রিপোর্টার

প্রতিটি মা-বাবার স্বপ্ন থাকে সন্তান বড় হয়ে একজন ভালো মানুষ হবে। পড়াশোনায় ভালো করার পাশাপাশি তার মধ্যে থাকবে সততা, দায়িত্ববোধ, মানবিকতা ও অন্যের প্রতি সম্মান। কিন্তু একটি শিশুকে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা শুধু বিদ্যালয়ের দায়িত্ব নয়। পরিবারের পরিবেশ, মা-বাবার আচরণ এবং ছোটবেলার শিক্ষা তার ব্যক্তিত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শিশুরা সাধারণত বড়দের দেখে শেখে। তাই শুধু উপদেশ দিলেই হবে না, অভিভাবকদের নিজেদের আচরণেও ভালো উদাহরণ তৈরি করতে হবে। ছোটবেলা থেকেই সন্তানকে যে আটটি বিষয় শেখানো জরুরি, সেগুলো হলো—
১. সত্য কথা বলার অভ্যাস গড়ে তুলুন
শিশুকে ছোটবেলা থেকেই সত্য কথা বলার গুরুত্ব বোঝান। কোনো ভুল করলে তাকে অতিরিক্ত বকাঝকা বা অপমান না করে ভুল স্বীকার করতে উৎসাহ দিন।
সন্তান সত্য বললে তার প্রশংসা করুন। এতে সে বুঝতে শিখবে, ভুল করলেও সত্য বলার সাহস থাকা জরুরি।
২. অন্যকে সম্মান করতে শেখান
বড়দের পাশাপাশি ছোটদেরও সম্মান করতে শেখানো উচিত। পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী, শিক্ষক, সহপাঠী কিংবা পরিচিত-অপরিচিত সবার সঙ্গে ভদ্রভাবে কথা বলার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
শিশুর সামনে অন্যকে অপমান করা বা অসম্মানজনক ভাষায় কথা বলা থেকে বিরত থাকুন। কারণ শিশুরা বড়দের আচরণ অনুকরণ করে।
৩. নিজের কাজ নিজে করতে উৎসাহ দিন
ছোটবেলা থেকেই শিশুকে বয়স ও সক্ষমতা অনুযায়ী নিজের কাজ নিজে করতে শেখান। যেমন—খেলনা গুছিয়ে রাখা, বই-খাতা ঠিক জায়গায় রাখা কিংবা নিজের পোশাক গোছানো।
সব কাজ মা-বাবা করে দিলে শিশুর মধ্যে অন্যের ওপর নির্ভরশীলতা তৈরি হতে পারে। তাই ধীরে ধীরে তাকে দায়িত্ব নিতে শেখান।
৪. ভুল করলে ক্ষমা চাইতে শেখান
শিশু ভুল করলে শুধু শাস্তি দেওয়ার পরিবর্তে ভুলের কারণ বুঝিয়ে বলুন। কাউকে কষ্ট দিলে তার কাছে ক্ষমা চাইতে এবং নিজের ভুল সংশোধন করতে শেখান।
একইভাবে মা-বাবারও কোনো ভুল হলে সন্তানের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। এতে শিশুর মধ্যে নিজের ভুল স্বীকার করার মানসিকতা তৈরি হবে।
৫. ভাগাভাগি ও সহযোগিতার শিক্ষা দিন
অন্যের সঙ্গে খাবার, খেলনা কিংবা প্রয়োজনীয় জিনিস ভাগাভাগি করার অভ্যাস শিশুর মধ্যে সহমর্মিতা তৈরি করে।
পরিবারের ছোট ছোট কাজে তাকে অংশ নিতে দিন। অসহায় মানুষের প্রতি সহানুভূতি দেখানো এবং অন্যকে সাহায্য করার গুরুত্ব বোঝান।
৬. মোবাইল ও পর্দার সময় নিয়ন্ত্রণ করুন
বর্তমানে অনেক শিশু দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোন, টেলিভিশন কিংবা অন্যান্য পর্দায় সময় কাটায়। অতিরিক্ত পর্দা ব্যবহারের ফলে ঘুম, শারীরিক কার্যক্রম ও পড়াশোনার রুটিনে সমস্যা হতে পারে।
তাই বয়স অনুযায়ী পর্দা ব্যবহারের সীমা নির্ধারণ করুন। শিশুকে বই পড়া, ছবি আঁকা, খেলাধুলা ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ দিন। মা-বাবারও শিশুর সামনে অপ্রয়োজনীয় মোবাইল ব্যবহার কমানো উচিত।
৭. সন্তানের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন
শিশুরা অনেক সময় তাদের ভয়, আনন্দ, কষ্ট কিংবা সমস্যার কথা প্রকাশ করতে চায়। কিন্তু অভিভাবকরা ব্যস্ততার কারণে সব সময় তাদের কথা গুরুত্ব দিয়ে শোনেন না।
প্রতিদিন কিছুটা সময় সন্তানের সঙ্গে কথা বলুন। তার স্কুল, বন্ধু, পছন্দ-অপছন্দ এবং দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানুন। কোনো সমস্যা হলে যেন সে নির্ভয়ে মা-বাবাকে বলতে পারে, সেই পরিবেশ তৈরি করুন।
৮. ভালো কাজের প্রশংসা করুন, তুলনা নয়
অন্য শিশুর সঙ্গে নিজের সন্তানের তুলনা করা তার আত্মবিশ্বাসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বরং সন্তানের নিজের উন্নতি ও প্রচেষ্টাকে গুরুত্ব দিন।
সে কোনো ভালো কাজ করলে প্রশংসা করুন। পড়াশোনা কিংবা অন্য কোনো কাজে ব্যর্থ হলে হতাশ না করে নতুন করে চেষ্টা করতে উৎসাহ দিন।
সন্তানকে শেখাতে হলে আগে নিজে অনুসরণ করুন
শিশুকে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো পরিবারের মধ্যে সুন্দর পরিবেশ তৈরি করা। মা-বাবা যদি সত্য কথা বলেন, অন্যকে সম্মান করেন, দায়িত্ব পালন করেন এবং মানুষের পাশে দাঁড়ান, তাহলে সন্তানও এসব আচরণ থেকে শিক্ষা পাবে।
মনে রাখতে হবে, ভালো ফলাফল বা বড় চাকরি পাওয়াই সন্তানের সাফল্যের একমাত্র মাপকাঠি নয়। একজন সৎ, দায়িত্বশীল, আত্মবিশ্বাসী ও মানবিক মানুষ হিসেবে বেড়ে ওঠাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই ছোটবেলা থেকেই সন্তানকে ভালোবাসা, শাসন, সময় ও সঠিক দিকনির্দেশনা দিন।

