইমাম খুতবার জন্য মিম্বরে বসা বা খুতবা শুরু করার সময় থেকে জুমার সালাত শেষ হওয়া পর্যন্ত।
এ বিষয়ে সহিহ মুসলিমে সাহাবি আবু মুসা আল-আশআরি (রা.) থেকে একটি বর্ণনা পাওয়া যায়। হাদিসের বিভিন্ন ব্যাখ্যার আলোকে এই সময়কে জুমার দিনের বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ সময়গুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
তবে এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা জরুরি—খুতবার সময় মুসল্লিদের জন্য ইমামের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনা গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ সময় এমনভাবে ব্যক্তিগত দোয়া করা ঠিক নয়, যাতে খুতবা শোনা ব্যাহত হয়। খুতবার আদব ও জুমার নামাজের নিয়মকানুন মেনে বিনয়ের সঙ্গে ইবাদতে মনোযোগী থাকা উচিত।
অর্থাৎ, এই সময়ের ফজিলত পাওয়ার ক্ষেত্রে খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং জুমার সালাত যথাযথভাবে আদায় করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত—দোয়ার আরেক বিশেষ সময়
জুমার দিনে দোয়া কবুলের সম্ভাব্য বিশেষ সময় হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচিত আরেকটি সময় হলো আসরের নামাজের পর থেকে সূর্যাস্ত বা মাগরিবের আগ পর্যন্ত সময়।
হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনা ও আলেমদের ব্যাখ্যার আলোকে দিনের শেষ অংশকে দোয়া কবুলের বিশেষ সময় হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ কারণে জুমার দিন আসরের নামাজ আদায়ের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়কে ইবাদত ও দোয়ার মাধ্যমে কাটানোর প্রতি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এই সময়ে একজন মুসলিম নিজের প্রয়োজনের পাশাপাশি পরিবার-পরিজনের কল্যাণ, হালাল জীবিকা, সুস্থতা, গুনাহ থেকে ক্ষমা, হেদায়েত এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করতে পারেন।
বিশেষ করে মাগরিবের আগের সময়টুকু অবহেলায় না কাটিয়ে আল্লাহর জিকির, দরুদ পাঠ ও আন্তরিক মোনাজাতে ব্যস্ত থাকার চেষ্টা করা যেতে পারে। কারণ জুমার দিনের শেষ অংশকে দোয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে অনেক আলেম বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।
দোয়া করার সময় যেসব বিষয় মনে রাখা উচিত
দোয়া শুধু কোনো নির্দিষ্ট সময়ের আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি আল্লাহর কাছে বান্দার বিনয়, নির্ভরতা ও প্রত্যাশার প্রকাশ। তাই দোয়া করার সময় আল্লাহর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস ও আন্তরিকতা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দোয়ার শুরুতে আল্লাহর প্রশংসা করা এবং নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি দরুদ পাঠ করার পর নিজের প্রয়োজন ও কল্যাণের বিষয়গুলো আল্লাহর কাছে তুলে ধরা যেতে পারে। একই সঙ্গে দোয়া কবুলে তাড়াহুড়া না করে ধৈর্য ধারণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।
হালাল উপার্জন ও পবিত্র জীবনের প্রতিও যত্নবান হওয়া জরুরি। কারণ একজন মুসলিমের দোয়া ও ইবাদতের সঙ্গে তার জীবনযাপন ও উপার্জনের বিষয়ও সম্পর্কিত।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জুমার দিনের ফজিলত শুধু দোয়া কবুলের সম্ভাব্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পুরো দিনটিই ইবাদত, জিকির, কোরআন তিলাওয়াত ও দরুদ পাঠের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তাই খুতবার সময় থেকে জুমার সালাত শেষ হওয়া পর্যন্ত এবং বিশেষ করে আসরের পর থেকে সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত সময়কে আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে দোয়া করার সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে পারেন মুসল্লিরা। নিজের জন্য, পরিবার-পরিজনের জন্য এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের জন্য এ সময়ে বেশি বেশি দোয়া করা যেতে পারে।

