সিনিয়ার রিপোর্টার

সুস্থ থাকতে শুধু ওষুধ কিংবা চিকিৎসার ওপর নির্ভর করলেই হয় না। প্রতিদিনের জীবনযাপনে কিছু সাধারণ অভ্যাসের প্রভাব পড়ে শরীর ও মনের ওপর। অনিয়মিত ঘুম, দীর্ঘ সময় বসে থাকা, অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাব ধীরে ধীরে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে।
অন্যদিকে, নিয়মিত কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুললে শরীর ভালো রাখা এবং বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা পাওয়া যায়। সুস্থ জীবনযাপনের জন্য প্রতিদিন যে সাতটি অভ্যাস অনুসরণ করতে পারেন, সেগুলো হলো—
১. প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন
শরীর ও মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ক্লান্তি, মনোযোগের ঘাটতি এবং কাজে অনীহা দেখা দিতে পারে।
একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সাধারণত প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
২. প্রতিদিন শরীরচর্চা করুন
সুস্থ থাকতে নিয়মিত হাঁটা কিংবা ব্যায়ামের বিকল্প নেই। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে।
হাঁটার পাশাপাশি সাইকেল চালানো, সাঁতার কিংবা পছন্দের অন্য কোনো শারীরিক কার্যক্রম করতে পারেন। তবে দীর্ঘদিন শরীরচর্চা না করে থাকলে ধীরে ধীরে শুরু করা ভালো।
৩. খাবারের তালিকায় শাকসবজি ও ফল রাখুন
শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেতে সুষম খাবার খাওয়া জরুরি। প্রতিদিনের খাবারে শাকসবজি, ফলমূল, ডাল, মাছ, ডিম এবং পরিমিত পরিমাণে অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখুন।
অতিরিক্ত তেল, লবণ, চিনি এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার অভ্যাস কমিয়ে আনুন। খাবারের পরিমাণ ও ধরন বয়স, শারীরিক অবস্থা এবং কাজের ধরনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত।
৪. পর্যাপ্ত পানি পান করুন
শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে পানির প্রয়োজন হয়। পানিশূন্যতা দেখা দিলে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা এবং ক্লান্তির মতো সমস্যা হতে পারে।
তাই দিনের বিভিন্ন সময়ে পর্যাপ্ত পানি পান করুন। গরম আবহাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম ও ঘামের পরিমাণ অনুযায়ী পানির চাহিদা বাড়তে পারে। তবে কিডনি বা হৃদ্রোগের কারণে যাদের পানি গ্রহণে চিকিৎসকের বিধিনিষেধ রয়েছে, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন।
৫. দীর্ঘ সময় একটানা বসে থাকবেন না
অনেকেই কাজের প্রয়োজনে দিনের বেশির ভাগ সময় কম্পিউটার বা মোবাইলের সামনে বসে থাকেন। দীর্ঘ সময় একটানা বসে থাকা শরীরের জন্য ভালো নয়।
কাজের ফাঁকে মাঝেমধ্যে উঠে দাঁড়ান, কয়েক মিনিট হাঁটুন এবং হালকা শরীরচর্চা করুন। এতে দৈনন্দিন চলাফেরা বাড়বে।
৬. মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিন
শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক সুস্থতাও গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, কাজের চাপ ও অনিয়মিত জীবনযাপন মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রতিদিন নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখুন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলুন, পছন্দের কাজ করুন এবং প্রয়োজন হলে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সহায়তা নিন।
৭. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান
অনেক রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায় না। তাই বয়স, পারিবারিক ইতিহাস ও ব্যক্তিগত ঝুঁকি অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো উচিত।
রক্তচাপ, রক্তে শর্করা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য পরীক্ষা সময়মতো করালে কিছু স্বাস্থ্যসমস্যা আগেভাগে শনাক্ত করা সম্ভব।
সুস্থ থাকতে অভ্যাসের পরিবর্তনই গুরুত্বপূর্ণ
সুস্থ জীবনযাপন একদিনে গড়ে ওঠে না। প্রতিদিনের ছোট ছোট ভালো অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে শরীর ও মনের সুস্থতায় ভূমিকা রাখতে পারে।
তাই একসঙ্গে সব অভ্যাস পরিবর্তনের চেষ্টা না করে ধীরে ধীরে শুরু করুন। নিয়মিত ঘুম, সুষম খাবার, শরীরচর্চা ও মানসিক স্বাস্থ্যের যত্নকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তুলুন।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনটি সাধারণ স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক তথ্যের জন্য। এটি চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

