
নিজস্ব প্রতিবেদক: ইসলামে দাড়ি রাখা কেবল একটি ব্যক্তিগত পছন্দ নয়, বরং এটি একটি স্পষ্ট নববী নির্দেশনা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: *"দাড়ি বাড়তে দাও ও গোঁফ ছোট করো।" হাদীসের আলোকে জানা যায়, সাহাবায়ে কেরাম দাড়ি এক মুষ্টি পরিমাণ লম্বা রাখতেন, অতিরিক্ত অংশ ছেঁটে ফেলতেন। কিন্তু এক মুষ্টির কম দাড়ি রাখার অনুমোদন হাদীসে পাওয়া যায় না।
বিশ্বের অধিকাংশ ইসলামী বিদ্বান মনে করেন, দাড়ি রাখা ওয়াজিব বা অপরিহার্য। যদিও কিছু কিছু আলেমের মধ্যে মতভেদ রয়েছে, তবে প্রভাবশালী আলেমগণ একমত যে এটি ফরজ না হলেও ওয়াজিব পর্যায়ে পড়ে। কেউ কেউ এটিকে সুন্নত বলেন বটে, তবে যেহেতু রাসূল (সা.) এর সরাসরি নির্দেশ রয়েছে, তাই একে ‘সাধারণ সুন্নত’ না বলে ‘আবশ্যক আদেশ’ বলাই যুক্তিযুক্ত।
তবে এটাও মনে রাখা জরুরি, দাড়ি রাখা নিয়ে কারো প্রতি বিদ্রুপ করা বা ছোট করে দেখা ইসলামি আদর্শের পরিপন্থী। কেউ দাড়ি রাখা শুরু করলে তাকে উৎসাহ দেওয়া উচিত, তাচ্ছিল্য নয়। পাশাপাশি, দাড়ি রাখা অবস্থায় কেউ যদি মন্দ আচরণ করে, প্রতারণামূলক ব্যবসায় জড়ায় কিংবা খারাপ ভাষা ব্যবহার করে—তাহলে তার দাড়ি রাখা দ্বীনের সৌন্দর্যকে ম্লান করে দেয়।
ইসলামে দাড়ি রাখা গুরুত্বপূর্ণ, তবে ইসলাম কেবল দাড়ির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। নামাজ, হালাল রোজগার, সদ্ব্যবহার, ইনসাফ এবং অন্যায় থেকে বিরত থাকা—সবই ইসলামের অপরিহার্য দায়িত্ব।
বর্তমান সময়ে অনেকে শরীয়তের বিধান নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করেন, বিশেষ করে বিয়ের বিষয়ে। অনেকেই মনে করেন, মেসেঞ্জারে ‘হ্যাঁ বলেছি’ মানেই বিয়ে সম্পন্ন হয়ে গেছে। অথচ ইসলামে বিয়ের জন্য ইজাব-কবুল, সাক্ষী, অভিভাবকের সম্মতি—এই সব শর্ত অপরিহার্য।
একজন নাবালিকা মেয়ের সাথে মেসেঞ্জারে ‘হ্যাঁ-বলা’ কোনো প্রস্তাব শরিয়ত অনুযায়ী বৈধ বিবাহ নয়; বরং এটি মারাত্মক গোনাহের কাজ এবং জেনার উপক্রম হতে পারে। তাই মুসলিম তরুণ-তরুণীদের এই বিষয়ে সচেতন থাকা আবশ্যক।
অনেক পিতা-মাতা সন্তানদের মধ্যে বৈষম্য করে থাকেন। কেউ পাঁচ সন্তানের মধ্যে চারজনকে সম্পত্তি লিখে দিয়ে একজনকে বাদ দেন। শরীয়তের দৃষ্টিতে এটি সম্পূর্ণ অন্যায়। যদি সন্তান দ্বীন থেকে বিচ্যুত না হয়, তবে সে কখনোই উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারে না।
রাসূল (সা.) বলেছেন, সন্তানদের মধ্যে সমতা বজায় রাখতে হবে। জীবদ্দশায় যদি কেউ সম্পত্তি বণ্টন করেন, তবে তা ন্যায্যভাবে করতে হবে। হ্যাঁ, দ্বীনের স্বার্থে নেক সন্তানকে কিছুটা বেশি দেওয়া যেতে পারে, তবে কাউকে একেবারে বঞ্চিত করা যাবে না।
তবে অন্যায় বণ্টন করলেও ঐ ব্যক্তির জানাজা নামাজ আদায় করতে বাধা নেই। কিন্তু আখিরাতে তাকে জবাবদিহি করতে হবে। সন্তানদের উচিত হবে পিতার সেই অন্যায়ের ভারসাম্য তৈরি করে দেওয়ার চেষ্টা করা, যাতে তিনি মুক্তি লাভ করতে পারেন।
ইসলাম সবক্ষেত্রেই ভারসাম্য ও ইনসাফের শিক্ষা দেয়—ব্যক্তি চরিত্র, পারিবারিক সম্পর্ক, সামাজিক ন্যায়বিচার এমনকি শত্রুর সাথেও। দাড়ি রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল, তবে ইসলাম পালন কেবল বাহ্যিক অবয়বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অন্তরের খালিস নিয়ত ও কর্মের সততাই ইসলামি জীবনধারার মূল।

