
সিনিয়ার রিপোর্টার

নেপালে আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের ভয়াবহ স্রোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর বাংলাদেশের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার। তাঁর মতে, নেপালে যে ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, বাংলাদেশেও হুবহু একই ঘটনা ঘটবে—এমনটি বলার সুযোগ নেই। তবে দেশের পাহাড়ি এলাকায় পানি জমে থাকা, বাঁধের উপস্থিতি, ভূমিকম্পের ঝুঁকি এবং দীর্ঘদিনের পুরোনো বাঁধের কাঠামোগত দুর্বলতা থেকে হঠাৎ বিপুল পানির প্রবাহ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞের মতে, নেপালের সাম্প্রতিক আকস্মিক বন্যার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। উজানে অস্বাভাবিক বা অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত এর একটি সম্ভাব্য কারণ। তবে এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে ওই মাত্রার অতিবৃষ্টির কোনো রেকর্ড পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এর বাইরে হিমবাহের হ্রদে অতিরিক্ত পানি জমে গিয়ে চাপ বেড়ে যাওয়াকেও সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখছেন অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়ার কারণে পাহাড়ি অঞ্চলে হিমবাহ-নির্ভর হ্রদগুলোতে পানির পরিমাণ বাড়ছে। ফলে ভবিষ্যতে আকস্মিক পানির প্রবাহ বা বন্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
বাঁধ ভেঙে গেলে বাড়তে পারে ধ্বংসের মাত্রা
পাহাড়ি নদীগুলোতে নির্মিত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বাঁধও এ ধরনের বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার। কোনো বাঁধ যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না করা হলে দীর্ঘমেয়াদে সেটির কাঠামোগত দুর্বলতা তৈরি হতে পারে।
পানির চাপ স্বাভাবিক সীমার বাইরে চলে গেলে দুর্বল বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা ভেঙে যেতে পারে। তখন শুধু পানি নয়, তার সঙ্গে বিপুল পরিমাণ কাদা, পাথর ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষও নিচের দিকে নেমে আসতে পারে। এতে পানির স্রোতের গতি ও ধ্বংসক্ষমতা কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এ কারণেই নেপালের সাম্প্রতিক ঘটনা শুধু একটি দেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে না দেখে পাহাড়ি অঞ্চল ও বাঁধনির্ভর এলাকাগুলোর সম্ভাব্য ঝুঁকি মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশ কি এমন ঝুঁকির বাইরে?
বাংলাদেশে নেপালের মতো একই ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা নেই—এমনটা নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না। তবে বাংলাদেশের ভৌগোলিক বাস্তবতা নেপালের তুলনায় ভিন্ন হওয়ায় ঝুঁকির ধরনও ভিন্ন হতে পারে বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার।
বিশেষ করে সিলেট থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। তাঁর মতে, ওই অঞ্চলে ৮ দশমিক ২ থেকে ৯ মাত্রার ভূমিকম্প সৃষ্টি করার মতো শক্তি জমা হয়ে আছে। ফলে বড় ধরনের ভূমিকম্পের সম্ভাবনাকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।
আর বড় মাত্রার কোনো ভূমিকম্প যদি পাহাড়ি অঞ্চলে ঘটে এবং একই সময়ে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
কাপ্তাই বাঁধ নিয়ে কেন উদ্বেগ?
বাংলাদেশের সম্ভাব্য ঝুঁকির জায়গাগুলোর মধ্যে কাপ্তাই লেক ও কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বাঁধকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার।
বড় ধরনের ভূমিকম্পের ধাক্কায় বাঁধের কোনো দুর্বল অংশ ক্ষতিগ্রস্ত বা ভেঙে গেলে কাপ্তাই লেকে জমে থাকা বিপুল পরিমাণ পানি খুব অল্প সময়ের মধ্যে নিচের দিকে নেমে আসতে পারে। এর ফলে তীব্র স্রোত তৈরি হয়ে কাপ্তাই শহর ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষ করে বর্ষাকালে ভূমিকম্প হলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে। কারণ বর্ষার সময় কাপ্তাই লেকে পানির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। সে সময় বাঁধের কোনো অংশ ভেঙে গেলে বিপুল পানি একসঙ্গে বেরিয়ে এসে ভয়াবহ পানির প্রবাহ তৈরি করতে পারে।
অধ্যাপক হুমায়ুন আখতারের মতে, এ কারণেই নেপালে দেখা দেওয়া আকস্মিক পানির প্রবাহের মতো পরিস্থিতি বাংলাদেশেও অন্য একটি প্রেক্ষাপটে তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
১৯৬২ সালে চালু হওয়া কাপ্তাই বাঁধের সক্ষমতা যাচাইয়ের তাগিদ
কাপ্তাই বাঁধ চালু হয় ১৯৬২ সালে। অর্থাৎ দীর্ঘ সময় ধরে এই বাঁধ ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এত বছর ধরে ব্যবহারের কারণে এর বর্তমান কাঠামোগত সক্ষমতা কেমন, তা নিয়মিত বৈজ্ঞানিকভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার।
তাঁর মতে, বাঁধের কোথাও ফাটল সৃষ্টি হয়েছে কি না, কোনো অংশ দুর্বল হয়ে পড়েছে কি না কিংবা দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে কাঠামোর সক্ষমতায় কোনো পরিবর্তন এসেছে কি না—এসব বিষয় নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি।
শুধু চোখে দেখে পরিদর্শন করলেই হবে না। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বাঁধের বর্তমান সক্ষমতা নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে লেকের পানির চাপ কতটা এবং সেই চাপ বাঁধের বিভিন্ন অংশের ওপর কীভাবে প্রভাব ফেলছে, সেটিও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও পরিমাপের আওতায় আনা প্রয়োজন।
পুরোনো বাঁধে নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান
বিশেষজ্ঞের মতে, নেপালের সাম্প্রতিক ভয়াবহ ঘটনাকে বাংলাদেশের জন্য সরাসরি একই ধরনের দুর্যোগের পূর্বাভাস হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ দুই দেশের ভূপ্রকৃতি, নদী ব্যবস্থা ও প্রাকৃতিক পরিবেশ এক নয়। নেপালে যে কারণে বিপর্যয় ঘটেছে, বাংলাদেশেও ঠিক একই কারণে এমন ঘটনা ঘটবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।
তবে পাহাড়ি এলাকায় বিপুল পরিমাণ পানি জমে থাকা, বাঁধের উপস্থিতি, ভূমিকম্পের সম্ভাবনা এবং কোনো বাঁধের কাঠামোগত দুর্বলতা—এই কয়েকটি বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করলে হঠাৎ বড় আকারের পানির প্রবাহের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
তাই সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার। তাঁর পরামর্শ, পুরোনো বাঁধগুলোর নিয়মিত পরিদর্শনের পাশাপাশি কাঠামোগত পরীক্ষা ও ঝুঁকি মূল্যায়ন আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
নেপালের সাম্প্রতিক বিপর্যয় তাই বাংলাদেশের জন্য সরাসরি আতঙ্কের কারণ না হলেও ভবিষ্যৎ ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে কাপ্তাই বাঁধের মতো দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সক্ষমতা নিয়মিত পরীক্ষা করে সম্ভাব্য দুর্যোগের আগেই দুর্বলতা শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন এই বিশেষজ্ঞ।

