
বাংলাদেশ ও ভারত দক্ষিণ এশিয়ার দুই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। কিন্তু বর্তমানে এই সম্পর্কের মধ্যে নতুন করে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানকে কেন্দ্র করে। বাংলাদেশের জনগণের গণ-আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় তার ভারতে অবস্থান এবং সেখান থেকে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানো—বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত সরকারের কাছে হাসিনাকে ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানালেও কোনো ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের এই নীরবতা কেবল কূটনৈতিক নয়, বরং রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। তারা মনে করেন, ভারত এখনো মনে করে শেখ হাসিনাকে ভবিষ্যতে কাজে লাগানো যেতে পারে—বিশেষ করে যদি বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি পাল্টে যায়।
অন্যদিকে, এই পরিস্থিতি দুই দেশের অর্থনৈতিক এবং নিরাপত্তা সম্পর্ককেও প্রভাবিত করছে। বাংলাদেশ ভারত থেকে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অন্যান্য পণ্য আমদানি করে থাকে, যা দুই দেশের পারস্পরিক নির্ভরশীলতার ভিত্তি। বাংলাদেশে অনেক ভারতীয় বিনিয়োগ রয়েছে, এবং ভারতীয় শ্রমিকদের জন্যও এটি একটি বড় বাজার। একইসাথে, বাংলাদেশের পর্যটকরা ভারতের পর্যটন খাতে বড় ভূমিকা রাখে। তাই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির অর্থ হচ্ছে—এই পারস্পরিক সুবিধাগুলো হুমকির মুখে পড়া।
বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক এখন আর আগের মতো একতরফা থাকবে না। নতুন সরকারের নীতিমালায় জাতীয় স্বার্থকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে ভারত যদি পুরনো আচরণ চালিয়ে যায়, তাহলে বাংলাদেশও বিকল্প বাণিজ্য ও কূটনৈতিক পথ খুঁজবে—যেমন চীন, আমেরিকা বা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি।
বিশিষ্ট কূটনীতিক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতে, শেখ হাসিনার ইস্যুতে একমাত্র সমাধান হতে পারে কূটনৈতিক স্বচ্ছতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা। ভারতের যদি সত্যিই দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতা ও আঞ্চলিক সহযোগিতা চায়, তাহলে তাদের উচিত হবে শেখ হাসিনার মতো বিতর্কিত ব্যক্তিকে আশ্রয় না দিয়ে আইনি ও ন্যায়বিচারের পথ অনুসরণ করা।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের পক্ষেও আবেগ নয়, বাস্তববাদী পররাষ্ট্রনীতির অনুসরণ করা জরুরি। কূটনৈতিকভাবে সংলাপ চালিয়ে যাওয়া, দ্বিপাক্ষিক ফোরামে ভারতকে চাপ প্রয়োগ করা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন আদায়ের মাধ্যমে এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ খুঁজে বের করা সম্ভব।
সবশেষে বলা যায়, শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার প্রশ্নটি কেবল একজন ব্যক্তিকে ঘিরে নয়—বরং এটি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যতের নির্ধারক। যদি এ ইস্যুতে সঠিক ও ন্যায্য পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তাহলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের পথে বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি মন্তব্যকে ঘিরে বুধবার রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। সকালে সিলেটে সফরের শুরুতেই বিমানবন্দরে উপস্থিত কয়েকজন সংসদ সদস্যকে দেখে প্রধানমন্ত্রী অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এরপর বিকেলেই সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীকে জাতীয় সংসদে উপস্থিত হতে দেখা যায়।
১৭ জুন ২০২৬

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসকদের বিরুদ্ধে সরাসরি নির্বাচনি প্রচারণায় জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তার দাবি, সরকারি কোষাগারের অর্থ ব্যবহার করে প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, যা গণতান্ত্রিক চর্চা ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার পরিপন্থী।
৯ জুন ২০২৬

দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট জাতীয়তাবাদী যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন এ কমিটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে বলে আশা করছেন দলটির নেতাকর্মীরা।
৪ জুন ২০২৬

শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে নতুন করে সরব হয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। সংগঠনটির দাবি, এটি শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়; বরং এর পেছনে থাকতে পারে বৃহত্তর রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র। তাই ঘটনার পূর্ণ সত্য উদঘাটনে জাতিসংঘের অধীনে নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে তারা।
৩ জুন ২০২৬

বাংলাদেশের অন্যতম ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে সরকারি সরকারি বাঙলা কলেজ শাখার কয়েকজন নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ফলে আবারও সংগঠনের নিয়মিত কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ ফিরে পেয়েছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা।
২৬ মে ২০২৬

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর ছাত্র রাজনীতিতে গড়ে ওঠা ঐক্যকে ধ্বংস করতে একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। তিনি সরাসরি জামায়াত-শিবিরকে লক্ষ্য করে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার, মব সৃষ্টি, চরিত্রহননসহ নানা অরাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা ছাত্রসমাজে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছে।
১৯ মে ২০২৬

ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তরুণ ছাত্রনেতা মোঃ মোফাজ্জল হোসেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে তার সক্রিয় ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং দীর্ঘদিনের ত্যাগ-তিতিক্ষার স্বীকৃতি হিসেবেই তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
১৯ মে ২০২৬

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশজুড়ে যে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়, তা নিয়ে এবার নতুন তথ্য উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। ওই দিন বোনকে নিয়ে দেশ ছাড়েন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও নিরাপদ স্থানে সরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
১৮ মে ২০২৬

রাজশাহীর মাদরাসা মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোড়ন তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিএনপির বিরুদ্ধে সরাসরি চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে তিনি বলেন, দেশের মানুষ এখন জাতীয়তাবাদী দল নয়, ‘চাঁদাবাজি দল’ বলেই বিএনপিকে ডাকছে।
১৬ মে ২০২৬