-6.jpg)
সিনিয়র রিপোর্টার

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাইলস বা Hemorrhoids এমন একটি শারীরিক সমস্যা, যা অনেকেই লজ্জা বা সংকোচের কারণে গোপন রাখেন। অথচ এটি খুবই সাধারণ একটি অবস্থা। মলদ্বারের চারপাশের শিরাগুলো অতিরিক্ত চাপে ফুলে গেলে যে স্ফীতি ও অস্বস্তির সৃষ্টি হয়, তাকেই পাইলস বলা হয়। অনেকটা মলদ্বারের ‘ভ্যারিকোজ ভেইন’-এর মতো।
সময়মতো সচেতন না হলে এটি ব্যথা, রক্তপাত ও দৈনন্দিন জীবনে অস্বস্তির কারণ হতে পারে। তবে সুখবর হলো—প্রাথমিক পর্যায়ে সঠিক অভ্যাসে এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
পাইলসের ধরন: ভেতরে নাকি বাইরে?
অবস্থান অনুযায়ী পাইলস সাধারণত দুই ধরনের—
অভ্যন্তরীণ পাইলস (Internal Piles)
এটি মলদ্বারের ভেতরে থাকে। বাইরে থেকে দেখা যায় না। সাধারণত ব্যথা কম হলেও মলত্যাগের সময় উজ্জ্বল লাল রক্তপাত হতে পারে।
বহিঃস্থ পাইলস (External Piles)
মলদ্বারের বাইরের চামড়ার নিচে হয়। এতে চুলকানি, ফোলাভাব ও ব্যথা বেশি অনুভূত হয়। কখনও কখনও পিণ্ডের মতো অনুভূত হয়।
কেন হয় পাইলস?
জীবনযাত্রার কিছু ভুল অভ্যাসই এই সমস্যার বড় কারণ—
দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য: অতিরিক্ত চাপ দিয়ে মলত্যাগ করলে শিরায় চাপ পড়ে।
আঁশের ঘাটতি: ফলমূল ও শাকসবজি কম খেলে মল শক্ত হয়।
গর্ভাবস্থা: জরায়ুর চাপে মলদ্বারের শিরায় চাপ সৃষ্টি হয়।
স্থূলতা: অতিরিক্ত ওজন নিচের অংশে রক্তচাপ বাড়ায়।
দীর্ঘক্ষণ টয়লেটে বসে থাকা: বিশেষ করে মোবাইল ব্যবহার বা বই পড়ার অভ্যাস।
ভারী বস্তু তোলা: ভুল পদ্ধতিতে ভার উত্তোলন করলে ঝুঁকি বাড়ে।
লক্ষণগুলো কীভাবে বুঝবেন?
সব মলদ্বারের সমস্যা পাইলস নয়। সাধারণ লক্ষণগুলো হলো—
মলত্যাগের সময় ব্যথাহীন উজ্জ্বল লাল রক্তপাত
চুলকানি বা অস্বস্তি
চারপাশে ফোলাভাব বা পিণ্ড অনুভব
কখনও তীব্র, কখনও মৃদু ব্যথা
লক্ষণগুলো অবহেলা করলে জটিলতা বাড়তে পারে।
ঘরোয়া যত্নেই অনেকটা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব
প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু নিয়ম মেনে চললে অপারেশন ছাড়াই আরাম পাওয়া যায়—
আঁশযুক্ত খাবার
প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফলমূল, লাল চাল বা লাল আটা রাখুন। ইসুবগুলের ভুষি কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে কার্যকর।
পর্যাপ্ত পানি
প্রতিদিন অন্তত ৩–৪ লিটার পানি পান করুন, যাতে মল নরম থাকে।
সিৎজ বাথ (Sitz Bath)
কুসুম গরম পানিতে ১০–১৫ মিনিট নিতম্ব ডুবিয়ে বসলে রক্তসঞ্চালন বাড়ে, ব্যথা ও ফোলা কমে।
নিয়মিত ব্যায়াম
হাঁটাচলা করুন, তবে ভারী ওজন তোলা এড়িয়ে চলুন।
সময়মতো টয়লেট
বেগ চেপে রাখবেন না এবং অতিরিক্ত চাপ দেবেন না।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
নিচের পরিস্থিতিতে দেরি না করে কোলোরেক্টাল সার্জনের পরামর্শ নিন—
রক্তপাত বেশি হলে
মলের রং কালচে বা আলকাতরার মতো হলে
মাংসপিণ্ড বাইরে বেরিয়ে এসে ভেতরে না ঢুকলে (Protrusion)
তীব্র ব্যথায় দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হলে
আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি
বর্তমানে পাইলসের চিকিৎসা অনেক সহজ ও নিরাপদ—
ব্যান্ড লাইগেশন: রাবার ব্যান্ড দিয়ে রক্তপ্রবাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
স্ক্লেরোথেরাপি: ইনজেকশনের মাধ্যমে শিরা সংকুচিত করা হয়।
লেজার সার্জারি: কাটাছেঁড়া ছাড়াই দ্রুত আরোগ্য লাভ সম্ভব।
অপারেশনের প্রয়োজন সবসময় হয় না—অবস্থার ওপর নির্ভর করে চিকিৎসা নির্ধারণ করা হয়।
ভুল চিকিৎসা থেকে সাবধান
হাতুড়ে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে এসিড বা ক্ষতিকর রাসায়নিক দিয়ে পাইলস ‘পুড়িয়ে’ ফেলার চেষ্টা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এতে মলদ্বার স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসাই একমাত্র নিরাপদ সমাধান।
পাইলস কোনো অভিশাপ নয়—এটি শরীরের একটি সতর্কবার্তা। খাদ্যাভ্যাসে পর্যাপ্ত আঁশ, প্রচুর পানি এবং নিয়মিত ব্যায়াম আপনাকে এই যন্ত্রণাদায়ক সমস্যা থেকে দূরে রাখতে পারে।
লজ্জা নয়, সচেতনতা ও সঠিক চিকিৎসাই হোক আপনার সুরক্ষা।

