
রিপোর্টার

আওয়ামী লীগের চলমান রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেই সজীব ওয়াজেদ জয়ের ইতালির ভেনিস সফরকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভেনিসে তাঁর হাসিখুশি ও অবকাশযাপনের ছবি-ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের একটি অংশ তাঁকে দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সম্ভাব্য মুখ হিসেবে তুলে ধরছেন। তবে এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে সমালোচনা ও নানা প্রশ্ন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী লীগের তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের কিছু নেতা জয়ের ছবি শেয়ার করে তাঁকে ‘আগামীর কান্ডারি’ এবং ‘ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে উপস্থাপন করছেন। রাজনৈতিকভাবে দলটি যখন নানা অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে জয়ের এমন ছবি ও ভিডিও প্রকাশ্যে আসায় তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
তবে জয়কে ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে তুলে ধরার এই প্রচারণার সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব নিয়ে শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যের সামঞ্জস্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর অনুপস্থিতিতে শেখ ফজলুল করিম সেলিম আওয়ামী লীগের দায়িত্ব পালন করবেন।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের একটি ফেসবুক পোস্টে জয়কে বর্তমান সরকারের জন্য ‘আতঙ্ক’ হিসেবে উল্লেখ করার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। ফলে দলটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে জয়ের অবস্থান ঠিক কোথায়, তা নিয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট সমীকরণ তৈরি হয়নি।
এদিকে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী রাজনৈতিক ও আইনি অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে জয়ের ভেনিস সফরের ছবি-ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় কেউ কেউ সমালোচনাও করছেন। অধিকারকর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের প্রশ্ন, দলের এমন সংকটময় সময়ে জয়ের প্রকাশ্য অবকাশযাপন সাধারণ নেতাকর্মীদের কাছে কী ধরনের বার্তা দিচ্ছে। কেউ কেউ তাঁর জীবনযাপন নিয়ে বিদ্রূপও করেছেন।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো ছবি বা ভিডিওর ভিত্তিতে কারও ব্যক্তিগত জীবনযাপন সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। এসব কনটেন্টের প্রেক্ষাপট, সময়কাল ও সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করাও জরুরি।
জয়ের বিরুদ্ধে অতীতে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক অনিয়ম, অর্থ পাচার এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিকম খাতে দুর্নীতির অভিযোগ রাজনৈতিকভাবে আলোচিত হয়েছে। এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে কোনটি আদালতে প্রমাণিত, কোনটি তদন্তাধীন এবং কোনটি রাজনৈতিক অভিযোগ—তা পৃথকভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বিশেষ করে এফবিআইয়ের তদন্তে জয় ও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিপুল অর্থ পাচারের তথ্য উঠে এসেছে—এমন দাবি বিভিন্ন প্রতিবেদনে করা হয়েছে। তবে এ ধরনের গুরুতর দাবির সত্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট তদন্ত নথি ও আদালতের তথ্যের ভিত্তি থাকা প্রয়োজন।
ভেনিস সফরকে কেন্দ্র করে জয়ের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও নানা আলোচনা ছড়িয়েছে। বিদেশি নারীদের সঙ্গে তাঁকে দেখা গেছে—এমন দাবি যেমন করা হয়েছে, তেমনি তিনি আবারও একজন বিদেশি খ্রিষ্টান নারীকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন—এমন গুঞ্জনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে।
জয়ের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আগে জানা যায়, ২০০২ সালে তিনি ক্রিস্টিন অ্যান ওভারমায়ারকে বিয়ে করেন এবং ২০১১ সালে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। তবে নতুন বিয়ের বিষয়ে বর্তমানে যে আলোচনা চলছে, তা এখন পর্যন্ত গুঞ্জনের পর্যায়েই রয়েছে। সজীব ওয়াজেদ জয় বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সব মিলিয়ে ভেনিস সফর, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে জয়ের সম্ভাব্য অবস্থান এবং তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নতুন বিয়ের গুঞ্জন—এই তিনটি বিষয়কে ঘিরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা সবচেয়ে বেশি। তবে রাজনৈতিক দাবি, অভিযোগ, গুঞ্জন ও নিশ্চিত তথ্যকে আলাদা করে দেখাই গুরুত্বপূর্ণ।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই রায়ে দেশে তাঁর নামে থাকা সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর এই নির্দেশের পরই সামনে এসেছে শেখ হাসিনার নামে দেশে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ এবং সেগুলো কীভাবে বাজেয়াপ্ত হবে, তা নিয়ে নতুন আলোচনা।
১ দিন আগে

ক্যাম্পাসকে শিক্ষার্থীদের অধিকার, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ গড়ার অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বাঙলা কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের স্বার্থ, তাদের ন্যায্য দাবি এবং একটি সুন্দর একাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়গুলো।
৪ দিন আগে

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নাম, ছবি ও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে একাধিক ভুয়া ফেসবুক আইডি ও পেজ পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। এসব অ্যাকাউন্ট থেকে রিজভীর নামে বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য, মন্তব্য, ছবি, ভিডিও, সংবাদ ও অন্যান্য কনটেন্ট প্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পর সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলোর বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
২৯ আগস্ট ২০২৬

গণঅভ্যুত্থানকে ঘিরে রাজনৈতিক বিভিন্ন ঘটনা, বক্তব্য ও বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির সাবেক নেত্রী ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যের প্রসঙ্গ সামনে এনেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খাঁন।
২৮ আগস্ট ২০২৬

নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায় সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের তদারকির ক্ষমতা দেওয়ার উদ্যোগকে পুরোপুরি ‘অসাংবিধানিক’ ও ‘বেআইনি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন ৬৭ জন সংসদ সদস্য। এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিক লিখিত আপত্তি জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত আইন সংশোধনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন সংসদ সদস্যরা।
২৬ আগস্ট ২০২৬

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করার পর থেকেই দলটির পরবর্তী মহাসচিব পদ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তীব্র হয়েছে। তবে এখনই দলীয় মহাসচিব পদে পরিবর্তন হচ্ছে না। কারণ, মির্জা ফখরুল এখনো রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে শপথ নেননি। ফলে তার বর্তমান দলীয় দায়িত্বও আনুষ্ঠানিকভাবে বহাল রয়েছে।
১৮ আগস্ট ২০২৬

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষর জাল করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিকে সম্পূর্ণ ভুয়া, বানোয়াট ও অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে বিএনপি। দলটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, ওই বিজ্ঞপ্তি বিএনপির দপ্তর থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো হয়নি।
১৫ আগস্ট ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান মন্ত্রিসভায় আপাতত বড় ধরনের রদবদলের কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করা এবং একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রীদের ওপর থেকে কাজের চাপ কমাতে সীমিত পরিসরে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।
১৫ আগস্ট ২০২৬

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম ঘোষণা করা হয়েছে এমন দাবি ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার পরপরই বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্বসহ দলীয় গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে মির্জা ফখরুলের পদত্যাগের কথাও সামনে এসেছে।
১৪ আগস্ট ২০২৬