
রিপোর্টার

নবম জাতীয় পে-স্কেলে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবীদের পেনশন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তুলনামূলক কম পেনশন পাওয়া অবসরপ্রাপ্তদের আর্থিক চাপ কমাতে তাদের নিট পেনশন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এই সুবিধা সব পেনশনভোগীর জন্য একই হারে প্রযোজ্য হবে না। বর্তমানে কে কত টাকা নিট পেনশন পাচ্ছেন, সেই অঙ্কের ওপর ভিত্তি করে ধাপে ধাপে বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থাৎ কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিরা শতাংশের হিসাবে বেশি সুবিধা পাবেন। অন্যদিকে যাদের বর্তমান পেনশন তুলনামূলক বেশি, তাদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার কিছুটা কম রাখা হয়েছে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত সিদ্ধান্তে এভাবেই পাঁচটি স্তরে পেনশন বৃদ্ধির কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের আরেকটি প্রত্যাশা ‘এক পদ এক পেনশন’ বা ‘এক গ্রেড এক পেনশন’—যা ওআরওপি (OROP) নামে পরিচিত—তা এখনই পুরোপুরি বাস্তবায়ন হচ্ছে না। সামরিক ও বেসামরিক কর্মচারীদের জন্য এই ব্যবস্থা ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, একসঙ্গে ওআরওপি চালু করতে গেলে সরকারের ওপর বিপুল আর্থিক ব্যয়ের চাপ তৈরি হবে। এর পাশাপাশি ২০১৯ সালের আগে অবসরে যাওয়া বেসামরিক কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় তথ্যের ঘাটতিও রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই ধাপে ধাপে ব্যবস্থা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
কোন পেনশনে কত শতাংশ বাড়বে
মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত কাঠামো অনুযায়ী, বর্তমানে একজন পেনশনভোগী যে নিট পেনশন পাচ্ছেন, তার ওপর ভিত্তি করেই বৃদ্ধির হার নির্ধারিত হবে। পাঁচটি স্তরে প্রস্তাবিত হার হলো—
৯ হাজার টাকা বা কম নিট পেনশনধারীদের ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ পেনশন বাড়বে। ৯ হাজার ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশনে ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০ হাজার ১ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশনে ৬৫ শতাংশ, ৩০ হাজার ১ টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬০ শতাংশ এবং ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি নিট পেনশনের ক্ষেত্রে ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
এর ফলে সবচেয়ে কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ হবে। যেমন, বর্তমানে কোনো অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবী মাসে ৯ হাজার টাকা নিট পেনশন পেলে ১০০ শতাংশ বৃদ্ধির পর তার পেনশন দাঁড়াবে ১৮ হাজার টাকা।
আবার কারও বর্তমান নিট পেনশন ২০ হাজার টাকা হলে ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধির পর তা হবে ৩৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ এই ক্ষেত্রে বর্তমান পেনশনের সঙ্গে আরও ১৫ হাজার টাকা যোগ হবে।
একইভাবে ৩০ হাজার টাকা নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তির ক্ষেত্রে ৬৫ শতাংশ বৃদ্ধি কার্যকর হলে নতুন পেনশনের পরিমাণ দাঁড়াবে ৪৯ হাজার ৫০০ টাকা। আর ৪০ হাজার টাকা নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তির পেনশন ৬০ শতাংশ বৃদ্ধির পর হবে ৬৪ হাজার টাকা।
অন্যদিকে ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৫ শতাংশ। ফলে পেনশনের বর্তমান অঙ্ক যত বেশি, বৃদ্ধির শতাংশ তত কম—এমন একটি ধাপভিত্তিক কাঠামো রাখা হয়েছে।
তবে এই হিসাবের ভিত্তিতে চূড়ান্ত পেনশন নির্ধারণের সময় আরও কিছু বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে। অর্থ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে যে নিয়ম ও সংশ্লিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা হবে, পাশাপাশি অবসর-পরবর্তী অন্যান্য সুবিধার বিষয়ও চূড়ান্ত অর্থ নির্ধারণে বিবেচনায় থাকবে।
এখনই হচ্ছে না ‘এক পদ এক পেনশন’
সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির মধ্যে সামরিক ও বেসামরিক উভয় ক্ষেত্রেই ‘এক পদ এক পেনশন’ বা ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি ছিল। এর উদ্দেশ্য হলো একই পদ বা একই গ্রেড থেকে ভিন্ন সময়ে অবসর নেওয়া সরকারি কর্মচারীদের পেনশনের মধ্যে থাকা বৈষম্য কমানো।
বর্তমান ব্যবস্থায় একই পদে চাকরি করা ব্যক্তিদের মধ্যেও অবসরের সময়ের পার্থক্যের কারণে পেনশনের অঙ্কে ব্যবধান দেখা যায়। আগে অবসরে যাওয়া কোনো কর্মচারী অনেক ক্ষেত্রে পরে একই পদ থেকে অবসরে যাওয়া কর্মচারীর তুলনায় কম পেনশন পেয়ে থাকেন।
ওআরওপি ব্যবস্থা কার্যকর হলে একই পদ বা গ্রেডের অবসরপ্রাপ্তদের পেনশনের এই পার্থক্য অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। ফলে একই পদ বা গ্রেডে কর্মরত ব্যক্তিদের অবসর-পরবর্তী আর্থিক সুবিধার ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি সামঞ্জস্য তৈরি হবে।
কিন্তু এই ব্যবস্থা একবারে কার্যকর করতে গেলে সরকারের আর্থিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। পাশাপাশি ২০১৯ সালের আগে অবসর নেওয়া বেসামরিক সরকারি কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় তথ্য সরকারের হাতে সম্পূর্ণভাবে না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে পুরো ব্যবস্থা চালু করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সামরিক ও বেসামরিক—দুই ক্ষেত্রেই ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ‘এক পদ এক পেনশন’ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অবসরপ্রাপ্তদের জন্য সামনে কী
নবম জাতীয় পে-স্কেলের এই সিদ্ধান্তে একদিকে কম পেনশন পাওয়া অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের আর্থিক সুবিধার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ৯ হাজার টাকা বা তার কম নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।
অন্যদিকে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত ‘এক পদ এক পেনশন’ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য আরও কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সামরিক ও বেসামরিক কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ফলে নবম জাতীয় পে-স্কেলের পেনশন কাঠামোয় একই সঙ্গে দুটি দিক স্পষ্ট হয়েছে—কম পেনশনধারীদের জন্য বেশি হারে পেনশন বৃদ্ধির উদ্যোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ওআরওপি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি। তবে প্রস্তাবিত কাঠামো বাস্তবে কার্যকর হলে প্রত্যেক পেনশনভোগীর চূড়ান্ত প্রাপ্য অর্থ নির্ধারিত হবে অর্থ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে থাকা নিয়ম, সীমা ও অবসর-পরবর্তী সুবিধার ভিত্তিতে।

