
ইসলাম ধর্মে পবিত্রতা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গোসল ফরজ হওয়ার অর্থ হলো—ব্যক্তি এমন একটি অবস্থায় আছেন, যেখানে পূর্ণাঙ্গ পবিত্রতা অর্জন না করা পর্যন্ত কিছু ইবাদত ও ধর্মীয় কার্য সম্পাদন সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। বিশেষ করে পুরুষদের জন্য কিছু নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে মানা জরুরি।
গোসল ফরজ অবস্থায় যেসব কাজ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
১. নামাজ আদায় করা: গোসল ফরজ হলে শরীর পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত কোনো অবস্থাতেই নামাজ পড়া বৈধ নয়। নামাজের পূর্বশর্ত হলো শারীরিক পবিত্রতা।
২. কাবা শরিফ তাওয়াফ: তাওয়াফ একটি ইবাদত, যা পবিত্রতা ছাড়া করা হারাম। তাই গোসল ফরজ অবস্থায় কাবা শরিফ প্রদক্ষিণ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
৩. কোরআন স্পর্শ ও তিলাওয়াত: অপবিত্র অবস্থায় কোরআনের মুসহাফ স্পর্শ করা বা সরাসরি তিলাওয়াত করাও নিষিদ্ধ। তবে মনে মনে পাঠ করা বা কোরআন শোনা নিষিদ্ধ নয়।
৪. মসজিদে প্রবেশ: শরীয়ত অনুযায়ী, গোসল ফরজ অবস্থায় মসজিদে প্রবেশ অনুচিত। এমনকি মসজিদের ভেতরে কিছুক্ষণ অবস্থান করাও বৈধ নয় যতক্ষণ না গোসল করে নিজেকে পবিত্র করা হয়।
অন্যান্য কার্যক্রম
গোসল ফরজ হলেও ঘরোয়া কাজ, সাধারণ চলাফেরা বা বাহ্যিক কাজকর্ম সম্পাদন করা নিষিদ্ধ নয়। যেমন রান্নাবান্না, ঘর পরিষ্কার বা বাহিরে চলাফেরা করা যায়, তবে ইবাদতের কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।
রাসূল (সা.) ও সাহাবিদের আচরণ থেকে শিক্ষা
হাদিসে এসেছে, একবার হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) জানাবত অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সামনে পড়ে গেলে লজ্জায় তিনি সরে যান এবং পরে গোসল করে ফিরে আসেন। তখন রাসূল (সা.) বলেন:
"সুবহানাল্লাহ! মুসলিম কখনোই প্রকৃত অর্থে অপবিত্র হয় না।" — (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৭৯)
ঘুম বা খাওয়ার পূর্বে ওজু করার শিক্ষা
আরেকটি হাদিসে পাওয়া যায়, রাসূল (সা.) স্ত্রী সহবাসের পর সরাসরি না গোসল করে ঘুমাতে চাইলে অথবা খাবার খাওয়ার পূর্বে অস্থায়ীভাবে ওজু করতেন। — (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৩০৫)

দাম্পত্য জীবনে নানা কারণে টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন বিরোধ চলতে থাকলে এবং পারস্পরিকভাবে তা সমাধানের কোনো পথ খুঁজে পাওয়া না গেলে ইসলামে বিবাহবিচ্ছেদের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে বিচ্ছেদকে সহজ বা প্রথম সমাধান হিসেবে গ্রহণ না করে সম্ভব হলে দাম্পত্য সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য উদ্যোগ নেওয়ার প্রতি কোরআন ও হাদিসে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইমানের পর ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো সালাত বা নামাজ। নামাজ ইসলামের প্রাণ এবং একজন মুমিনের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ আদায়ের পাশাপাশি ইসলামী শরিয়তে বিভিন্ন নফল নামাজ আদায়েরও বিধান রয়েছে।
৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মুসলমানদের কাছে জুমার দিন সপ্তাহের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ দিন। এ দিনকে ঘিরে রয়েছে বিশেষ কিছু ইবাদত ও আমল। এর মধ্যে অন্যতম হলো বেশি বেশি দোয়া করা। হাদিসে জুমার দিনের এমন একটি বিশেষ সময়ের কথা বর্ণিত হয়েছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কল্যাণকর কিছু চাইলে আল্লাহ তাকে তা দান করেন। তবে সেই বিশেষ সময়টি দিনের ঠিক কোন অংশ—এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে একাধিক মত রয়েছে।
২৮ আগস্ট ২০২৬

ইমানের পর একজন মুমিনের জন্য ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ আমল হলো নামাজ। একজন মুমিন ও কাফেরের মধ্যে বড় পার্থক্যগুলোর একটি হলো নামাজ। নিয়মিত নামাজ মানুষকে দুনিয়ার বিভিন্ন খারাপ ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
২১ আগস্ট ২০২৬

চলতি বছরটি শেষ হওয়ার আগেই আগামী ২০২৭ সালের (১৪৪৮ হিজরি) পবিত্র রমজান মাস এবং ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে মুসলিম বিশ্বের পাশাপাশি দেশের সাধারণ মানুষের মাঝেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল ও আগ্রহ। মধ্যপ্রাচ্যের জ্যোতির্বিজ্ঞান ভিত্তিক গবেষণা এবং প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৭ সালে পবিত্র রমজান মাস শুরুর সম্ভাব্য তারিখ এবং দুই ঈদের মূল কাঠামো কেমন হতে পারে, সে বিষয়ে একটি প্রাথমিক ধারণা পাওয়া গেছে।
৩০ জুলাই ২০২৬

দিনভর ব্যস্ততা, কর্মজীবনের চাপ আর নানা দুশ্চিন্তার পর রাতের ঘুমই হয়ে ওঠে মানুষের সবচেয়ে বড় প্রশান্তির সময়। কিন্তু অনেকেই ঘুমানোর আগে সময় কাটান মোবাইল ফোনে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিংবা অপ্রয়োজনীয় কাজে। অথচ ইসলাম একজন মুমিনের জন্য ঘুমানোর আগেও রেখে দিয়েছে সহজ কিন্তু অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি আমল, যা পালন করতে সময় লাগে মাত্র এক মিনিট।
১৮ জুন ২০২৬

পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ শুধু জীবদ্দশায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং তাদের মৃত্যুর পরও এই দায়িত্ব অব্যাহত রাখার নির্দেশনা এসেছে হাদিসে।
১ জুন ২০২৬

মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে আনন্দের দিনগুলোর একটি ঈদুল আজহা। ত্যাগ, আনুগত্য ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের শিক্ষা নিয়ে প্রতি বছর জিলহজ মাসের ১০ তারিখে আসে কোরবানির এই ঈদ। এই দিনটিকে ঘিরে মুসলমানদের মধ্যে থাকে বিশেষ প্রস্তুতি, আর দিনের শুরু হয় ঈদের নামাজের মাধ্যমে।
২৭ মে ২০২৬

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর মুসলমানদের মধ্যে কুরবানি নিয়ে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা দেখা যায়। বিশেষ করে যৌথ পরিবারে বসবাসকারীদের মধ্যে একটি প্রচলিত ধারণা হলো, পরিবারের একজন সদস্য, বিশেষ করে পরিবারের প্রধান ব্যক্তি কুরবানি দিলেই পুরো পরিবারের পক্ষ থেকে দায়িত্ব আদায় হয়ে যায়। কিন্তু ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি ভিন্ন।
২২ মে ২০২৬