
নিজস্ব প্রতিবেদক: বিয়ে—ইসলামে এক পবিত্র ও বরকতপূর্ণ বন্ধন। অথচ সময়ের পরিবর্তনে তালাক বা ডিভোর্স যেন এক সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, যদি বিয়ে আল্লাহর পরিকল্পনার অংশ হয়, তাহলে ডিভোর্স কেন হয়? এটি কি পূর্বনির্ধারিত ভাগ্য, নাকি মানুষের কর্ম ও সিদ্ধান্তের ফল?
অনেক ইসলামি চিন্তাবিদের মতে, ডিভোর্স নিছক ভাগ্য নয়। এটি অধিকাংশ সময়েই মানুষের অবিবেচক সিদ্ধান্ত, ধর্মীয় অনুশাসন উপেক্ষা, পারিবারিক অপ্রস্তুতি এবং সমাজের নানা অসঙ্গতির ফলাফল।
প্রথমত, বহু বিয়েই ইসলামী বিধান মেনে হয় না। অভিভাবকের সম্মতি ছাড়াই বিয়ে, সাক্ষীহীন বা গোপনে সম্পাদিত বিবাহ, কিংবা বিয়ের অনুষ্ঠানে অনৈসলামিক কার্যকলাপ—এসবই বৈবাহিক জীবনের ভিত্তিকে দুর্বল করে তোলে।
দ্বিতীয়ত, হাদিসে উল্লেখ আছে, কালোজাদু বা শয়তানি প্রভাব অনেক সময় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাদ ও বিচ্ছেদ সৃষ্টি করে। এ ধরনের বিষয় বাইরের চোখে ধরা না পড়লেও ভেতরে ভেতরে সম্পর্ক নষ্ট করে দেয়।
তৃতীয়ত, দ্বীনদার জীবনচর্চার অভাব, পারস্পরিক অধিকার রক্ষায় গাফিলতি এবং একে অপরকে সম্মান না করা—এসব কারণে অনেক সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
এছাড়া পারিবারিক চাপে অনিচ্ছাকৃত বিয়ে, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, কিংবা অপরিণত বয়সে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়াও ডিভোর্স বৃদ্ধির বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।
তবে ইসলাম সব তালাককে গুনাহ মনে করে না। বরং নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে তালাককে বৈধ ও প্রয়োজনীয় পথ হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে। যখন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সমঝোতা ও সংশোধনের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়, তখন তালাক হতে পারে এক ধরনের মুক্তির পথ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টেকসই বৈবাহিক সম্পর্কের জন্য প্রয়োজন:
* দ্বীনদার ও নীতিবান জীবনসঙ্গী নির্বাচন,
* ইসলামি বিধান মেনে বিবাহ সম্পাদন,
* এবং দাম্পত্য জীবনে সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখা।
তালাকের হার কমাতে হলে পারিবারিক শিক্ষার প্রসার, ধর্মীয় অনুশাসনের চর্চা এবং সচেতন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি।
আশা/

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর মুসলমানদের মধ্যে কুরবানি নিয়ে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা দেখা যায়। বিশেষ করে যৌথ পরিবারে বসবাসকারীদের মধ্যে একটি প্রচলিত ধারণা হলো, পরিবারের একজন সদস্য, বিশেষ করে পরিবারের প্রধান ব্যক্তি কুরবানি দিলেই পুরো পরিবারের পক্ষ থেকে দায়িত্ব আদায় হয়ে যায়। কিন্তু ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি ভিন্ন।
১ দিন আগে

প্রত্যেক প্রাণীকেই একদিন এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী ছেড়ে চিরস্থায়ী জীবনের পথে যাত্রা করতে হবে এটাই মানবজীবনের চিরন্তন বাস্তবতা। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন: প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। আর কিয়ামতের দিন তোমাদের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে। যে ব্যক্তি জাহান্নাম থেকে রক্ষা পেয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে, সেই-ই প্রকৃত সফল। আর পার্থিব জীবন শুধুই ছলনার বস্তু।
২ মে ২০২৬

ঈদুল ফিতরের আনন্দ-উৎসব শেষ না হতেই মুসলিম বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহার প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে শুরু হয়েছে আগাম আলোচনা ও অপেক্ষা। এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ আরব আমিরাত ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছে, যার ভিত্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য তারিখ নিয়েও ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।
২১ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু। মধ্যপ্রাচ্যের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এই প্রণালী দিয়েই বিশ্ববাজারে প্রবেশ করে।
১৯ এপ্রিল ২০২৬

মানুষের জীবনে প্রতিদিনের ব্যস্ততা ও দুশ্চিন্তার মাঝেও আত্মিক শান্তির সন্ধান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম আমাদের শেখায়, দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করা যায়।
১৮ এপ্রিল ২০২৬

রোগ মানুষের জীবনের এমন এক অধ্যায়, যা কখনোই পুরোপুরি এড়ানো যায় না। শরীর অসুস্থ হলে শুধু দেহ নয়, মনও ভেঙে পড়ে। এই দুর্বল মুহূর্তেই একজন মানুষ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বোধ করে আশ্রয়, সান্ত্বনা এবং আল্লাহর রহমতের।
১৬ এপ্রিল ২০২৬

জীবনে মানুষের চাহিদা ও প্রয়োজন কখনোই শেষ হয় না। অভাব ও লোভের চাপ অনেক সময় মানুষকে হালাল-হারামের সীমা ভুলিয়ে দেয়। কিন্তু ইসলামে একজন মুমিনকে শেখানো হয়েছে, সে যেন সবসময় পবিত্র ও বরকতময় রিজিকের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করে।
১০ এপ্রিল ২০২৬

মুসলমানদের জন্য জুমার দিন শুধু সাপ্তাহিক দিবস নয় এটি বরকত, রহমত ও নূরে পরিপূর্ণ এক মহান দিন। এই দিনের প্রতিটি মুহূর্ত আল্লাহর মেহেরবানির ছায়ায় ঢাকা। আর সেই বিশেষ দিনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আমল হলো সুরা কাহাফ তিলাওয়াত।
১০ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: পবিত্র রমজান মাসের এক মাস সিয়াম সাধনার পর যখন শাওয়ালের চাঁদ দেখা যায়, তখন মুসলিম বিশ্বের হৃদয়ে নেমে আসে আনন্দ, প্রশান্তি ও কৃতজ্ঞতার আবহ। সেই আনন্দকে পূর্ণতা দেয় পবিত্র ঈদুল ফিতরের দুই রাকাত নামাজ। মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হিসেবে ঈদের নামাজ মুসলিম সমাজে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
২১ মার্চ ২০২৬