নিজস্ব প্রতিবেদক: পবিত্র রমজান মাসের এক মাস সিয়াম সাধনার পর যখন শাওয়ালের চাঁদ দেখা যায়, তখন মুসলিম বিশ্বের হৃদয়ে নেমে আসে আনন্দ, প্রশান্তি ও কৃতজ্ঞতার আবহ। সেই আনন্দকে পূর্ণতা দেয় পবিত্র ঈদুল ফিতরের দুই রাকাত নামাজ। মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হিসেবে ঈদের নামাজ মুসলিম সমাজে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
২১ মার্চ ২০২৬

রাকিব: পবিত্র মাহে রমজান ধীরে ধীরে বিদায়ের পথে। রহমত ও মাগফিরাতের পর এখন চলছে নাজাতের পর্ব রমজানের শেষ দশ দিন। ইসলামে এই সময়টিকে ইবাদত-বন্দেগির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
১০ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: বর্তমান বিশ্ব এক অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত ক্রমবর্ধমান, আর বিশ্বের নানা অঞ্চলে যুদ্ধের উত্তেজনা বাড়ছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এই পরিস্থিতি হাদিসে বর্ণিত শেষ জামানার মহাযুদ্ধ বা ‘মালহামা’-র আগাম সংকেত। বিশেষ করে ইরানের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান এবং সেখানে সংঘটিত সাম্প্রতিক ঘটনা ১৪০০ বছর আগের নবীর পূর্বাভাসের আলোকে নতুনভাবে আলোচিত হচ্ছে।
৩ মার্চ ২০২৬

হাসান: রমজান মাস আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন ও আল্লাহর রহমত লাভের এক অনন্য সময়। এ মাসে প্রতিটি ইবাদতের সওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। তবে রোজা কেবল পানাহার থেকে বিরত থাকার নাম নয়; বরং আচরণ, কথা-বার্তা ও দৈনন্দিন কাজেও সংযম বজায় রাখা জরুরি।
২ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইসলামি ইতিহাসের পাতায় চৌদ্দশ বছর আগে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এমন কিছু কালজয়ী ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, যা বর্তমান বিশ্বের—বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার—রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিচ্ছে। হাদিস শরীফে বর্ণিত এই সুদূরপ্রসারী বার্তাটি 'গাজওয়াতুল হিন্দ' বা 'হিন্দুস্তানের যুদ্ধ' নামে পরিচিত। বর্তমানের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ক্ষমতার রদবদল কি সেই প্রাচীন বার্তার দিকেই কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছে? এই প্রশ্নটি এখন কেবল ধর্মীয় মহলে নয়, বরং অনেক সমর বিশ্লেষকের মনেও ঘুরপাক খাচ্ছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

হাসান: বছর ঘুরে আবারও আমাদের মাঝে সমাগত হতে যাচ্ছে পবিত্র মাহে রমজান। ২০২৬ সালের রমজান মাস শুরুর সম্ভাব্য তারিখ চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল হলেও, প্রাথমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সিয়াম সাধনার প্রস্তুতি শুরু করেছেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, আগামী মার্চ মাসের শুরুর দিকেই প্রথম রমজান শুরু হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ঢাকা জেলার জন্য প্রথম রমজানের সময়সূচী: ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মানদণ্ড অনুযায়ী প্রথম রমজানের সময়সূচী নিচে ...
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

হাসান: রমজান মাসে সারাদিন রোজা রাখার ফলে শরীরে স্বাভাবিকভাবেই কিছু পরিবর্তন আসে। ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন না করলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে। ফলে গ্যাস্ট্রিক, দুর্বলতা, পানিশূন্যতা কিংবা অন্যান্য জটিলতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। রোজায় সুস্থ থাকতে কীভাবে খাবেন, কী এড়িয়ে চলবেন— সে বিষয়ে বিস্তারিত পরামর্শ দিয়েছেন ফাহমিদা হাশেম, সিনিয়র পুষ্টিবিদ, ল্যাবএইড আইকনিক। রোজার স্বাস্থ্য উপকারিতা— তবে শর্ত আছে ফাহমিদা হাশেম বলেন, রোজা রাখলে শরীরের কোষগুলো বিশ্রাম ...
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আজ পবিত্র শবে বরাত, যা ইসলামে পরিচিত ‘লাইলাতুল বরাত’ নামে। হিজরি বর্ষের শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত এই রাত মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও বরকতময়। ফারসি শব্দ ‘শবে বরাত’-এর অর্থ মুক্তির রাত। বিশ্বাস অনুযায়ী, এ রাতে মহান আল্লাহ অসংখ্য বান্দাকে ক্ষমা করে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করেন। শবে বরাতের গুরুত্ব ও ফজিলত হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন “যখন শাবান মাসের মধ্যবর্তী রাত আসে, তখন তোমরা রাতে ইবাদত ...
৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

মিশরের গ্র্যান্ড মুফতি শাইখ ড. নাজির আয়াদ মুসলিম সমাজকে সতর্ক করে বলেছেন, পবিত্র কুরআনের তাফসিরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর নির্ভর করা গ্রহণযোগ্য নয়। দারুল ইফতা আল মিসরিয়্যাহের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে তিনি বলেন, কুরআন একটি পবিত্র গ্রন্থ, যা স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যাখ্যা করলে বিভ্রান্তি, ভুল ধারণা এবং অসত্য তথ্য ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে। ড. আয়াদ আরও বলেন, কুরআনের ব্যাখ্যা কোনো সাধারণ প্রক্রিয়া নয়। এটি গভীর জ্ঞান, ভাষাগত দক্ষতা এবং ইসলামী ঐতিহ্যভিত্তিক শিক্ষার প্রয়োজন। ...
২৯ জানুয়ারি ২০২৬