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান শক্তি। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সমৃদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই প্রবাসীদের সুবিধার জন্য বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশের টাকার সর্বশেষ বিনিময় হার প্রতিদিন জানানো হয়ে থাকে।
৬ দিন আগে

নিজস্ব প্রতিবেদক: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সংঘাত এখন ষষ্ঠ দিনে পৌঁছেছে। এই কয়েক দিনে ইরান, লেবানন, ইরাকসহ বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন নতুন সামরিক ঘটনার খবর সামনে আসছে। কোথাও ড্রোন ভূপাতিতের দাবি, কোথাও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, আবার কোথাও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে।
৬ মার্চ ২০২৬

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-এর মৃত্যু নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করতে সামনে এসেছে একাধিক ফ্যাক্ট-চেক সংস্থা। ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় তার মৃত্যুর খবর রাষ্ট্রীয়ভাবে নিশ্চিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্ন সুরে একটি দাবি ভাইরাল হয়। সেখানে বলা হয়, তিনি নাকি জীবিত আছেন এবং সাহারা মরুভূমিতে আত্মগোপনে রয়েছেন।
৪ মার্চ ২০২৬

সুস্থ জীবনধারা বজায় রাখা কোনো জটিল বিষয় নয়। বড় ধরনের পরিবর্তনের বদলে ছোট ছোট অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে আমাদের শরীর ও মনকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আধুনিক জীবনের ব্যস্ততায় অনেকেই নিজেদের স্বাস্থ্যকে অবহেলা করেন, অথচ প্রতিদিনের কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললেই দৈনন্দিন জীবন অনেক সহজ ও স্বাস্থ্যসম্মত হয়ে ওঠে।
২ মার্চ ২০২৬