২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। নতুন তালিকা অনুযায়ী, আগামী বছর সরকারি চাকরিজীবীরা সাধারণ ছুটি ও নির্বাহী আদেশের ছুটি মিলিয়ে মোট ২৯ দিন ছুটি ভোগ করবেন। এর মধ্যে ১৫ দিন সাধারণ ছুটি এবং ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে।
১০ ঘণ্টা আগে

বেসরকারি কোম্পানির এলপিজির দামের কাছাকাছি আনতে সরকারি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম দ্বিগুণের বেশি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) পক্ষ থেকে যেকোনো সময় এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে। প্রস্তাবিত মূল্য অনুযায়ী, সরকারি কোম্পানির ১২ দশমিক ৫ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম বর্তমান ৭৭৬ টাকা ৯৩ পয়সা থেকে বেড়ে প্রায় ১ হাজার ৯০০ টাকা হতে পারে।
১১ ঘণ্টা আগে

দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বা রান্নার গ্যাসের দাম। এবার ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। সোমবার (২ নভেম্বর) ঘোষণা করা নতুন দাম আজ রাত ৮টার পর থেকে কার্যকর হবে।
১২ ঘণ্টা আগে

২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হচ্ছে আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১১টায়। ফল প্রকাশের পর পরীক্ষার্থীরা ঘরে বসেই মোবাইল ফোন বা কম্পিউটার থেকে নিজেদের ফলাফল দেখতে পারবেন। একই সঙ্গে অনলাইনে প্রকাশিত বিস্তারিত ফলপত্র বা মার্কশিটও সংগ্রহ করা যাবে।
২ দিন আগে

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হচ্ছে আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর)। সকাল ১১টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করা হবে। ফল প্রকাশের পর পরীক্ষার্থীরা ঘরে বসেই মোবাইল বা কম্পিউটারে অনলাইনে, মোবাইলের এসএমএসের মাধ্যমে কিংবা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ফল জানতে পারবেন।
২ দিন আগে

দেশের বাজারে আবারও কমেছে স্বর্ণের দাম। এবার ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৯২ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। একই সঙ্গে ২১ ও ১৮ ক্যারেট এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দামও কমানো হয়েছে। স্বর্ণের পাশাপাশি কমেছে রুপার দামও।
২ দিন আগে

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাসের হার নিয়ে একটি ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। ‘এইচএসসি পরীক্ষার পাসের হার ৫৩.২৩ শতাংশ’—এমন দাবি করে ফেসবুকের বিভিন্ন পেজ, গ্রুপ ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট ও ফটোকার্ড প্রকাশ করা হচ্ছে। তবে ফল প্রকাশের আগে পাসের হার জানার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
২ দিন আগে

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রকাশ করা হয়েছে নবম জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর গেজেট। নতুন বেতন কাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বনিম্ন মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। ২০১৫ সালের বেতন কাঠামোর তুলনায় সর্বনিম্ন গ্রেডে মূল বেতন বেড়েছে ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডে ১০০ শতাংশ।
২ দিন আগে

অবশেষে প্রকাশ হচ্ছে ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল। আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করা হবে। ফলাফল কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
২ দিন আগে