
নিজস্ব প্রতিবেদক: কোরবানি ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেন,
"তোমার প্রভুর জন্য নামাজ পড়ো এবং কোরবানি করো।" (সুরা কাউসার: আয়াত ২)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যার কোরবানির সামর্থ্য থাকার পরও সে তা করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে।" (ইবনে মাজাহ: হাদিস ৩১২৩)
কোরবানি শুধু পশু জবাই নয়—এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের একটি বিশেষ উপায়। হাদিসে এসেছে, কিয়ামতের দিন কোরবানির পশু হাজির করা হবে তার শিং, খুর এবং পশমসহ। এমনকি পশুর রক্ত মাটিতে পড়ার আগেই তা আল্লাহর কাছে পৌঁছে যায়। (তিরমিজি: ১৩৯১)
কার জন্য কোরবানি ওয়াজিব?
যে মুসলমান প্রয়োজনীয় খরচ মিটিয়ে অতিরিক্ত পরিমাণ সম্পদের মালিক, তার ওপর কোরবানি করা আবশ্যক। এটি নামাজের মতোই—সামর্থ্য থাকলে করতে হবে।
কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য ‘নিসাব’ পরিমাণ সম্পদের মালিক হতে হয়। নিসাব নির্ধারিত হয় দুটি উপায়ে:
স্বর্ণের হিসাবে: সাড়ে ৭ ভরি (তোলা) স্বর্ণ বা তার সমমূল্যের সম্পদ। উদাহরণস্বরূপ, যদি প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম হয় ১,৭২,৫৪৫ টাকা, তাহলে সাড়ে ৭ ভরির মোট মূল্য হবে প্রায় ১২ লাখ ৯৪ হাজার টাকা।
রুপার হিসাবে: সাড়ে ৫২ ভরি রুপা বা তার সমমূল্য। এই হিসাবে কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য সর্বনিম্ন সম্পদের পরিমাণ হতে পারে ৮২ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা।
কবে এই সম্পদের মালিক হতে হবে?
ঈদুল আজহার সময়, অর্থাৎ জিলহজ মাসের ১০, ১১ বা ১২ তারিখে যদি কেউ প্রয়োজন মিটিয়ে এই নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, তাহলে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে। এই সম্পদ এক বছর ধরে মালিকানায় থাকা শর্ত নয়—ঐ সময়ে মালিক হলেই যথেষ্ট।
ফিকাহ গ্রন্থ 'রদ্দুল মুহতার'-এ বলা হয়েছে: প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ-সামর্থ্যবান, মুসলিম, ঋণমুক্ত, এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক—তার জন্য কোরবানি করা ফরজ। তা না করলে সে গোনাহগার হবে।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই মহান ইবাদত যথাযথভাবে পালন করার তাওফিক দিন। আমিন।
গণি/

দাম্পত্য জীবনে নানা কারণে টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন বিরোধ চলতে থাকলে এবং পারস্পরিকভাবে তা সমাধানের কোনো পথ খুঁজে পাওয়া না গেলে ইসলামে বিবাহবিচ্ছেদের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে বিচ্ছেদকে সহজ বা প্রথম সমাধান হিসেবে গ্রহণ না করে সম্ভব হলে দাম্পত্য সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য উদ্যোগ নেওয়ার প্রতি কোরআন ও হাদিসে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
২০ মিনিট আগে

ইমানের পর ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো সালাত বা নামাজ। নামাজ ইসলামের প্রাণ এবং একজন মুমিনের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ আদায়ের পাশাপাশি ইসলামী শরিয়তে বিভিন্ন নফল নামাজ আদায়েরও বিধান রয়েছে।
২ দিন আগে

মুসলমানদের কাছে জুমার দিন সপ্তাহের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ দিন। এ দিনকে ঘিরে রয়েছে বিশেষ কিছু ইবাদত ও আমল। এর মধ্যে অন্যতম হলো বেশি বেশি দোয়া করা। হাদিসে জুমার দিনের এমন একটি বিশেষ সময়ের কথা বর্ণিত হয়েছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কল্যাণকর কিছু চাইলে আল্লাহ তাকে তা দান করেন। তবে সেই বিশেষ সময়টি দিনের ঠিক কোন অংশ—এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে একাধিক মত রয়েছে।
২৮ আগস্ট ২০২৬

ইমানের পর একজন মুমিনের জন্য ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ আমল হলো নামাজ। একজন মুমিন ও কাফেরের মধ্যে বড় পার্থক্যগুলোর একটি হলো নামাজ। নিয়মিত নামাজ মানুষকে দুনিয়ার বিভিন্ন খারাপ ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
২১ আগস্ট ২০২৬

চলতি বছরটি শেষ হওয়ার আগেই আগামী ২০২৭ সালের (১৪৪৮ হিজরি) পবিত্র রমজান মাস এবং ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে মুসলিম বিশ্বের পাশাপাশি দেশের সাধারণ মানুষের মাঝেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল ও আগ্রহ। মধ্যপ্রাচ্যের জ্যোতির্বিজ্ঞান ভিত্তিক গবেষণা এবং প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৭ সালে পবিত্র রমজান মাস শুরুর সম্ভাব্য তারিখ এবং দুই ঈদের মূল কাঠামো কেমন হতে পারে, সে বিষয়ে একটি প্রাথমিক ধারণা পাওয়া গেছে।
৩০ জুলাই ২০২৬

দিনভর ব্যস্ততা, কর্মজীবনের চাপ আর নানা দুশ্চিন্তার পর রাতের ঘুমই হয়ে ওঠে মানুষের সবচেয়ে বড় প্রশান্তির সময়। কিন্তু অনেকেই ঘুমানোর আগে সময় কাটান মোবাইল ফোনে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিংবা অপ্রয়োজনীয় কাজে। অথচ ইসলাম একজন মুমিনের জন্য ঘুমানোর আগেও রেখে দিয়েছে সহজ কিন্তু অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি আমল, যা পালন করতে সময় লাগে মাত্র এক মিনিট।
১৮ জুন ২০২৬

পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ শুধু জীবদ্দশায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং তাদের মৃত্যুর পরও এই দায়িত্ব অব্যাহত রাখার নির্দেশনা এসেছে হাদিসে।
১ জুন ২০২৬

মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে আনন্দের দিনগুলোর একটি ঈদুল আজহা। ত্যাগ, আনুগত্য ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের শিক্ষা নিয়ে প্রতি বছর জিলহজ মাসের ১০ তারিখে আসে কোরবানির এই ঈদ। এই দিনটিকে ঘিরে মুসলমানদের মধ্যে থাকে বিশেষ প্রস্তুতি, আর দিনের শুরু হয় ঈদের নামাজের মাধ্যমে।
২৭ মে ২০২৬

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর মুসলমানদের মধ্যে কুরবানি নিয়ে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা দেখা যায়। বিশেষ করে যৌথ পরিবারে বসবাসকারীদের মধ্যে একটি প্রচলিত ধারণা হলো, পরিবারের একজন সদস্য, বিশেষ করে পরিবারের প্রধান ব্যক্তি কুরবানি দিলেই পুরো পরিবারের পক্ষ থেকে দায়িত্ব আদায় হয়ে যায়। কিন্তু ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি ভিন্ন।
২২ মে ২০২৬