
নিজস্ব প্রতিবেদক: বর্তমানে অনেক বাবা-মাকে বলতে শোনা যায়—“আমি তাকে ত্যাজ্য করেছি”, “সে আমার সন্তান নয়”, কিংবা “সে আমার কোনো সম্পত্তি পাবে না।” অনেক সময় রাগ, হতাশা বা পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে এমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ইসলাম কি এ ধরনের আচরণ অনুমোদন করে?
ইসলামের দৃষ্টিতে ‘ত্যাজ্যপুত্র’ ঘোষণা করার কোনো ভিত্তি নেই। সন্তান যদি ইসলাম ত্যাগ না করে বা কোনো গুরুতর অপরাধ না করে, তাহলে কেবল ব্যক্তিগত অসন্তুষ্টি বা মতভেদের কারণে তাকে সম্পর্কছিন্ন ঘোষণা করা শরিয়তসম্মত নয়। বরং এটি অন্যায় ও গুনাহের কাজ।
কুরআনে আল্লাহ বলেন, “তোমরা ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করো এবং ন্যায়ের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করো।” (সূরা নিসা, আয়াত ১৩৫)
সন্তান যতই পিতা-মাতার বিরুদ্ধে আচরণ করুক না কেন, সে তার পিতার সম্পত্তিতে শরিয়ত অনুযায়ী অধিকার রাখে। কোনো পিতা-মাতা এই বিধান পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখেন না।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, “আল্লাহর নির্ধারিত অংশকে (উত্তরাধিকার) পরিবর্তন করো না।” (সহীহ বুখারি ও মুসলিম)
শুধুমাত্র দুটি পরিস্থিতিতে কোনো সন্তান উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারে—একটি হলো ইসলাম ত্যাগ করা (মুরতাদ হওয়া), অন্যটি হলো পিতা-মাতার বিরুদ্ধে সরাসরি হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর অপরাধে লিপ্ত হওয়া।
কিন্তু কেবল মতবিরোধ, জীবনধারার পার্থক্য বা পারিবারিক সমস্যার কারণে কোনো সন্তানকে ত্যাজ্য করা ইসলাম সমর্থন করে না। এমন সিদ্ধান্ত পরিবারে বিভক্তি সৃষ্টি করে, সন্তানদের মানসিকভাবে দুর্বল করে এবং অনেক সময় তাদের ভুল পথে ঠেলে দেয়।
ইসলাম পিতা-মাতাকে সন্তানের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার নির্দেশ দেয়। সন্তানের ভুল দেখলে সম্পর্ক ছিন্ন করার পরিবর্তে দোয়া, সহানুভূতি ও সদুপদেশের মাধ্যমে তাকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনাই ইসলামের শিক্ষা।
ইসলামের মূলনীতি হলো—রাগ নয়, দয়া; অভিমান নয়, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান। সম্পর্ক ছিন্ন নয়, বরং সম্পর্ক টিকিয়ে রাখাই একজন মুসলিমের পরিচয়।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে হিকমত, সহনশীলতা ও সঠিক ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে জীবন পরিচালনার তাওফিক দিন। আমিন।
সোহাগ/

দিনভর ব্যস্ততা, কর্মজীবনের চাপ আর নানা দুশ্চিন্তার পর রাতের ঘুমই হয়ে ওঠে মানুষের সবচেয়ে বড় প্রশান্তির সময়। কিন্তু অনেকেই ঘুমানোর আগে সময় কাটান মোবাইল ফোনে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিংবা অপ্রয়োজনীয় কাজে। অথচ ইসলাম একজন মুমিনের জন্য ঘুমানোর আগেও রেখে দিয়েছে সহজ কিন্তু অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি আমল, যা পালন করতে সময় লাগে মাত্র এক মিনিট।
১৮ জুন ২০২৬

পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ শুধু জীবদ্দশায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং তাদের মৃত্যুর পরও এই দায়িত্ব অব্যাহত রাখার নির্দেশনা এসেছে হাদিসে।
১ জুন ২০২৬

মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে আনন্দের দিনগুলোর একটি ঈদুল আজহা। ত্যাগ, আনুগত্য ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের শিক্ষা নিয়ে প্রতি বছর জিলহজ মাসের ১০ তারিখে আসে কোরবানির এই ঈদ। এই দিনটিকে ঘিরে মুসলমানদের মধ্যে থাকে বিশেষ প্রস্তুতি, আর দিনের শুরু হয় ঈদের নামাজের মাধ্যমে।
২৭ মে ২০২৬

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর মুসলমানদের মধ্যে কুরবানি নিয়ে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা দেখা যায়। বিশেষ করে যৌথ পরিবারে বসবাসকারীদের মধ্যে একটি প্রচলিত ধারণা হলো, পরিবারের একজন সদস্য, বিশেষ করে পরিবারের প্রধান ব্যক্তি কুরবানি দিলেই পুরো পরিবারের পক্ষ থেকে দায়িত্ব আদায় হয়ে যায়। কিন্তু ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি ভিন্ন।
২২ মে ২০২৬

প্রত্যেক প্রাণীকেই একদিন এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী ছেড়ে চিরস্থায়ী জীবনের পথে যাত্রা করতে হবে এটাই মানবজীবনের চিরন্তন বাস্তবতা। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন: প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। আর কিয়ামতের দিন তোমাদের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে। যে ব্যক্তি জাহান্নাম থেকে রক্ষা পেয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে, সেই-ই প্রকৃত সফল। আর পার্থিব জীবন শুধুই ছলনার বস্তু।
২ মে ২০২৬

ঈদুল ফিতরের আনন্দ-উৎসব শেষ না হতেই মুসলিম বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহার প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে শুরু হয়েছে আগাম আলোচনা ও অপেক্ষা। এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ আরব আমিরাত ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছে, যার ভিত্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য তারিখ নিয়েও ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।
২১ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু। মধ্যপ্রাচ্যের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এই প্রণালী দিয়েই বিশ্ববাজারে প্রবেশ করে।
১৯ এপ্রিল ২০২৬

মানুষের জীবনে প্রতিদিনের ব্যস্ততা ও দুশ্চিন্তার মাঝেও আত্মিক শান্তির সন্ধান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম আমাদের শেখায়, দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করা যায়।
১৮ এপ্রিল ২০২৬

রোগ মানুষের জীবনের এমন এক অধ্যায়, যা কখনোই পুরোপুরি এড়ানো যায় না। শরীর অসুস্থ হলে শুধু দেহ নয়, মনও ভেঙে পড়ে। এই দুর্বল মুহূর্তেই একজন মানুষ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বোধ করে আশ্রয়, সান্ত্বনা এবং আল্লাহর রহমতের।
১৬ এপ্রিল ২০২৬