
সিনিয়ার রিপোর্টার

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই রায়ে দেশে তাঁর নামে থাকা সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর এই নির্দেশের পরই সামনে এসেছে শেখ হাসিনার নামে দেশে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ এবং সেগুলো কীভাবে বাজেয়াপ্ত হবে, তা নিয়ে নতুন আলোচনা।
তবে ট্রাইব্যুনালের রায়ে সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ থাকলেও বাস্তবে সেই সম্পদ কী প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রের মালিকানায় যাবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। একই সঙ্গে এসব সম্পদ পরবর্তী সময়ে ভুক্তভোগী ও শহীদ পরিবারের ক্ষতিপূরণ হিসেবে কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সেটিও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হচ্ছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, আইন ও বিধিতে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া সাধারণ আইনের আওতাধীন। এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের কাছ থেকে আরও সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
চিফ প্রসিকিউটরের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত হলে এর ‘রেট্রোস্পেকটিভ ইফেক্ট’ থাকবে। অর্থাৎ আগে দেওয়া রায়ের ভিত্তিতেই সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব হবে এবং এ ক্ষেত্রে আইনগত জটিলতা তৈরি হবে না।
এরই মধ্যে শেখ হাসিনার নামে থাকা সম্পদের হিসাব নিয়েও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তাঁর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায় ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায়। গোপালগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী হিসেবে দেওয়া ওই হলফনামায় শেখ হাসিনার নিজের নামে মোট প্রায় ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছিল।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনার হাতে নগদ অর্থ ছিল প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ টাকা। ব্যাংক ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তাঁর জমা ছিল প্রায় ২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। পাশাপাশি ছিল ২৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র এবং ৫৫ লাখ টাকার স্থায়ী আমানত বা এফডিআর।
তাঁর নামে উপহার হিসেবে পাওয়া তিনটি মোটরগাড়ির তথ্যও হলফনামায় উল্লেখ করা হয়। তবে এসব গাড়ির মূল্য সেখানে দেখানো হয়নি। অন্যদিকে স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মূল্য দেখানো হয়েছে ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা। আসবাবপত্রের মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে ৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
স্থাবর সম্পদের হিসাবেও রয়েছে কৃষিজমি ও প্লট। হলফনামায় শেখ হাসিনার নামে মোট ১৫ দশমিক ৩ বিঘা কৃষিজমির তথ্য রয়েছে। টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ সদর, গাজীপুর ও রংপুরে থাকা এসব জমির ক্রয়মূল্য দেখানো হয়েছে ৬ লাখ ৭৮ হাজার টাকা।
এর বাইরে ঢাকার পূর্বাচলে শেখ হাসিনার নামে একটি প্লট রয়েছে। হলফনামায় ওই প্লটের মূল্য দেখানো হয়েছে ৩৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা।
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তিনতলা ভবনসহ ৬ দশমিক ১০ শতক আংশিক জমি নিজের নামে দেখিয়েছেন শেখ হাসিনা। হলফনামায় এই সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে ৫ লাখ টাকা।
সব হিসাব মিলিয়ে ২০২৪ সালের নির্বাচনী হলফনামায় শেখ হাসিনার নিজের নামে প্রায় ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। এখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর এসব সম্পদ কীভাবে বাজেয়াপ্ত হবে, সেটিই সামনে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই রায়ে তাঁর নামে থাকা সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এখন সেই নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য আইনি প্রক্রিয়া নির্ধারণের কাজ চলছে। বিশেষ করে বাজেয়াপ্ত সম্পদ কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে এবং ভুক্তভোগী বা শহীদ পরিবারের ক্ষতিপূরণে তা কীভাবে ব্যবহার করা হবে—এসব বিষয় নির্ধারণের পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ফলে একদিকে ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায় এবং অন্যদিকে সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ—দুই বিষয়ই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। তবে শেখ হাসিনার নামে থাকা সম্পদের চূড়ান্ত ব্যবস্থাপনা ও ক্ষতিপূরণে এর ব্যবহার সম্পর্কে পরবর্তী আইনি সিদ্ধান্তের দিকেই এখন নজর রয়েছে।

নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে নতুন কাঠামোর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি। সংসদের উচ্চকক্ষ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান ও উপদেষ্টা নিয়োগের ব্যবস্থা রাখা যায় কি না, তা নিয়ে মত দিয়েছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনের অধ্যাপক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা। এ ছাড়া সরকারি দল ও বিরোধী দলের সম্মতিতে নির্বাচিত স্পিকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার প্রস্তাবও এসেছে।
১৪ ঘণ্টা আগে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানায় গিয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে নিরাপত্তা না পাওয়া এবং ওসির বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে জানতে বৃহস্পতিবার রাতে থানায় যান তিনি। এ সময় ওসির বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তোলা হলে তিনি তা অস্বীকার করেন।
২ দিন আগে

মাদকবিরোধী উদ্যোগ ও ‘ফৌজদারি অপরাধের’ অভিযোগকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন। সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করা ইশরাক দাবি করেছেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার কথা বললেও বাস্তবে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না।
৪ দিন আগে

ঢাকা-৪ ও ঢাকা-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং বিএনপির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমেদ মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত ৮টা ১০ মিনিটে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
১৪ অক্টোবর ২০২৬

শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে উপবৃত্তি ও বিশেষ অনুদানের আবেদন কার্যক্রমে সহযোগিতা করছেন সরকারি বাঙলা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী নিরব। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে আবেদন ফর্ম পূরণে সার্বিক সহযোগিতা করছেন তিনি।
১২ অক্টোবর ২০২৬

কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় লালন শাহের মাজার প্রাঙ্গণে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে পিটুনির অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
৪ অক্টোবর ২০২৬

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের পুরোনো দুর্নীতি মামলা, সম্পদের পরিমাণ এবং এসব সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ।
২ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় আলোচনায় আসা বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। পরে সংসদ সচিবালয় তাঁর আসনটি শূন্য ঘোষণা করে। বিষয়টি একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।
২ অক্টোবর ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ পদত্যাগ করেছেন। তার পদত্যাগের পর সংবিধানের বিধান অনুযায়ী সংসদীয় ৩২৩ মহিলা আসন-২৩ শূন্য ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়।
১ অক্টোবর ২০২৬