বাংলাদেশ পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের খবর পাওয়া গেছে। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৬৪ জেলার যোগ্য প্রার্থীরা এ নিয়োগে আবেদন করতে পারবেন। অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে ১৩ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ১০টায়। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ৩০ অক্টোবর বিকেল ৫টা।
১৮ ঘণ্টা আগে

তেজাবি সোনার দাম কমায় দেশের বাজারে আবারও সোনার দাম কমানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ২৯ হাজার ৮১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই দাম সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হবে।
৫ দিন আগে

ময়মনসিংহের দক্ষিণ গশফরগাঁওয়ের উস্থি ইউনিয়নের কান্দিপাড়া বাসিন্দা এক প্রবাসীর স্ত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার কান্দিপাড়া বাজারের বিকাশ ও মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী মোঃ মেহেদী হাসান টনিকের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেছেন একই এলাকার বাসিন্দা প্রবাসীর স্ত্রী নাছিমা আক্তার। জানাযায়, মোঃ মেহেদি হাসান টনিক কান্দিপাড়া বাসিন্দা মোঃ নাসির মিয়ার ছেলে। ভুক্তভোগী নাছিমা আক্তার ন্যায় বিচার পাওয়ার প্রত্যাশায় বাদী হয়ে উপজেলার পাগলা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত/২০০৩) এর ৯(১) ধারায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
৫ দিন আগে

নতুন পে স্কেল অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন নির্ধারণের পে ফিক্সেশন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আগামীকাল সোমবার। আইবাস++-এর মাধ্যমে পরিচালিত এই কার্যক্রম চলবে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত।
৫ দিন আগে

সিঙ্গাপুরের ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার আজ রোববার (৪ অক্টোবর ২০২৬) প্রায় ৯৬ টাকা। বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় উৎসে সামান্য পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ৪ অক্টোবরের ক্রস রেটে ১ সিঙ্গাপুর ডলারের বিড ৯৫.৯৮ টাকা এবং আস্ক ৯৬.১৮ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।
৫ দিন আগে

মালয়েশিয়ায় থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য আজ ৪ অক্টোবর ২০২৬ মালয়েশিয়ান রিংগিতের সর্বশেষ বিনিময় হার ও বিভিন্ন মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানের তুলনামূলক তথ্য তুলে ধরা হলো। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আজ ১ মালয়েশিয়ান রিংগিতের মূল্য ৩০.০৯ টাকা। আগের দিন রেট ছিল ৩০.১০ টাকা।
৫ দিন আগে

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য আজকের সৌদি রিয়ালের বিনিময় হার ও বিভিন্ন এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানের রেট তুলে ধরা হয়েছে। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৪ অক্টোবর ২০২৬ সৌদি ১ রিয়ালের বিনিময় হার ৩২.৬২ টাকা। তবে একই তথ্যের শুরুতে গতকালের রেট হিসেবে ৩২.৬৮ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে, তাই রেটের পরিবর্তন নিয়ে উৎসের তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে।
৫ দিন আগে

প্রবাসীদের জন্য আজ রোববার (৪ অক্টোবর ২০২৬) মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার হালনাগাদ করা হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সৌদি রিয়াল, ইউএই দিরহাম, কুয়েতি দিনার, কাতারি রিয়াল, ওমানি রিয়াল ও বাহরাইনি দিনারসহ প্রায় সব মুদ্রার দাম আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে।
৫ দিন আগে

দেশের বাজারে আবারও বাড়ানো হয়েছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এর দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
৫ দিন আগে