
নিজস্ব প্রতিবেদক: অনেকের মনে এমন প্রশ্ন জাগে—যদি অধিকাংশ মানুষ জাহান্নামে যাবে, তবে পরম দয়ালু আল্লাহ কেন তাদের সৃষ্টি করলেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে আমাদের আগে বুঝতে হবে সৃষ্টির উদ্দেশ্য, আল্লাহর হিকমত (জ্ঞান ও প্রজ্ঞা), এবং তাঁর ন্যায়বিচার।
১. সৃষ্টির উদ্দেশ্য: পরীক্ষা
আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন পরীক্ষা নেওয়ার জন্য—কে তাঁর নির্দেশ মেনে চলে, আর কে নয়। কুরআনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে:
“তিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন, যাতে তিনি পরীক্ষা করতে পারেন, তোমাদের মধ্যে কে উত্তম কাজ করে।” (সূরা আল-মুলক: আয়াত ২)
এ দুনিয়া হলো পরীক্ষার ময়দান, আর জান্নাত বা জাহান্নাম তার চূড়ান্ত ফলাফল।
২. মানুষ নিজের পথ নিজেই বেছে নেয়
আল্লাহ কাউকে জোর করে জাহান্নামে পাঠান না। মানুষ নিজেই নিজের কর্ম, চিন্তা ও পছন্দ দ্বারা নিজের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে। আল্লাহ সৎ ও ভুল—উভয় পথ মানুষের সামনে খুলে দিয়েছেন এবং দিয়েছেন বিবেক, কুরআন, ও রাসূলের দিকনির্দেশনা।
৩. আল্লাহর দয়া সীমাহীন
এক হাদীসে বলা হয়েছে, আল্লাহ তাঁর দয়ার শতভাগের মধ্যে দুনিয়ায় মাত্র এক ভাগ প্রকাশ করেছেন—যার কারণে মা সন্তানের প্রতি স্নেহবতী হন, পশুপাখিও নিজের বাচ্চাকে রক্ষা করে। বাকি ৯৯ ভাগ দয়া তিনি সংরক্ষণ করেছেন আখিরাতের জন্য। এই দয়ার কারণে বহু গোনাহগার ক্ষমা পাবে এবং কেউ কেউ জাহান্নাম থেকে মুক্তিও পাবে।
৪. ‘অধিকাংশ’ মানেই নির্ধারিত নয়
কুরআনে অনেক সময় ‘অধিকাংশ মানুষ পথভ্রষ্ট’ বলা হয়েছে সতর্কবার্তার অংশ হিসেবে। এটা সংখ্যাগত কোনো চূড়ান্ত পরিণতি নয়, বরং মানুষ যেন সচেতন হয়, উদাসীন না হয়, এবং নিজের পথ বেছে নিতে পারে সেই সুযোগ দেওয়ার মাধ্যম।
৫. ন্যায়বিচার ও প্রতিদান: জান্নাত ও জাহান্নাম
জাহান্নাম আল্লাহর ন্যায়বিচারের প্রকাশ, আর জান্নাত হলো তাঁর দয়া ও পুরস্কারের নিদর্শন। যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তারা জান্নাতে যাবে। যারা ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যায় ও গাফিলিতে ডুবে থাকবে, তারা নিজের কর্মফলের মুখোমুখি হবে।
আল্লাহ জানেন কে হেদায়েত গ্রহণ করবে আর কে করবে না। কিন্তু কাউকে তিনি বাধ্য করেন না। মানুষকে জ্ঞান, বিবেক ও ইচ্ছাশক্তি দিয়ে আল্লাহ স্বাধীনতা দিয়েছেন, যেন তারা নিজ দায়িত্বে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
এই প্রশ্ন আমাদের চিন্তাশীল হতে শেখায়। আমাদের দায়িত্ব হলো নিজেকে সেই ‘অধিকাংশের’ তালিকা থেকে রক্ষা করা, যারা গাফেল ও অবাধ্য। আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হবে যেন তিনি আমাদের হেদায়েত দেন, সঠিক পথে পরিচালিত করেন এবং তাঁর দয়ার ছায়ায় রাখেন।