লিভারের অসুখ অনেক সময় নীরবে শরীরে বাসা বাঁধে। অনেকেই মনে করেন জন্ডিস বা পেটের সমস্যা হলেই বুঝি লিভার খারাপ। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। লিভারের কার্যক্ষমতা কমতে শুরু করলে তার ছাপ প্রথমেই পড়তে পারে ত্বকে। ফ্যাটি লিভার থেকে শুরু করে সিরোসিস— গুরুতর অসুখের ইঙ্গিত মিলতে পারে ত্বকের অস্বাভাবিক কিছু পরিবর্তনে।
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ইউরিন ইনফেকশন বা প্রস্রাবের সংক্রমণ বর্তমানে অত্যন্ত পরিচিত একটি স্বাস্থ্যসমস্যা। নারী-পুরুষ উভয়ের মধ্যেই এটি দেখা যায়, তবে নারীদের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। সময়মতো শনাক্ত করে চিকিৎসা নিলে এবং কিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এ রোগ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ডা. তানজীর ইসলাম অদ্বিত, যিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ-এর মেডিসিন বিশেষজ্ঞ। তার মতে, সচেতনতা ও দ্রুত চিকিৎসাই ইউরিন ইনফেকশন মোকাবিলার প্রধান চাবিকাঠি। ইউরিন ইনফেকশন কী? মানবদেহে কিডনি রক্ত পরিশোধন করে বর্জ্য ...
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

যৌনতা নিয়ে আমাদের সমাজে এখনও অনেক সংকোচ, ভুল ধারণা ও অর্ধসত্য প্রচলিত। অথচ যৌন স্বাস্থ্য মানে কেবল যৌন মিলন নয় এটি শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক সুস্থতার সমন্বিত প্রতিফলন। World Health Organization (WHO)-এর মতে, প্রত্যেক মানুষের নিরাপদ, সম্মানজনক ও আনন্দদায়ক যৌন জীবন উপভোগ করার অধিকার রয়েছে। তবু নানা শারীরিক জটিলতা, মানসিক চাপ ও সম্পর্কগত সমস্যার কারণে এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বাধা তৈরি হতে পারে। বিষয়টি লজ্জার নয় বরং সচেতনতার। কোন কোন যৌন সমস্যা ...
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে কিডনি রোগ একটি ক্রমবর্ধমান কিন্তু নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকি। ২০২২ সালের এক সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশে প্রতি ১০০ জনে প্রায় ৮ থেকে ১০ জন কিডনি সমস্যায় ভুগছেন—অথচ অধিকাংশই তা জানেন না। আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বিশ্বে প্রতি ১০০ জনের মধ্যে প্রায় ২৩ জনের কোনো না কোনো ধরনের কিডনি জটিলতা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিডনি রোগের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—এটি দীর্ঘদিন কোনো স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই অগ্রসর হয়। কেন এত বিপজ্জনক?; মানবদেহে দুটি কিডনি রয়েছে। সাধারণত ...
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, সমুদ্র, নদী কিংবা ছোট্ট কোনো পুকুরের ধারে সময় কাটালে আমাদের শরীরে স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা দ্রুত কমতে শুরু করে। পানির ঢেউয়ের ছন্দময় শব্দ আমাদের স্নায়ুতন্ত্রে এক ধরনের প্রশান্ত সিগন্যাল পাঠায়। এই শব্দ ও দৃশ্য একসঙ্গে কাজ করে হৃদস্পন্দনকে স্থিতিশীল রাখে এবং মস্তিষ্ককে ‘ফাইট অর ফ্লাইট’ অবস্থা থেকে বের করে আনে। ফলে অকারণ উদ্বেগ বা মানসিক চাপ কমে আসে স্বাভাবিকভাবেই। গবেষণার চমকপ্রদ তথ্য গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত পানির ধারে সময় কাটান—তাদের মধ্যে ...
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