
নিজস্ব প্রতিবেদন: ইসলাম ধর্মে ‘তালাক’ মানে হলো বিবাহিত জীবনের বন্ধন ছিন্ন করা। এটি যেমন একটি ধর্মীয় বিধান, তেমনি সামাজিক ও আইনি বিষয়ও। মুসলিম পারিবারিক আইনে একজন পুরুষ নিজ ইচ্ছায়, কোনো শর্ত ছাড়াই স্ত্রীকে তালাক দিতে পারেন। কিন্তু একজন নারীর জন্য বিষয়টি এতটা সহজ নয়। স্বামীকে তালাক দেওয়ার ক্ষেত্রে তাকে নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়।
একজন মুসলিম স্ত্রী সরাসরি তালাক দিতে পারেন না, যদি না স্বামী আগেই তাঁকে এই অধিকার না দিয়ে থাকেন। এই বিশেষ অনুমতির নাম হলো ‘তালাক-ই-তাওফিজ’। এটি সাধারণত বিবাহের সময় কাবিননামার মাধ্যমে দেওয়া হয়। যদি এই অধিকার দেওয়া না থাকে, তাহলে স্ত্রীকে আদালতের মাধ্যমে বিচ্ছেদ চাইতে হয়।
নারীর আদালতের মাধ্যমে তালাক চাওয়ার কিছু বৈধ কারণ হতে পারে, যেমন:
১. স্বামী ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করছেন না
২. স্বামী শারীরিকভাবে অক্ষম
৩. স্বামী দীর্ঘদিন নিখোঁজ বা অনুপস্থিত
এমন পরিস্থিতিতে আদালত বিবাহ বিচ্ছেদ অনুমোদন করতে পারে। তবে এর জন্য প্রমাণসহ কারণ দেখাতে হয়।
তালাক-ই-তাওফিজ হলো সেই ক্ষমতা, যেখানে স্বামী স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার অধিকার দেন। এই অনুমতি শর্তযুক্ত অথবা শর্তহীন হতে পারে। অনেক সময় ভুল করে অনেকে মনে করেন এটি শুধু শর্তযুক্ত হতে পারে, কিন্তু ইসলামী বিধান অনুযায়ী স্বামী চাইলে এটি পুরোপুরি শর্তহীনভাবেও দিতে পারেন।
বিয়ের সময় কাবিননামার ১৮ নম্বর কলামটিতে উল্লেখ থাকে—স্বামী কি স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ক্ষমতা দিচ্ছেন কিনা। এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ, কিন্তু অনেক সময় তা ফাঁকা রাখা হয় বা গুরুত্ব না দিয়েই পূরণ করা হয়। এতে করে পরবর্তীকালে নারীরা সমস্যায় পড়েন।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, যদি কাবিননামায় লেখা থাকে যে স্বামী ভরণপোষণ না দিলে স্ত্রী তালাক দিতে পারবেন, কিন্তু স্বামী ভরণপোষণ ঠিকমতো দিলেও স্ত্রী যদি অন্যভাবে নির্যাতনের শিকার হন, তাহলে তিনি সরাসরি তালাক দিতে পারবেন না। তখন তাকে আদালতের মাধ্যমে বিচ্ছেদের আবেদন করতে হবে।
তাই বিয়ের সময় নারীদের উচিত কাবিননামার এই অংশটি ভালোভাবে বোঝা এবং স্বার্থ রক্ষার দৃষ্টিকোণ থেকে যথাযথভাবে পূরণ করা। যদি সেখানে বলা থাকে স্ত্রী শর্তহীনভাবে তালাক দিতে পারবেন, তাহলে ভবিষ্যতের অনেক জটিলতা এড়ানো সম্ভব।
তালাক-ই-তাওফিজ নিয়ে সমাজে এখনো অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। এই বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন, যাতে একজন মুসলিম নারী নিজের অধিকার সম্পর্কে সঠিকভাবে জানেন এবং প্রয়োজনে তা প্রয়োগ করতে পারেন।
সোহাগ/

ঈদুল ফিতরের আনন্দ-উৎসব শেষ না হতেই মুসলিম বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহার প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে শুরু হয়েছে আগাম আলোচনা ও অপেক্ষা। এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ আরব আমিরাত ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছে, যার ভিত্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য তারিখ নিয়েও ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।
২১ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু। মধ্যপ্রাচ্যের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এই প্রণালী দিয়েই বিশ্ববাজারে প্রবেশ করে।
১৯ এপ্রিল ২০২৬

মানুষের জীবনে প্রতিদিনের ব্যস্ততা ও দুশ্চিন্তার মাঝেও আত্মিক শান্তির সন্ধান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম আমাদের শেখায়, দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করা যায়।
১৮ এপ্রিল ২০২৬

রোগ মানুষের জীবনের এমন এক অধ্যায়, যা কখনোই পুরোপুরি এড়ানো যায় না। শরীর অসুস্থ হলে শুধু দেহ নয়, মনও ভেঙে পড়ে। এই দুর্বল মুহূর্তেই একজন মানুষ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বোধ করে আশ্রয়, সান্ত্বনা এবং আল্লাহর রহমতের।
১৬ এপ্রিল ২০২৬

জীবনে মানুষের চাহিদা ও প্রয়োজন কখনোই শেষ হয় না। অভাব ও লোভের চাপ অনেক সময় মানুষকে হালাল-হারামের সীমা ভুলিয়ে দেয়। কিন্তু ইসলামে একজন মুমিনকে শেখানো হয়েছে, সে যেন সবসময় পবিত্র ও বরকতময় রিজিকের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করে।
১০ এপ্রিল ২০২৬

মুসলমানদের জন্য জুমার দিন শুধু সাপ্তাহিক দিবস নয় এটি বরকত, রহমত ও নূরে পরিপূর্ণ এক মহান দিন। এই দিনের প্রতিটি মুহূর্ত আল্লাহর মেহেরবানির ছায়ায় ঢাকা। আর সেই বিশেষ দিনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আমল হলো সুরা কাহাফ তিলাওয়াত।
১০ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: পবিত্র রমজান মাসের এক মাস সিয়াম সাধনার পর যখন শাওয়ালের চাঁদ দেখা যায়, তখন মুসলিম বিশ্বের হৃদয়ে নেমে আসে আনন্দ, প্রশান্তি ও কৃতজ্ঞতার আবহ। সেই আনন্দকে পূর্ণতা দেয় পবিত্র ঈদুল ফিতরের দুই রাকাত নামাজ। মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হিসেবে ঈদের নামাজ মুসলিম সমাজে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
২১ মার্চ ২০২৬

রাকিব: পবিত্র মাহে রমজান ধীরে ধীরে বিদায়ের পথে। রহমত ও মাগফিরাতের পর এখন চলছে নাজাতের পর্ব রমজানের শেষ দশ দিন। ইসলামে এই সময়টিকে ইবাদত-বন্দেগির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
১০ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: বর্তমান বিশ্ব এক অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত ক্রমবর্ধমান, আর বিশ্বের নানা অঞ্চলে যুদ্ধের উত্তেজনা বাড়ছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এই পরিস্থিতি হাদিসে বর্ণিত শেষ জামানার মহাযুদ্ধ বা ‘মালহামা’-র আগাম সংকেত। বিশেষ করে ইরানের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান এবং সেখানে সংঘটিত সাম্প্রতিক ঘটনা ১৪০০ বছর আগের নবীর পূর্বাভাসের আলোকে নতুনভাবে আলোচিত হচ্ছে।
৩ মার্চ ২০২৬