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর মুসলমানদের মধ্যে কুরবানি নিয়ে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা দেখা যায়। বিশেষ করে যৌথ পরিবারে বসবাসকারীদের মধ্যে একটি প্রচলিত ধারণা হলো, পরিবারের একজন সদস্য, বিশেষ করে পরিবারের প্রধান ব্যক্তি কুরবানি দিলেই পুরো পরিবারের পক্ষ থেকে দায়িত্ব আদায় হয়ে যায়। কিন্তু ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি ভিন্ন।
১ দিন আগে

প্রত্যেক প্রাণীকেই একদিন এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী ছেড়ে চিরস্থায়ী জীবনের পথে যাত্রা করতে হবে এটাই মানবজীবনের চিরন্তন বাস্তবতা। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন: প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। আর কিয়ামতের দিন তোমাদের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে। যে ব্যক্তি জাহান্নাম থেকে রক্ষা পেয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে, সেই-ই প্রকৃত সফল। আর পার্থিব জীবন শুধুই ছলনার বস্তু।
২ মে ২০২৬

ঈদুল ফিতরের আনন্দ-উৎসব শেষ না হতেই মুসলিম বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহার প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে শুরু হয়েছে আগাম আলোচনা ও অপেক্ষা। এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ আরব আমিরাত ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছে, যার ভিত্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য তারিখ নিয়েও ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।
২১ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু। মধ্যপ্রাচ্যের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এই প্রণালী দিয়েই বিশ্ববাজারে প্রবেশ করে।
১৯ এপ্রিল ২০২৬

মানুষের জীবনে প্রতিদিনের ব্যস্ততা ও দুশ্চিন্তার মাঝেও আত্মিক শান্তির সন্ধান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম আমাদের শেখায়, দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করা যায়।
১৮ এপ্রিল ২০২৬

রোগ মানুষের জীবনের এমন এক অধ্যায়, যা কখনোই পুরোপুরি এড়ানো যায় না। শরীর অসুস্থ হলে শুধু দেহ নয়, মনও ভেঙে পড়ে। এই দুর্বল মুহূর্তেই একজন মানুষ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বোধ করে আশ্রয়, সান্ত্বনা এবং আল্লাহর রহমতের।
১৬ এপ্রিল ২০২৬

জীবনে মানুষের চাহিদা ও প্রয়োজন কখনোই শেষ হয় না। অভাব ও লোভের চাপ অনেক সময় মানুষকে হালাল-হারামের সীমা ভুলিয়ে দেয়। কিন্তু ইসলামে একজন মুমিনকে শেখানো হয়েছে, সে যেন সবসময় পবিত্র ও বরকতময় রিজিকের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করে।
১০ এপ্রিল ২০২৬

মুসলমানদের জন্য জুমার দিন শুধু সাপ্তাহিক দিবস নয় এটি বরকত, রহমত ও নূরে পরিপূর্ণ এক মহান দিন। এই দিনের প্রতিটি মুহূর্ত আল্লাহর মেহেরবানির ছায়ায় ঢাকা। আর সেই বিশেষ দিনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আমল হলো সুরা কাহাফ তিলাওয়াত।
১০ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: পবিত্র রমজান মাসের এক মাস সিয়াম সাধনার পর যখন শাওয়ালের চাঁদ দেখা যায়, তখন মুসলিম বিশ্বের হৃদয়ে নেমে আসে আনন্দ, প্রশান্তি ও কৃতজ্ঞতার আবহ। সেই আনন্দকে পূর্ণতা দেয় পবিত্র ঈদুল ফিতরের দুই রাকাত নামাজ। মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হিসেবে ঈদের নামাজ মুসলিম সমাজে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
২১ মার্চ ২০২৬