ইমানের পর একজন মুমিনের জন্য ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ আমল হলো নামাজ। একজন মুমিন ও কাফেরের মধ্যে বড় পার্থক্যগুলোর একটি হলো নামাজ। নিয়মিত নামাজ মানুষকে দুনিয়ার বিভিন্ন খারাপ ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
২১ আগস্ট ২০২৬

চলতি বছরটি শেষ হওয়ার আগেই আগামী ২০২৭ সালের (১৪৪৮ হিজরি) পবিত্র রমজান মাস এবং ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে মুসলিম বিশ্বের পাশাপাশি দেশের সাধারণ মানুষের মাঝেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল ও আগ্রহ। মধ্যপ্রাচ্যের জ্যোতির্বিজ্ঞান ভিত্তিক গবেষণা এবং প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৭ সালে পবিত্র রমজান মাস শুরুর সম্ভাব্য তারিখ এবং দুই ঈদের মূল কাঠামো কেমন হতে পারে, সে বিষয়ে একটি প্রাথমিক ধারণা পাওয়া গেছে।
৩০ জুলাই ২০২৬

দিনভর ব্যস্ততা, কর্মজীবনের চাপ আর নানা দুশ্চিন্তার পর রাতের ঘুমই হয়ে ওঠে মানুষের সবচেয়ে বড় প্রশান্তির সময়। কিন্তু অনেকেই ঘুমানোর আগে সময় কাটান মোবাইল ফোনে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিংবা অপ্রয়োজনীয় কাজে। অথচ ইসলাম একজন মুমিনের জন্য ঘুমানোর আগেও রেখে দিয়েছে সহজ কিন্তু অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি আমল, যা পালন করতে সময় লাগে মাত্র এক মিনিট।
১৮ জুন ২০২৬

পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ শুধু জীবদ্দশায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং তাদের মৃত্যুর পরও এই দায়িত্ব অব্যাহত রাখার নির্দেশনা এসেছে হাদিসে।
১ জুন ২০২৬

মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে আনন্দের দিনগুলোর একটি ঈদুল আজহা। ত্যাগ, আনুগত্য ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের শিক্ষা নিয়ে প্রতি বছর জিলহজ মাসের ১০ তারিখে আসে কোরবানির এই ঈদ। এই দিনটিকে ঘিরে মুসলমানদের মধ্যে থাকে বিশেষ প্রস্তুতি, আর দিনের শুরু হয় ঈদের নামাজের মাধ্যমে।
২৭ মে ২০২৬

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর মুসলমানদের মধ্যে কুরবানি নিয়ে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা দেখা যায়। বিশেষ করে যৌথ পরিবারে বসবাসকারীদের মধ্যে একটি প্রচলিত ধারণা হলো, পরিবারের একজন সদস্য, বিশেষ করে পরিবারের প্রধান ব্যক্তি কুরবানি দিলেই পুরো পরিবারের পক্ষ থেকে দায়িত্ব আদায় হয়ে যায়। কিন্তু ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি ভিন্ন।
২২ মে ২০২৬

প্রত্যেক প্রাণীকেই একদিন এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী ছেড়ে চিরস্থায়ী জীবনের পথে যাত্রা করতে হবে এটাই মানবজীবনের চিরন্তন বাস্তবতা। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন: প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। আর কিয়ামতের দিন তোমাদের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে। যে ব্যক্তি জাহান্নাম থেকে রক্ষা পেয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে, সেই-ই প্রকৃত সফল। আর পার্থিব জীবন শুধুই ছলনার বস্তু।
২ মে ২০২৬

ঈদুল ফিতরের আনন্দ-উৎসব শেষ না হতেই মুসলিম বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহার প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে শুরু হয়েছে আগাম আলোচনা ও অপেক্ষা। এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ আরব আমিরাত ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছে, যার ভিত্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য তারিখ নিয়েও ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।
২১ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু। মধ্যপ্রাচ্যের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এই প্রণালী দিয়েই বিশ্ববাজারে প্রবেশ করে।
১৯ এপ্রিল ২০২৬