
নিজস্ব প্রতিবেদক: নারীর জন্য ইসলাম যেভাবে পর্দা নির্দেশ করেছে, তা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে— গায়রে মাহরাম (অপরিচিত পুরুষ) এর সামনে মুখ খোলা রেখে কি বাইরে যাওয়া জায়েজ? শরীরের অন্যান্য অংশ পর্দায় ঢেকে থাকলেও মুখ খোলা রাখা কি ইসলামী পর্দার পরিপূর্ণতা বজায় রাখে?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে প্রথমে বুঝতে হবে, ইসলামে নারীর পর্দার সীমানা কী এবং কী উদ্দেশ্যে এই বিধান এসেছে।
পবিত্র কুরআনের সূরা আন-নূরের ৩১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:“তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তবে যা অনিবার্যভাবে প্রকাশ পায়, তা ছাড়া।”(সূরা আন-নূর: ৩১)
এই আয়াতের "যা অনিবার্যভাবে প্রকাশ পায়" অংশটি নিয়ে ইসলামি পণ্ডিতদের মধ্যে কিছুটা মতপার্থক্য রয়েছে। অনেক মুফাসসির বলেন, এই অংশের অর্থ হলো, নারীর বাইরের কাপড় বা এমন কিছু যা ঢাকতেই দৃশ্যমান হয়— যেমন ওড়না বা চাদর। কেউ কেউ এর ব্যাখ্যায় বলেন, হাতের তালু ও মুখমণ্ডল এখানে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
তবে অধিকাংশ ফিকহবিদ, বিশেষ করে হানাফি, মালিকি, শাফিঈ ও হাম্বলি মাযহাবের বহু সম্মানিত আলেম বলেন, নারীর মুখমণ্ডলও পর্দার অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত— বিশেষ করে যখন সম্ভাব্য ফিতনার আশঙ্কা থাকে।
আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে উল্লেখ আছে, তিনি বলেন—“আমরা যখন হজ্বের সফরে ছিলাম, তখন গায়রে মাহরাম কেউ সামনে আসলে আমরা মাথার কাপড় টেনে মুখ ঢেকে নিতাম।”(আবু দাউদ, হাদিস: ১৮৩৩)
এই বিবরণ থেকে বোঝা যায়, সাহাবিয়াগণ বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতেন। মুখ খোলা রাখা জায়েজ হলে তাঁরা আলাদাভাবে মুখ ঢাকার প্রয়োজন অনুভব করতেন না।
তবে কিছু ওলামায়ে কেরাম মত দিয়েছেন, মুখ ঢাকার নির্দেশনা ফরজ নয়, বরং মুস্তাহাব বা উত্তম। তাদের মতে, মুখ খোলা রাখা জায়েজ, যদি তা ফিতনার আশঙ্কা ছাড়াই হয়। তবে মুখ খোলা রাখা মানে এটি সাজিয়ে-গুজিয়ে উপস্থাপন করা নয়। আকর্ষণীয় মেকআপ, জুয়েলারি বা বিশেষ ভঙ্গিতে মুখ প্রকাশ করাকে ইসলামী পর্দার অন্তর্ভুক্ত হিসেবে কেউই সমর্থন করেন না।
আধুনিক যুগে অনেক হিজাব বা নিকাব এমনভাবে পরা হয়, যেখানে মুখ না ঢাকলেও চেহারাকে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা হয়। এটি ইসলামের মূল উদ্দেশ্য— ‘নম্রতা, লজ্জাশীলতা ও চোখ নত রাখা’র সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
বিশ্বের বহু সম্মানিত ইসলামি স্কলার ও মুফতি মনে করেন, বর্তমান যুগের সামাজিক ও প্রযুক্তিগত বাস্তবতায় নারীর মুখ ঢেকে রাখা নিরাপত্তার জন্য যেমন উপকারী, তেমনি তাকওয়ার প্রতিফলনও বটে। কেননা আজকের সময়ে চেহারাই নারীর সবচেয়ে বেশি মনোযোগ আকর্ষণ করে।
সারসংক্ষেপে বলা যায়, মুখ ঢাকার বিষয়ে ফিকহবিদদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও অধিকাংশ আলেমের মতে, বিশেষ করে ফিতনার আশঙ্কা থাকলে, মুখ ঢাকাই শ্রেয়। এটি শুধু শরিয়তের দৃষ্টিতে নিরাপদ নয়, বরং আত্মরক্ষার ও আত্মমর্যাদার প্রতীকও।
সুতরাং একজন মুসলিম নারীর জন্য উত্তম হলো— শরীরের অন্যান্য অংশের মতো মুখমণ্ডলও ঢেকে রাখা। এটি কোনো বাধ্যবাধকতা না হলেও, বর্তমান বাস্তবতায় এটি অধিকতর নিরাপদ ও সতর্কতার পরিচায়ক।
আশা/

