
রিপোর্টার

দীর্ঘ ১১ বছরের প্রতীক্ষার পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার ঘোষণা দেওয়া হলেও মূল বেতনের কত শতাংশ বৃদ্ধি প্রথম ধাপে কার্যকর হবে, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত সামনে আসেনি। ফলে দেশের লাখো সরকারি চাকরিজীবীর মধ্যে যেমন আশার সঞ্চার হয়েছে, তেমনি তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও কৌতূহল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যেই প্রথম ধাপেই মূল বেতনের শতভাগ বৃদ্ধি কার্যকর হওয়ার নানা দাবি ও আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এমন কোনো সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বরং সরকার বিভিন্ন বিকল্প প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছে এবং সচিব কমিটির বৈঠকের পরই এ বিষয়ে স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যেতে পারে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নতুন পে-স্কেলের সুপারিশগুলো পুনর্মূল্যায়নের লক্ষ্যে গঠিত সচিব কমিটির বৈঠকে বেতন বৃদ্ধি, গেজেট প্রকাশ, বিভিন্ন ভাতা, বাস্তবায়নের ধাপ এবং প্রশাসনিক ও কারিগরি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার সঙ্গে জড়িত অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এই বৈঠক থেকেই আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি কার্যকর করার প্রস্তাব। একই সঙ্গে আরেকটি বিকল্প প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে, যেখানে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত কর্মচারীদের জন্য ৬০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি কার্যকর করার বিষয়টি আলোচনা করা হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য হলো নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের তুলনামূলক বেশি সুবিধা দেওয়া এবং মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় তাদের আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা।
তবে প্রথম ধাপেই শতভাগ মূল বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে এ ধরনের তথ্যকে এখনই নিশ্চিত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সরকারি সূত্র বলছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব প্রস্তাবই আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, নতুন পে-স্কেল ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হলেও বর্ধিত বেতন হাতে পেতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হতে পারে। কারণ গেজেট প্রকাশ, বিধিমালা সংশোধন, সফটওয়্যার হালনাগাদ, হিসাব পুনর্নির্ধারণসহ বেশ কয়েকটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় প্রয়োজন হবে। ফলে বাস্তবে নতুন বেতন পেতে দুই থেকে তিন মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়েও এখনো নিশ্চিত কোনো ঘোষণা আসেনি। যদিও এর আগে জুন মাসের শেষ সপ্তাহে গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছিল, তবে পুরো কাঠামো চূড়ান্ত না হওয়ায় বিষয়টি এখন সচিব কমিটির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। সরকারি চাকরিজীবীরা তাই বৈঠকের ফলাফলের দিকে গভীর আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছেন।
এদিকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও আলোচনা চলছে। বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন, নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে সেই সুবিধা বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে কাগজে-কলমে মূল বেতন ৫০ শতাংশ বাড়লেও প্রকৃত আর্থিক সুবিধার পরিমাণ কিছুটা কমে যেতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর হিসাব অনুযায়ী, বিশেষ সুবিধা বাতিল হলে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের কার্যকর বেতন বৃদ্ধি প্রায় ৩৫ শতাংশ এবং ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রায় ৪০ শতাংশ হতে পারে। ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে প্রকৃত আর্থিক লাভের হিসাব নিয়েও নানা আলোচনা চলছে।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা বলছেন, নতুন পে-স্কেল নিয়ে চাকরিজীবীদের প্রত্যাশা এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং বেতন বৈষম্যের কারণে তারা নতুন বেতন কাঠামোর অপেক্ষায় ছিলেন। তবে মূল বেতন ৫০ শতাংশ নাকি ১০০ শতাংশ বাড়বে, গেজেট কবে প্রকাশিত হবে এবং বর্ধিত বেতন কবে হাতে পাওয়া যাবে এসব বিষয়ে স্পষ্ট ঘোষণা না আসায় অনেকের মধ্যেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে দেশের লাখো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর দৃষ্টি এখন সচিব কমিটির সিদ্ধান্তের দিকে। সংশ্লিষ্টদের আশা, আসন্ন বৈঠকের মাধ্যমে নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটবে। একই সঙ্গে বেতন বৃদ্ধি, ভাতা সমন্বয়, গেজেট প্রকাশ এবং কার্যকর হওয়ার সময়সূচি সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা পাওয়া যাবে, যা সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটাবে।

নতুন বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) চূড়ান্ত করতে সরকার যথেষ্ট রাজনৈতিক সাহস দেখাতে পারছে না বলে মন্তব্য করেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটির মতে, সিদ্ধান্ত দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখলে সরকারের প্রশাসনিক ও আর্থিক চাপ আরও বাড়বে।
১ দিন আগে

আজ সোমবার ঢাকাসহ দেশের আটটি অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এই কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোতে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত অভ্যন্তরীণ
১ দিন আগে

দেশের স্বর্ণের বাজারে আবারও বড় পরিবর্তন। সোনার দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন বা বাজুস। নতুন দামে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম গিয়ে ঠেকেছে ২ লাখ ৪০ হাজার ৬২৮ টাকায়।
৪ দিন আগে

এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের বদলি নিয়ে অপেক্ষার অবসান হয়েছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকাল ১১টা থেকে শুরু হয়েছে অনলাইনে বদলির আবেদন গ্রহণ। আগামী ২৭ আগস্ট পর্যন্ত নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে যোগ্য শিক্ষকরা এই আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
৫ দিন আগে

বিশ্ববাজারে সোনা ও রুপার দামের ওঠানামার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারেও নিয়মিত মূল্য সমন্বয় করে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ফলে স্বর্ণালংকার কেনার পরিকল্পনা থাকলে দোকানে যাওয়ার আগে সর্বশেষ বাজারদর জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তবে বুধবার (১৯ আগস্ট) নতুন করে সোনা ও রুপার দাম নির্ধারণ করেনি বাজুস। ফলে বর্তমানে দেশের বাজারে গত শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হওয়া দামেই সোনা ও রুপা বিক্রি হচ্ছে।
৫ দিন আগে

ইমানের পর একজন মুমিনের জন্য ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ আমল হলো নামাজ। একজন মুমিন ও কাফেরের মধ্যে বড় পার্থক্যগুলোর একটি হলো নামাজ। নিয়মিত নামাজ মানুষকে দুনিয়ার বিভিন্ন খারাপ ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
৫ দিন আগে

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আজ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর সঙ্গে কোথাও কোথাও বজ্রসহ বৃষ্টি এবং মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। বৃষ্টির পাশাপাশি অস্থায়ী দমকা হাওয়াও বয়ে যেতে পারে। এদিকে বৃষ্টির প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
৫ দিন আগে

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায়। রাজধানীর বঙ্গভবনের ঐতিহাসিক দরবার হলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল।
৫ দিন আগে

আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবেন জাতীয় সংসদের সদস্যরা। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে।
১৯ আগস্ট ২০২৬