সুস্থ থাকতে শুধু ওষুধ কিংবা চিকিৎসার ওপর নির্ভর করলেই হয় না। প্রতিদিনের জীবনযাপনে কিছু সাধারণ অভ্যাসের প্রভাব পড়ে শরীর ও মনের ওপর। অনিয়মিত ঘুম, দীর্ঘ সময় বসে থাকা, অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাব ধীরে ধীরে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে।
১১ মিনিট আগে

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাস মা ও গর্ভের শিশুর বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়ে শিশুর মস্তিষ্ক, মেরুদণ্ডসহ বিভিন্ন অঙ্গের প্রাথমিক গঠন শুরু হয়। তাই গর্ভধারণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই মায়ের পুষ্টি, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা, ওষুধ গ্রহণ এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি।
২৯ অক্টোবর ২০২৬

মাসিক নির্ধারিত সময়ে না হওয়া, কয়েক মাস বন্ধ থাকা কিংবা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বা কম রক্তপাত—এসব সমস্যায় অনেক নারী উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তবে সব সময় মাসিকের তারিখে সামান্য পরিবর্তন মানেই বড় কোনো অসুস্থতা নয়। বয়স, মানসিক চাপ, ওজনের পরিবর্তন, হরমোনের ওঠানামা এবং কিছু শারীরিক সমস্যার কারণে মাসিক চক্রে পরিবর্তন আসতে পারে।
২৯ অক্টোবর ২০২৬

মাথাব্যথা হচ্ছে না, মাথা ঘুরছে না, শরীরও স্বাভাবিক—তাহলে কি রক্তচাপ ঠিক আছে? এমন ধারণা থেকে অনেকেই দীর্ঘদিন রক্তচাপ পরীক্ষা করেন না। অথচ উচ্চ রক্তচাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, অনেকের ক্ষেত্রেই এটি কোনো স্পষ্ট লক্ষণ ছাড়াই থাকতে পারে। নিয়মিত পরীক্ষা না করলে সমস্যাটি অজানা থেকে যেতে পারে।
২৯ অক্টোবর ২০২৬

উচ্চ রক্তচাপ এমন একটি স্বাস্থ্যসমস্যা, যা অনেকের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন কোনো স্পষ্ট লক্ষণ ছাড়াই থাকতে পারে। এ কারণে অনেকে বুঝতেই পারেন না যে তাঁদের রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। কিন্তু দীর্ঘদিন উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে হৃদ্রোগ, স্ট্রোক ও কিডনির সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
১৪ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্বজুড়ে পুরুষের প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় গত ৫০ বছরে পুরুষদের গড় টেস্টোস্টেরনের মাত্রা প্রায় অর্ধেকে নেমে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে শুক্রাণুর সংখ্যা ও মান কমে যাওয়ার বিষয়টিও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। এ কারণে কেউ কেউ পরিস্থিতিকে ‘স্পার্মাগেডন’ বা পুরুষের প্রজনন সংকট হিসেবে বর্ণনা করছেন।
৪ অক্টোবর ২০২৬

অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারকে অনেক সময় ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়। কারণ এই রোগের শুরুর দিকের লক্ষণগুলো বেশ সাধারণ হওয়ায় অনেকেই সেগুলোকে তেমন গুরুত্ব দেন না। ফলে রোগটি শনাক্ত হওয়ার আগেই শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পেয়ে যেতে পারে।
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সারাদিনের ব্যস্ততা ও ক্লান্তি শেষে রাতে বিছানায় শুয়ে একটু স্বস্তির ঘুমের অপেক্ষা। কিন্তু চোখে ঘুম এলেও পায়ের অস্বস্তি যেন সেই ঘুম কেড়ে নেয়। পা স্থির রাখতে গেলেই ভেতরে অদ্ভুত এক অনুভূতি তৈরি হয়। মনে হয়, পা নাড়াতেই হবে। কিছুক্ষণ পা নড়ালে কিংবা উঠে হাঁটলে অস্বস্তি কিছুটা কমে যায়। কিন্তু আবার স্থির হয়ে শুয়ে পড়লেই ফিরে আসে একই সমস্যা। এভাবে রাতের পর রাত ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে থাকে।
৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মালয়েশিয়ায় কঠোর পরিশ্রম করে যাওয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বৈদেশিক মুদ্রার বাজার সংক্রান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত বা শিগগিরই দেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর কথা ভাবছেন, তাদের জন্য বর্তমান বাজারদর জানা অত্যন্ত জরুরি। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ান রিংগিতের বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মান বেশ স্থিতিশীল রয়েছে।
১৪ আগস্ট ২০২৬