
ইসলামে ছেলের বিয়ের জন্য নির্দিষ্ট কোনো বয়স নির্ধারণ করা হয়নি। বরং, কিছু শর্ত ও নির্দেশনার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মূল বিষয়গুলো হলো:
* প্রাপ্তবয়স্কতা (বালেগ হওয়া): ছেলে ও মেয়ে উভয়কেই শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে। সাধারণত, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া বলতে বয়ঃসন্ধি লাভ করাকে বোঝানো হয়। তবে, শুধু শারীরিক প্রাপ্তবয়স্কতা নয়, বরং সাংসারিক জীবনের দায়িত্ব পালনের জন্য মানসিক পরিপক্বতাও জরুরি।
* সামর্থ্য: বিয়ের জন্য আর্থিক ও শারীরিক সামর্থ্য থাকা গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন আছে, তাদের বিবাহ সম্পাদন করে দাও। তারা যদি নিঃস্ব হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে সচ্ছল করে দিবেন" (সূরা নূর ২৪/৩২)। হাদিসেও বলা হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "হে যুবসমাজ! তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহের সামর্থ্য রাখে, তাদের বিবাহ করা কর্তব্য।" (বুখারী ৫০৬৫; মুসলিম ১৪০০)। এই সামর্থ্য বলতে শুধু আর্থিক সামর্থ্য নয়, বরং স্ত্রীর হক আদায় এবং পরিবারের দায়িত্ব পালনের সক্ষমতাও বোঝায়।
* যৌবনের পবিত্রতা রক্ষা: ইসলামে যুবক-যুবতীদেরকে যথাসম্ভব দ্রুত বিয়ে করার উৎসাহিত করা হয়েছে, যাতে তারা অন্যায় ও পাপ কাজ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারে।
* পিতা-মাতার দায়িত্ব: সন্তানেরা প্রাপ্তবয়স্ক হলে এবং তাদের মধ্যে অসৎকর্মে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকলে, বাবা-মায়ের উচিত তাদের দ্রুত বিয়ের ব্যবস্থা করা। হাদিসে এসেছে, "তোমাদের মাঝে যার কোনো (পুত্র বা কন্যা) সন্তান জন্ম হয় সে যেন তার সুন্দর নাম রাখে এবং তাকে উত্তম আদব কায়দা শিক্ষা দেয়; যখন সে বালেগ অর্থাৎ সাবালক/সাবালিকা হয়, তখন যেন তার বিয়ে দেয়; যদি সে বালেগ হয় এবং তার বিয়ে না দেয় তাহলে, সে কোনো পাপ করলে উক্ত পাপের দায়ভার তার পিতার উপর বর্তাবে।" (বাইহাকি ৮১৪৫)।
যদিও ইসলামে নির্দিষ্ট কোনো বয়স সীমা নেই, তবে আধুনিক সমাজে কিছু আইনগত বয়স সীমা নির্ধারিত থাকে (যেমন বাংলাদেশের আইনে ছেলেদের জন্য ২১ বছর)। এই আইনগত বিষয়গুলোও বিবেচ্য।
সংক্ষেপে, ইসলামের দৃষ্টিতে ছেলের বিয়ের সঠিক বয়স হলো যখন সে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিবাহিত জীবনের দায়িত্ব পালনে সক্ষম হয় এবং আর্থিক সামর্থ্য অর্জন করে।

দিনভর ব্যস্ততা, কর্মজীবনের চাপ আর নানা দুশ্চিন্তার পর রাতের ঘুমই হয়ে ওঠে মানুষের সবচেয়ে বড় প্রশান্তির সময়। কিন্তু অনেকেই ঘুমানোর আগে সময় কাটান মোবাইল ফোনে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিংবা অপ্রয়োজনীয় কাজে। অথচ ইসলাম একজন মুমিনের জন্য ঘুমানোর আগেও রেখে দিয়েছে সহজ কিন্তু অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি আমল, যা পালন করতে সময় লাগে মাত্র এক মিনিট।
৫ দিন আগে

পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ শুধু জীবদ্দশায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং তাদের মৃত্যুর পরও এই দায়িত্ব অব্যাহত রাখার নির্দেশনা এসেছে হাদিসে।
১ জুন ২০২৬

মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে আনন্দের দিনগুলোর একটি ঈদুল আজহা। ত্যাগ, আনুগত্য ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের শিক্ষা নিয়ে প্রতি বছর জিলহজ মাসের ১০ তারিখে আসে কোরবানির এই ঈদ। এই দিনটিকে ঘিরে মুসলমানদের মধ্যে থাকে বিশেষ প্রস্তুতি, আর দিনের শুরু হয় ঈদের নামাজের মাধ্যমে।
২৭ মে ২০২৬

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর মুসলমানদের মধ্যে কুরবানি নিয়ে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা দেখা যায়। বিশেষ করে যৌথ পরিবারে বসবাসকারীদের মধ্যে একটি প্রচলিত ধারণা হলো, পরিবারের একজন সদস্য, বিশেষ করে পরিবারের প্রধান ব্যক্তি কুরবানি দিলেই পুরো পরিবারের পক্ষ থেকে দায়িত্ব আদায় হয়ে যায়। কিন্তু ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি ভিন্ন।
২২ মে ২০২৬

প্রত্যেক প্রাণীকেই একদিন এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী ছেড়ে চিরস্থায়ী জীবনের পথে যাত্রা করতে হবে এটাই মানবজীবনের চিরন্তন বাস্তবতা। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন: প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। আর কিয়ামতের দিন তোমাদের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে। যে ব্যক্তি জাহান্নাম থেকে রক্ষা পেয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে, সেই-ই প্রকৃত সফল। আর পার্থিব জীবন শুধুই ছলনার বস্তু।
২ মে ২০২৬

ঈদুল ফিতরের আনন্দ-উৎসব শেষ না হতেই মুসলিম বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহার প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে শুরু হয়েছে আগাম আলোচনা ও অপেক্ষা। এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ আরব আমিরাত ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছে, যার ভিত্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য তারিখ নিয়েও ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।
২১ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু। মধ্যপ্রাচ্যের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এই প্রণালী দিয়েই বিশ্ববাজারে প্রবেশ করে।
১৯ এপ্রিল ২০২৬

মানুষের জীবনে প্রতিদিনের ব্যস্ততা ও দুশ্চিন্তার মাঝেও আত্মিক শান্তির সন্ধান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম আমাদের শেখায়, দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করা যায়।
১৮ এপ্রিল ২০২৬

রোগ মানুষের জীবনের এমন এক অধ্যায়, যা কখনোই পুরোপুরি এড়ানো যায় না। শরীর অসুস্থ হলে শুধু দেহ নয়, মনও ভেঙে পড়ে। এই দুর্বল মুহূর্তেই একজন মানুষ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বোধ করে আশ্রয়, সান্ত্বনা এবং আল্লাহর রহমতের।
১৬ এপ্রিল ২০২৬