প্রতিটি মা-বাবার স্বপ্ন থাকে সন্তান বড় হয়ে একজন ভালো মানুষ হবে। পড়াশোনায় ভালো করার পাশাপাশি তার মধ্যে থাকবে সততা, দায়িত্ববোধ, মানবিকতা ও অন্যের প্রতি সম্মান। কিন্তু একটি শিশুকে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা শুধু বিদ্যালয়ের দায়িত্ব নয়। পরিবারের পরিবেশ, মা-বাবার আচরণ এবং ছোটবেলার শিক্ষা তার ব্যক্তিত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
৯ মিনিট আগে

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাস মা ও গর্ভের শিশুর বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়ে শিশুর মস্তিষ্ক, মেরুদণ্ডসহ বিভিন্ন অঙ্গের প্রাথমিক গঠন শুরু হয়। তাই গর্ভধারণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই মায়ের পুষ্টি, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা, ওষুধ গ্রহণ এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি।
২৯ অক্টোবর ২০২৬

মাসিক নির্ধারিত সময়ে না হওয়া, কয়েক মাস বন্ধ থাকা কিংবা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বা কম রক্তপাত—এসব সমস্যায় অনেক নারী উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তবে সব সময় মাসিকের তারিখে সামান্য পরিবর্তন মানেই বড় কোনো অসুস্থতা নয়। বয়স, মানসিক চাপ, ওজনের পরিবর্তন, হরমোনের ওঠানামা এবং কিছু শারীরিক সমস্যার কারণে মাসিক চক্রে পরিবর্তন আসতে পারে।
২৯ অক্টোবর ২০২৬

মাথাব্যথা হচ্ছে না, মাথা ঘুরছে না, শরীরও স্বাভাবিক—তাহলে কি রক্তচাপ ঠিক আছে? এমন ধারণা থেকে অনেকেই দীর্ঘদিন রক্তচাপ পরীক্ষা করেন না। অথচ উচ্চ রক্তচাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, অনেকের ক্ষেত্রেই এটি কোনো স্পষ্ট লক্ষণ ছাড়াই থাকতে পারে। নিয়মিত পরীক্ষা না করলে সমস্যাটি অজানা থেকে যেতে পারে।
২৯ অক্টোবর ২০২৬

উচ্চ রক্তচাপ এমন একটি স্বাস্থ্যসমস্যা, যা অনেকের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন কোনো স্পষ্ট লক্ষণ ছাড়াই থাকতে পারে। এ কারণে অনেকে বুঝতেই পারেন না যে তাঁদের রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। কিন্তু দীর্ঘদিন উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে হৃদ্রোগ, স্ট্রোক ও কিডনির সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
১৪ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্বজুড়ে পুরুষের প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় গত ৫০ বছরে পুরুষদের গড় টেস্টোস্টেরনের মাত্রা প্রায় অর্ধেকে নেমে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে শুক্রাণুর সংখ্যা ও মান কমে যাওয়ার বিষয়টিও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। এ কারণে কেউ কেউ পরিস্থিতিকে ‘স্পার্মাগেডন’ বা পুরুষের প্রজনন সংকট হিসেবে বর্ণনা করছেন।
৪ অক্টোবর ২০২৬

অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারকে অনেক সময় ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়। কারণ এই রোগের শুরুর দিকের লক্ষণগুলো বেশ সাধারণ হওয়ায় অনেকেই সেগুলোকে তেমন গুরুত্ব দেন না। ফলে রোগটি শনাক্ত হওয়ার আগেই শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পেয়ে যেতে পারে।
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সারাদিনের ব্যস্ততা ও ক্লান্তি শেষে রাতে বিছানায় শুয়ে একটু স্বস্তির ঘুমের অপেক্ষা। কিন্তু চোখে ঘুম এলেও পায়ের অস্বস্তি যেন সেই ঘুম কেড়ে নেয়। পা স্থির রাখতে গেলেই ভেতরে অদ্ভুত এক অনুভূতি তৈরি হয়। মনে হয়, পা নাড়াতেই হবে। কিছুক্ষণ পা নড়ালে কিংবা উঠে হাঁটলে অস্বস্তি কিছুটা কমে যায়। কিন্তু আবার স্থির হয়ে শুয়ে পড়লেই ফিরে আসে একই সমস্যা। এভাবে রাতের পর রাত ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে থাকে।
৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মালয়েশিয়ায় কঠোর পরিশ্রম করে যাওয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বৈদেশিক মুদ্রার বাজার সংক্রান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত বা শিগগিরই দেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর কথা ভাবছেন, তাদের জন্য বর্তমান বাজারদর জানা অত্যন্ত জরুরি। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ান রিংগিতের বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মান বেশ স্থিতিশীল রয়েছে।
১৪ আগস্ট ২০২৬