ঢাকা, বুধবার, ৭ জানুয়ারি ২০২৬, ২৩ পৌষ ১৪৩২

রাকিব

সিনিয়র রিপোর্টার

অবশেষে হাদিকে হ’ত্যার নির্দেশদাতার নাম প্রকাশ-জানা গেল হ’ত্যার কারণ

জাতীয় ডেস্ক . ২৪ নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৬ ১৭:৫০:৪৫
অবশেষে হাদিকে হ’ত্যার নির্দেশদাতার নাম প্রকাশ-জানা গেল হ’ত্যার কারণ

রাকিব:মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডটি ছিল সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল মন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে মামলার তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ডিবির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সরাসরি রাজনৈতিক নির্দেশনায় তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

ডিবির তদন্ত অনুযায়ী, মিরপুর এলাকার ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পির নির্দেশেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম।

ডিবির সংবাদ সম্মেলনে চাঞ্চল্যকর তথ্য

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওসমান হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন ডিবির এই শীর্ষ কর্মকর্তা।

সংবাদ সম্মেলনে মো. শফিকুল ইসলাম জানান, শরিফ ওসমান হাদি সমসাময়িক রাজনৈতিক অঙ্গনে একজন পরিচিত ও আলোচিত মুখ ছিলেন। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে তিনি ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক বক্তব্য ও আন্দোলনের সূচনা করেন। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে তিনি নিয়মিত সভা-সমাবেশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব ও কঠোর সমালোচনামূলক বক্তব্য দিতেন।

ডিবির ভাষ্য অনুযায়ী, এসব বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনের একাংশ। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের চরিত্ররা

ডিবি জানায়, শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করা ফয়সাল করিম মাসুদ নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর তাকে পালাতে সহায়তা করেন আলমগীর শেখ এবং পুরো পালানোর পরিকল্পনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখেন যুবলীগ নেতা তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি।

বাপ্পি ছিলেন পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ মনোনীত কাউন্সিলর। রাজনৈতিক পরিচয়, আসামিদের পারস্পরিক যোগাযোগ এবং ভুক্তভোগীর পূর্ববর্তী রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা নিশ্চিত হন ই হত্যাকাণ্ডের পেছনে সরাসরি রাজনৈতিক প্রতিহিংসাই মূল কারণ।

শক্ত প্রমাণের ভিত্তিতে ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

ডিবি আরও জানায়, মামলার তদন্তে গ্রেপ্তার আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় রেকর্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি-

ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ

উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গুলির ফরেনসিক রিপোর্ট

মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ফরেনসিক বিশ্লেষণ

এসব তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে আসামিদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হওয়ায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়েছে। তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে ভবিষ্যতে সম্পূরক চার্জশিট দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন ডিবি প্রধান।

পলাতক আসামি ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ

ভারতে পলাতক আসামিদের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, আদালতে চার্জ গঠন সম্পন্ন হওয়ার পর আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যা সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো পরিচালনা করবে।

মূল আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের ভিডিও বার্তা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ভিডিওটি সত্য হলেও সেখানে উল্লেখিত অবস্থান বিভ্রান্তিকর। তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ফয়সাল বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছে, দুবাইয়ে নয়।

গ্রেপ্তার ও পলাতক তালিকা

এ পর্যন্ত এই মামলায় ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখনও ৫ জন আসামি পলাতক রয়েছে। তারা হলেন-

ফয়সাল করিম মাসুদ (গুলিবর্ষণকারী)

আলমগীর শেখ (মোটরসাইকেলচালক)

ফিলিফ স্নাল (পলায়নে সহায়তাকারী মানবপাচারকারী)

তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি (হত্যার নির্দেশদাতা)

জেসমিন (ফয়সালের বোন)

ডিবি জানিয়েছে, পলাতকদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