
রিপোর্টার

দিনভর ব্যস্ততা, কর্মজীবনের চাপ আর নানা দুশ্চিন্তার পর রাতের ঘুমই হয়ে ওঠে মানুষের সবচেয়ে বড় প্রশান্তির সময়। কিন্তু অনেকেই ঘুমানোর আগে সময় কাটান মোবাইল ফোনে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিংবা অপ্রয়োজনীয় কাজে। অথচ ইসলাম একজন মুমিনের জন্য ঘুমানোর আগেও রেখে দিয়েছে সহজ কিন্তু অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি আমল, যা পালন করতে সময় লাগে মাত্র এক মিনিট।
রাসুলুল্লাহ (সা.) উম্মতের জন্য এমন একটি আমলের শিক্ষা দিয়েছেন, যা একজন মুসলমানকে আল্লাহর রহমত, হেফাজত ও বরকত লাভের আশা জাগায়। এই আমল হলো—প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে সুরা আল-বাকারার শেষ দুই আয়াত তিলাওয়াত করা।
হজরত আবু মাসউদ আল-আনসারী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
مَنْ قَرَأَ بِالْآيَتَيْنِ مِنْ آخِرِ سُورَةِ الْبَقَرَةِ فِي لَيْلَةٍ كَفَتَاهُ
অর্থ: “যে ব্যক্তি রাতে সুরা আল-বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠ করবে, তার জন্য এটিই যথেষ্ট হবে।”
(সহিহ বুখারি: ৫০০৯, সহিহ মুসলিম: ৮০৮)
পবিত্র কোরআনের সুরা আল-বাকারার ২৮৪, ২৮৫ ও ২৮৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা তাঁর অসীম ক্ষমতা, বান্দার প্রতি দয়া, ঈমানের মৌলিক শিক্ষা এবং মুমিনদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন। বিশেষ করে শেষ দুই আয়াতে রয়েছে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য, ক্ষমা প্রার্থনা, রহমতের আবেদন এবং জীবনের কঠিন পরিস্থিতিতে আল্লাহর সাহায্য কামনার শিক্ষা।
ইসলামি শিক্ষায় এই দুই আয়াতের তিলাওয়াতকে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। হাদিসের আলোকে এই আমলের মাধ্যমে একজন মুমিন আল্লাহর বিশেষ হেফাজতের আশা করতে পারেন। পাশাপাশি শয়তানের কুমন্ত্রণা ও অনিষ্ট থেকে নিরাপত্তা লাভ, রাতের ইবাদতের সওয়াব অর্জন, অন্তরে প্রশান্তি ও ঈমানের দৃঢ়তা বৃদ্ধি এবং আল্লাহর ক্ষমা, রহমত ও বরকত লাভের প্রত্যাশা করা যায়।
এই আমল পালন করা অত্যন্ত সহজ। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে অজু অবস্থায় অথবা পবিত্র অবস্থায় সুরা আল-বাকারার শেষ দুই আয়াত—২৮৫ ও ২৮৬—তিলাওয়াত করুন। শুধু মুখস্থ পড়াই নয়, আয়াতগুলোর অর্থ বুঝে, আন্তরিকতার সঙ্গে এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রেখে তিলাওয়াত করার চেষ্টা করুন। নিয়মিত এই আমল একজন মুসলমানের রাতকে আরও বরকতময় ও প্রশান্তিময় করে তুলতে পারে।
তবে মনে রাখতে হবে, এই ফজিলতগুলো সহিহ হাদিসে বর্ণিত আমলের ভিত্তিতে আশা করা হয়। একজন মুমিনের কর্তব্য হলো আন্তরিকতা, ঈমান ও আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে এই আমল নিয়মিত পালন করা।

নামাজের সময় আগে থেকে জানা থাকলে ইবাদতের প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হয়। আগামীকাল শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ঢাকার সময় অনুযায়ী ফযরের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৪টা ৩৩ মিনিটে। এই ওয়াক্ত শেষ হবে সূর্যোদয়ের সঙ্গে। তাই ফযরের নামাজ সূর্য ওঠার আগেই আদায় করতে হবে।
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২০২৭ সালের পবিত্র হজ পালনের জন্য প্রাথমিক নিবন্ধনের সময় শেষ হচ্ছে আগামী বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর)। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হজে যেতে ইচ্ছুকদের প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সময়সীমা আর বাড়ানো হবে না।
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মুসলমানদের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। প্রতিদিনের ব্যস্ততার মধ্যেও নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় করতে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা দিনের শুরুতেই ফজরসহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি জানতে চান। আজ বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ফজর, জোহর, আসর, মাগরিব ও এশার নামাজের সময় নিয়ে তাই আগ্রহ রয়েছে অনেকের।
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দাম্পত্য জীবনে নানা কারণে টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন বিরোধ চলতে থাকলে এবং পারস্পরিকভাবে তা সমাধানের কোনো পথ খুঁজে পাওয়া না গেলে ইসলামে বিবাহবিচ্ছেদের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে বিচ্ছেদকে সহজ বা প্রথম সমাধান হিসেবে গ্রহণ না করে সম্ভব হলে দাম্পত্য সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য উদ্যোগ নেওয়ার প্রতি কোরআন ও হাদিসে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইমানের পর ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো সালাত বা নামাজ। নামাজ ইসলামের প্রাণ এবং একজন মুমিনের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ আদায়ের পাশাপাশি ইসলামী শরিয়তে বিভিন্ন নফল নামাজ আদায়েরও বিধান রয়েছে।
৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মুসলমানদের কাছে জুমার দিন সপ্তাহের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ দিন। এ দিনকে ঘিরে রয়েছে বিশেষ কিছু ইবাদত ও আমল। এর মধ্যে অন্যতম হলো বেশি বেশি দোয়া করা। হাদিসে জুমার দিনের এমন একটি বিশেষ সময়ের কথা বর্ণিত হয়েছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কল্যাণকর কিছু চাইলে আল্লাহ তাকে তা দান করেন। তবে সেই বিশেষ সময়টি দিনের ঠিক কোন অংশ—এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে একাধিক মত রয়েছে।
২৮ আগস্ট ২০২৬

ইমানের পর একজন মুমিনের জন্য ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ আমল হলো নামাজ। একজন মুমিন ও কাফেরের মধ্যে বড় পার্থক্যগুলোর একটি হলো নামাজ। নিয়মিত নামাজ মানুষকে দুনিয়ার বিভিন্ন খারাপ ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
২১ আগস্ট ২০২৬

চলতি বছরটি শেষ হওয়ার আগেই আগামী ২০২৭ সালের (১৪৪৮ হিজরি) পবিত্র রমজান মাস এবং ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে মুসলিম বিশ্বের পাশাপাশি দেশের সাধারণ মানুষের মাঝেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল ও আগ্রহ। মধ্যপ্রাচ্যের জ্যোতির্বিজ্ঞান ভিত্তিক গবেষণা এবং প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৭ সালে পবিত্র রমজান মাস শুরুর সম্ভাব্য তারিখ এবং দুই ঈদের মূল কাঠামো কেমন হতে পারে, সে বিষয়ে একটি প্রাথমিক ধারণা পাওয়া গেছে।
৩০ জুলাই ২০২৬

পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ শুধু জীবদ্দশায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং তাদের মৃত্যুর পরও এই দায়িত্ব অব্যাহত রাখার নির্দেশনা এসেছে হাদিসে।
১ জুন ২০২৬