ইমানের পর ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো সালাত বা নামাজ। নামাজ ইসলামের প্রাণ এবং একজন মুমিনের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ আদায়ের পাশাপাশি ইসলামী শরিয়তে বিভিন্ন নফল নামাজ আদায়েরও বিধান রয়েছে।
২ দিন আগে

মুসলমানদের কাছে জুমার দিন সপ্তাহের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ দিন। এ দিনকে ঘিরে রয়েছে বিশেষ কিছু ইবাদত ও আমল। এর মধ্যে অন্যতম হলো বেশি বেশি দোয়া করা। হাদিসে জুমার দিনের এমন একটি বিশেষ সময়ের কথা বর্ণিত হয়েছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কল্যাণকর কিছু চাইলে আল্লাহ তাকে তা দান করেন। তবে সেই বিশেষ সময়টি দিনের ঠিক কোন অংশ—এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে একাধিক মত রয়েছে।
২৮ আগস্ট ২০২৬

ইমানের পর একজন মুমিনের জন্য ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ আমল হলো নামাজ। একজন মুমিন ও কাফেরের মধ্যে বড় পার্থক্যগুলোর একটি হলো নামাজ। নিয়মিত নামাজ মানুষকে দুনিয়ার বিভিন্ন খারাপ ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
২১ আগস্ট ২০২৬

চলতি বছরটি শেষ হওয়ার আগেই আগামী ২০২৭ সালের (১৪৪৮ হিজরি) পবিত্র রমজান মাস এবং ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে মুসলিম বিশ্বের পাশাপাশি দেশের সাধারণ মানুষের মাঝেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল ও আগ্রহ। মধ্যপ্রাচ্যের জ্যোতির্বিজ্ঞান ভিত্তিক গবেষণা এবং প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৭ সালে পবিত্র রমজান মাস শুরুর সম্ভাব্য তারিখ এবং দুই ঈদের মূল কাঠামো কেমন হতে পারে, সে বিষয়ে একটি প্রাথমিক ধারণা পাওয়া গেছে।
৩০ জুলাই ২০২৬

দিনভর ব্যস্ততা, কর্মজীবনের চাপ আর নানা দুশ্চিন্তার পর রাতের ঘুমই হয়ে ওঠে মানুষের সবচেয়ে বড় প্রশান্তির সময়। কিন্তু অনেকেই ঘুমানোর আগে সময় কাটান মোবাইল ফোনে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিংবা অপ্রয়োজনীয় কাজে। অথচ ইসলাম একজন মুমিনের জন্য ঘুমানোর আগেও রেখে দিয়েছে সহজ কিন্তু অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি আমল, যা পালন করতে সময় লাগে মাত্র এক মিনিট।
১৮ জুন ২০২৬

পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ শুধু জীবদ্দশায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং তাদের মৃত্যুর পরও এই দায়িত্ব অব্যাহত রাখার নির্দেশনা এসেছে হাদিসে।
১ জুন ২০২৬

মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে আনন্দের দিনগুলোর একটি ঈদুল আজহা। ত্যাগ, আনুগত্য ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের শিক্ষা নিয়ে প্রতি বছর জিলহজ মাসের ১০ তারিখে আসে কোরবানির এই ঈদ। এই দিনটিকে ঘিরে মুসলমানদের মধ্যে থাকে বিশেষ প্রস্তুতি, আর দিনের শুরু হয় ঈদের নামাজের মাধ্যমে।
২৭ মে ২০২৬

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর মুসলমানদের মধ্যে কুরবানি নিয়ে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা দেখা যায়। বিশেষ করে যৌথ পরিবারে বসবাসকারীদের মধ্যে একটি প্রচলিত ধারণা হলো, পরিবারের একজন সদস্য, বিশেষ করে পরিবারের প্রধান ব্যক্তি কুরবানি দিলেই পুরো পরিবারের পক্ষ থেকে দায়িত্ব আদায় হয়ে যায়। কিন্তু ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি ভিন্ন।
২২ মে ২০২৬

প্রত্যেক প্রাণীকেই একদিন এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী ছেড়ে চিরস্থায়ী জীবনের পথে যাত্রা করতে হবে এটাই মানবজীবনের চিরন্তন বাস্তবতা। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন: প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। আর কিয়ামতের দিন তোমাদের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে। যে ব্যক্তি জাহান্নাম থেকে রক্ষা পেয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে, সেই-ই প্রকৃত সফল। আর পার্থিব জীবন শুধুই ছলনার বস্তু।
২ মে ২০২৬