ঢাকা, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২

হাসান

রিপোর্টার

দেশের সবচেয়ে বড় চাকরির পরীক্ষা শুরু, প্রশ্নফাঁস গুঞ্জনে উত্তাপ

জাতীয় ডেস্ক . ২৪ নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৯ ১৫:১৪:২১
দেশের সবচেয়ে বড় চাকরির পরীক্ষা শুরু, প্রশ্নফাঁস গুঞ্জনে উত্তাপ

হাসান: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা শুরু হয়েছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেল ৩টা থেকে দেশের ৬১ জেলায় একযোগে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে অংশ নিচ্ছেন ১০ লাখ ৮০ হাজারেরও বেশি চাকরিপ্রার্থী। প্রার্থী ও পদের সংখ্যার বিচারে এটিই দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সরকারি চাকরির পরীক্ষা।

কঠোর নিরাপত্তা, ১৪৪ ধারা ও সর্বোচ্চ নজরদারি

নিয়োগ পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত রাখতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। পরীক্ষাকেন্দ্রের আশপাশে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। একসঙ্গে পাঁচজনের বেশি চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রশ্নফাঁস বা ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের চেষ্টা ঠেকাতে মাঠে রয়েছে প্রশাসনের একাধিক স্তরের নজরদারি। দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ, র‌্যাব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।

প্রশ্নফাঁস চক্র সক্রিয়, আটক হলেও দাবি ভিন্ন

এতসব সতর্কতার মধ্যেও নিয়োগ পরীক্ষা ঘিরে প্রশ্নফাঁস চক্র সক্রিয় হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এরই মধ্যে রংপুরসহ কয়েকটি জেলা থেকে বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের দাবি, তারা প্রশ্নফাঁসে নয়, বরং ডিভাইস ব্যবহারের চেষ্টা করছিলেন।

সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘হিসাব সহকারী’ পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। সে কারণে পরীক্ষা শুরুর মাত্র এক ঘণ্টা আগে নোটিশ দিয়ে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকদিন ধরে নানা তথ্য ও গুজব ছড়িয়ে পড়ে।

সন্দেহ-সংশয়, তড়িঘড়ি পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ

চাকরিপ্রার্থী ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগই সবচেয়ে বড়। এবারও ১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার কথা রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে এই পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে—এমন ধারণা থেকে প্রার্থীদের মধ্যে সন্দেহ ও সংশয় বাড়ছে।

তাদের অভিযোগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উচ্চপর্যায়ে সামনে বড় রদবদল আসতে পারে। সে কারণেই দ্রুত লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা শেষ করে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে চায় অধিদপ্তর। এতে নিয়োগে প্রভাব ও অনিয়মের আশঙ্কা করছেন অনেকে।

অধিদপ্তরের ব্যাখ্যা: প্রশ্নফাঁসের সুযোগ নেই

তবে প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে সাফ দাবি করেছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশন্স বিভাগের পরিচালক এ কে মোহম্মদ সামছুল আহসান।

তিনি জাগো নিউজকে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অপতথ্য ও ভিত্তিহীন খবর একটি প্রতারক চক্রের কাজ। তারা পরীক্ষা ভণ্ডুল করতে চেয়েছিল। কেউ কেউ চেয়েছেন পরীক্ষা পেছাতে, যাতে তাদের ব্যক্তিগত লাভ হয়। এর সঙ্গে চাকরির কোচিং ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্টরাও জড়িত।

তিনি আরও বলেন, দ্রুত পরীক্ষা নেওয়ার পেছনে যৌক্তিক কারণ রয়েছে। বর্তমানে দেশের বহু বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট রয়েছে। প্রায় ৪০ হাজার সহকারী শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত হিসেবে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের পদোন্নতি হলে আরও ৪০ হাজার সহকারী শিক্ষক পদ শূন্য হবে। এই সংকট মোকাবিলায় দ্রুত নিয়োগ জরুরি। শতভাগ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

সংখ্যা বলছে তীব্র প্রতিযোগিতা

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দুই ধাপ মিলিয়ে মোট ১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮০টি। অর্থাৎ, গড়ে প্রতিটি পদের জন্য লড়াই করছেন প্রায় ৭৫ জন প্রার্থী।

প্রথম ধাপে রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১০ হাজার ২১৯টি পদের বিপরীতে আবেদন পড়েছে ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯২৯টি। দ্বিতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে ৪ হাজার ১৬৬টি পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে ৩ লাখ ৩৪ হাজার ১৫১টি।

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