
নিজস্ব প্রতিবেদন: এই প্রশ্নটি অনেকের মনে আসে, বিশেষ করে যখন জীবন কঠিন সময়ে পড়ে। ইসলাম এ বিষয়ে ভারসাম্যপূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়েছে। নিচে সহজভাবে তা তুলে ধরা হলো:
১. তাকদীর কী?ইসলামী দৃষ্টিতে তাকদীর হলো আল্লাহর পূর্বজ্ঞান ও পরিকল্পনা, যার ভিত্তিতে সৃষ্টিজগতে সব কিছু ঘটে। আল্লাহ জানেন কে কোথায় জন্মাবে, কী করবে, কখন মারা যাবে—সবই তিনি জানেন এবং লিপিবদ্ধ আছে।
২. ভাগ্য কি পরিবর্তনযোগ্য?ইসলামে তাকদীর দুই ধরনের হয়:
ক. মুবারাম তাকদীর (পরিবর্তন অযোগ্য):এটি আল্লাহর চূড়ান্ত ও স্থায়ী সিদ্ধান্ত। যেমন: মৃত্যুর সময়, জন্মস্থান, কেউ পুরুষ হবে না নারী—এইসব পরিবর্তন হয় না।
খ. মুয়াল্লাক তাকদীর (পরিবর্তনশীল বা শর্তসাপেক্ষ):এ ধরনের তাকদীর আল্লাহ দোয়া, সদকা বা ভালো কাজের মাধ্যমে বদলে দেন। উদাহরণ: কেউ দোয়া করলে বিপদ দূর হতে পারে, সদকা দিলে আজাব রুখে যায়।
৩. হাদীসের আলোকে:রাসূল (সা.) বলেছেন, “দোয়া তাকদীরকে পরিবর্তন করে।”আরেক হাদীসে বলা হয়েছে, “সদকা দিয়ে আজাব রোধ করা যায়।”এগুলো থেকে বোঝা যায়, মানুষের দোয়া, আমল, ভালোবাসা—এসব তাকদীরের নির্ধারিত কিছু বিষয় বদলাতে পারে।
৪. আমাদের করণীয় কী?ইসলামে শুধু তাকদীরের উপর বসে না থেকে চেষ্টা করতে, কাজ করতে এবং দোয়া করতে বলা হয়েছে। তাই:
* চেষ্টা করতে হবে
* দোয়া করতে হবে
* আমল বাড়াতে হবে
* আল্লাহর উপর ভরসা রাখতে হবে
৫. কিছু বাস্তব উদাহরণ:
* সদকা দিলে বিপদ দূর হতে পারে
* দোয়া করলে রোগ মুক্তি পেতে পারে
* নেক আমল করলে বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়
* তাওবা করলে গুনাহ মাফ হয়
তাকদীরের একাংশ চূড়ান্ত ও অপরিবর্তনযোগ্য, তবে অনেক কিছু আল্লাহ মানুষের দোয়া ও আমলের মাধ্যমে পরিবর্তন করে দেন। এজন্য দোয়া ও সদকার মাধ্যমে রহমত পাওয়ার পথ উন্মুক্ত থাকে।
সোহাগ/

দাম্পত্য জীবনে নানা কারণে টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন বিরোধ চলতে থাকলে এবং পারস্পরিকভাবে তা সমাধানের কোনো পথ খুঁজে পাওয়া না গেলে ইসলামে বিবাহবিচ্ছেদের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে বিচ্ছেদকে সহজ বা প্রথম সমাধান হিসেবে গ্রহণ না করে সম্ভব হলে দাম্পত্য সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য উদ্যোগ নেওয়ার প্রতি কোরআন ও হাদিসে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
১ দিন আগে

ইমানের পর ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো সালাত বা নামাজ। নামাজ ইসলামের প্রাণ এবং একজন মুমিনের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ আদায়ের পাশাপাশি ইসলামী শরিয়তে বিভিন্ন নফল নামাজ আদায়েরও বিধান রয়েছে।
৩ দিন আগে

মুসলমানদের কাছে জুমার দিন সপ্তাহের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ দিন। এ দিনকে ঘিরে রয়েছে বিশেষ কিছু ইবাদত ও আমল। এর মধ্যে অন্যতম হলো বেশি বেশি দোয়া করা। হাদিসে জুমার দিনের এমন একটি বিশেষ সময়ের কথা বর্ণিত হয়েছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কল্যাণকর কিছু চাইলে আল্লাহ তাকে তা দান করেন। তবে সেই বিশেষ সময়টি দিনের ঠিক কোন অংশ—এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে একাধিক মত রয়েছে।
২৮ আগস্ট ২০২৬

ইমানের পর একজন মুমিনের জন্য ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ আমল হলো নামাজ। একজন মুমিন ও কাফেরের মধ্যে বড় পার্থক্যগুলোর একটি হলো নামাজ। নিয়মিত নামাজ মানুষকে দুনিয়ার বিভিন্ন খারাপ ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
২১ আগস্ট ২০২৬

চলতি বছরটি শেষ হওয়ার আগেই আগামী ২০২৭ সালের (১৪৪৮ হিজরি) পবিত্র রমজান মাস এবং ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে মুসলিম বিশ্বের পাশাপাশি দেশের সাধারণ মানুষের মাঝেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল ও আগ্রহ। মধ্যপ্রাচ্যের জ্যোতির্বিজ্ঞান ভিত্তিক গবেষণা এবং প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৭ সালে পবিত্র রমজান মাস শুরুর সম্ভাব্য তারিখ এবং দুই ঈদের মূল কাঠামো কেমন হতে পারে, সে বিষয়ে একটি প্রাথমিক ধারণা পাওয়া গেছে।
৩০ জুলাই ২০২৬

দিনভর ব্যস্ততা, কর্মজীবনের চাপ আর নানা দুশ্চিন্তার পর রাতের ঘুমই হয়ে ওঠে মানুষের সবচেয়ে বড় প্রশান্তির সময়। কিন্তু অনেকেই ঘুমানোর আগে সময় কাটান মোবাইল ফোনে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিংবা অপ্রয়োজনীয় কাজে। অথচ ইসলাম একজন মুমিনের জন্য ঘুমানোর আগেও রেখে দিয়েছে সহজ কিন্তু অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি আমল, যা পালন করতে সময় লাগে মাত্র এক মিনিট।
১৮ জুন ২০২৬

পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ শুধু জীবদ্দশায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং তাদের মৃত্যুর পরও এই দায়িত্ব অব্যাহত রাখার নির্দেশনা এসেছে হাদিসে।
১ জুন ২০২৬

মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে আনন্দের দিনগুলোর একটি ঈদুল আজহা। ত্যাগ, আনুগত্য ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের শিক্ষা নিয়ে প্রতি বছর জিলহজ মাসের ১০ তারিখে আসে কোরবানির এই ঈদ। এই দিনটিকে ঘিরে মুসলমানদের মধ্যে থাকে বিশেষ প্রস্তুতি, আর দিনের শুরু হয় ঈদের নামাজের মাধ্যমে।
২৭ মে ২০২৬

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর মুসলমানদের মধ্যে কুরবানি নিয়ে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা দেখা যায়। বিশেষ করে যৌথ পরিবারে বসবাসকারীদের মধ্যে একটি প্রচলিত ধারণা হলো, পরিবারের একজন সদস্য, বিশেষ করে পরিবারের প্রধান ব্যক্তি কুরবানি দিলেই পুরো পরিবারের পক্ষ থেকে দায়িত্ব আদায় হয়ে যায়। কিন্তু ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি ভিন্ন।
২২ মে ২০২৬