
নিজস্ব প্রতিবেদক: ইসলামি শরিয়তে মোহরানা বা মোহর হচ্ছে বিবাহের সময় স্বামীর পক্ষ থেকে স্ত্রীর জন্য নির্ধারিত একটি আর্থিক অধিকার। এটি আদায় করা স্বামীর জন্য ফরজ বা অবশ্য পালনীয় দায়িত্ব। তবে স্ত্রী যদি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায়, কোনো চাপ ছাড়াই মোহর মাফ করে দেন, তাহলে তা বৈধ হিসেবে গণ্য হবে।
কোরআনের সূরা নিসার ৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “যদি স্ত্রী নিজ ইচ্ছায় মোহরের কিছু অংশ ছেড়ে দেয়, তবে তা আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করা যাবে।” তবে এ ক্ষেত্রে স্ত্রীকে প্ররোচিত করা, মানসিকভাবে চাপে ফেলা বা কৌশলে রাজি করানোর চেষ্টা শরিয়ত মতে হারাম এবং নিন্দনীয়।
এ ছাড়া ইসলামিক বিশেষজ্ঞরা আরও কিছু প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন, যা অনেকের মনে দ্বিধা তৈরি করে:
১. স্ত্রীর মোহরানা আদায় না করে মাফ চাওয়া বৈধ, তবে তা হতে হবে স্ত্রীর নিজস্ব ইচ্ছায়। আদর্শ হলো—স্বামী যেন তা পরিশোধ করেন।
২. পেশাবের পর ঢিলা ব্যবহার না করলেও যদি পানি দিয়ে ভালোভাবে পবিত্রতা অর্জন করা হয় এবং নাপাকির কোনো সম্ভাবনা না থাকে, তবে নামাজ সহীহ হবে।
৩. একাকী অবস্থায় বিবস্ত্র হয়ে গোসল করা ইসলামি শরিয়তে বৈধ হলেও শরীর আচ্ছাদিত রেখে গোসল করাকে উত্তম ও সুন্নাহ হিসেবে দেখা হয়।
৪. চার রাকাত নামাজের প্রথম বৈঠকে ভুল করে দুরুদ পড়লে সাহু সিজদা দেওয়া উত্তম হলেও, না দিলেও নামাজ নষ্ট হয় না।
৫. খাবারের সময় মাথায় কাপড় দেওয়া বা টুপি পরা বাধ্যতামূলক নয়; এটি ব্যক্তিগত রুচির বিষয়।
৬. হাদীস বা ইসলামি বই পড়ার জন্য ওজু আবশ্যক নয়। তবে কোরআন স্পর্শ বা তিলাওয়াতের জন্য ওজু বাধ্যতামূলক।
৭. ফরজ গোসল কিছুটা দেরিতে করলেও যদি নামাজের সময় হওয়ার আগেই তা সম্পন্ন করা হয়, তবে গুনাহ হবে না।
৮. মোবাইলে অশ্লীল ছবি বা ভিডিও থাকলে তা মনোসংযোগে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। যদিও নামাজ সহীহ হয়, কিন্তু এসব কনটেন্ট রাখা ইসলামে সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।
৯. সফরে কসর না করে পূর্ণ নামাজ পড়া জায়েজ হলেও আল্লাহর দেওয়া ছাড় গ্রহণ করাই উত্তম এবং সুন্নাহসিদ্ধ।
১০. অহংকারবশত টাখনুর নিচে কাপড় পরা ইসলামে নিষিদ্ধ। সতর্কতামূলকভাবে পোশাক যেন টাখনুর উপরে থাকে, সেটাই উত্তম।
১১. স্বামী-স্ত্রী একত্রে নামাজ আদায় করলে ইমামতির দায়িত্ব পালন করবেন স্বামী এবং ইকামত দেওয়াও তাঁরই কাজ।
এই প্রশ্নোত্তর পর্বে ধর্মীয় দায়িত্ববোধ ও সচেতনতার আলোকে জীবনের নানা বাস্তব বিষয় নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, যা মুসলিম জীবনে প্রাসঙ্গিক ও গুরুত্বপূর্ণ।

ঈদুল ফিতরের আনন্দ-উৎসব শেষ না হতেই মুসলিম বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহার প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে শুরু হয়েছে আগাম আলোচনা ও অপেক্ষা। এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ আরব আমিরাত ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছে, যার ভিত্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য তারিখ নিয়েও ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।
২১ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু। মধ্যপ্রাচ্যের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এই প্রণালী দিয়েই বিশ্ববাজারে প্রবেশ করে।
১৯ এপ্রিল ২০২৬

মানুষের জীবনে প্রতিদিনের ব্যস্ততা ও দুশ্চিন্তার মাঝেও আত্মিক শান্তির সন্ধান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম আমাদের শেখায়, দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করা যায়।
১৮ এপ্রিল ২০২৬

রোগ মানুষের জীবনের এমন এক অধ্যায়, যা কখনোই পুরোপুরি এড়ানো যায় না। শরীর অসুস্থ হলে শুধু দেহ নয়, মনও ভেঙে পড়ে। এই দুর্বল মুহূর্তেই একজন মানুষ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বোধ করে আশ্রয়, সান্ত্বনা এবং আল্লাহর রহমতের।
১৬ এপ্রিল ২০২৬

জীবনে মানুষের চাহিদা ও প্রয়োজন কখনোই শেষ হয় না। অভাব ও লোভের চাপ অনেক সময় মানুষকে হালাল-হারামের সীমা ভুলিয়ে দেয়। কিন্তু ইসলামে একজন মুমিনকে শেখানো হয়েছে, সে যেন সবসময় পবিত্র ও বরকতময় রিজিকের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করে।
১০ এপ্রিল ২০২৬

মুসলমানদের জন্য জুমার দিন শুধু সাপ্তাহিক দিবস নয় এটি বরকত, রহমত ও নূরে পরিপূর্ণ এক মহান দিন। এই দিনের প্রতিটি মুহূর্ত আল্লাহর মেহেরবানির ছায়ায় ঢাকা। আর সেই বিশেষ দিনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আমল হলো সুরা কাহাফ তিলাওয়াত।
১০ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: পবিত্র রমজান মাসের এক মাস সিয়াম সাধনার পর যখন শাওয়ালের চাঁদ দেখা যায়, তখন মুসলিম বিশ্বের হৃদয়ে নেমে আসে আনন্দ, প্রশান্তি ও কৃতজ্ঞতার আবহ। সেই আনন্দকে পূর্ণতা দেয় পবিত্র ঈদুল ফিতরের দুই রাকাত নামাজ। মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হিসেবে ঈদের নামাজ মুসলিম সমাজে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
২১ মার্চ ২০২৬

রাকিব: পবিত্র মাহে রমজান ধীরে ধীরে বিদায়ের পথে। রহমত ও মাগফিরাতের পর এখন চলছে নাজাতের পর্ব রমজানের শেষ দশ দিন। ইসলামে এই সময়টিকে ইবাদত-বন্দেগির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
১০ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: বর্তমান বিশ্ব এক অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত ক্রমবর্ধমান, আর বিশ্বের নানা অঞ্চলে যুদ্ধের উত্তেজনা বাড়ছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এই পরিস্থিতি হাদিসে বর্ণিত শেষ জামানার মহাযুদ্ধ বা ‘মালহামা’-র আগাম সংকেত। বিশেষ করে ইরানের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান এবং সেখানে সংঘটিত সাম্প্রতিক ঘটনা ১৪০০ বছর আগের নবীর পূর্বাভাসের আলোকে নতুনভাবে আলোচিত হচ্ছে।
৩ মার্চ ২০২৬