
সিনিয়ার রিপোর্টার

গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে টানা জয় তুলে নিয়ে আগেভাগেই নিজেদের গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ফলে জর্ডানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটি আলবিসেলেস্তেদের জন্য অনেকটাই নিয়মরক্ষার। তবে গুরুত্বহীন নয় এই লড়াই। বরং নকআউট পর্বের আগে নিজেদের শক্তি-সামর্থ্য যাচাইয়ের জন্য এটিকে আদর্শ সুযোগ হিসেবে দেখছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি।
বিশ্বকাপের দীর্ঘ পথচলায় মূল একাদশের খেলোয়াড়দের ফিট রাখা এবং বিকল্প খেলোয়াড়দের ম্যাচের অভিজ্ঞতা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই লক্ষ্যেই জর্ডানের বিপক্ষে একাধিক পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছেন আর্জেন্টাইন কোচ। বেঞ্চের ফুটবলারদের সামর্থ্য যাচাই, নতুন কৌশল পরীক্ষা এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ তারকাকে বিশ্রাম দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েই মাঠে নামবে আকাশি-সাদা শিবির।
তবে ম্যাচটির আগে সবচেয়ে বড় আলোচনা ঘিরে রয়েছে অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে। টানা ম্যাচ খেলার কারণে ৩৯ বছর বয়সী এই মহাতারকাকে বিশ্রাম দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন অনেকেই। নকআউট পর্বের আগে তাকে সতেজ রাখাই হতে পারে দলের জন্য সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।
তবে আর্জেন্টিনা শিবিরের ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, দীর্ঘ বিরতির আগে নিজের ছন্দ ধরে রাখতে অন্তত কিছু সময় মাঠে থাকতে আগ্রহী মেসি নিজেও। সে ক্ষেত্রে পুরো ম্যাচ না খেললেও দ্বিতীয়ার্ধে তাকে নামানো হতে পারে। ফলে কোটি কোটি সমর্থকের চোখ এখন মেসির দিকেই।
এদিকে কোচ স্কালোনি একাদশে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। গোলপোস্টে এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে রাখা হতে পারে ম্যাচ ফিটনেস বজায় রাখার জন্য। রক্ষণভাগে অভিজ্ঞ নিকোলাস ওতামেন্দির সঙ্গে মার্কোস সেনেসিকে দেখা যেতে পারে। ডানপ্রান্তে গনসালো মন্তিয়েল এবং বাঁপ্রান্তে নিকোলাস তাগলিয়াফিকো সুযোগ পেতে পারেন।
মিডফিল্ডেও পরিবর্তনের আভাস রয়েছে। লিয়ান্দ্রো পারেদেস, এক্সেকিয়েল পালাসিওস এবং জিওভানি লো সেলসোকে দিয়ে মাঝমাঠ সাজাতে পারেন স্কালোনি। বিশেষ করে মেসির অনুপস্থিতিতে দল কতটা সৃজনশীল ফুটবল খেলতে পারে, সেটি যাচাই করাই হবে কোচের অন্যতম লক্ষ্য।
আক্রমণভাগেও দেখা যেতে পারে নতুন মুখ। হুলিয়ান আলভারেজ, লাউতারো মার্টিনেজ, নিকো পাস কিংবা নিকো গনসালেসদের মধ্যে কয়েকজন শুরু থেকেই মাঠে থাকতে পারেন। তরুণ ফুটবলারদের জন্য এটি নিজেদের প্রমাণ করার বড় সুযোগ। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে ভালো পারফরম্যান্স ভবিষ্যতে দলের পরিকল্পনায় তাদের অবস্থান আরও শক্ত করতে পারে।
অন্যদিকে, জর্ডান ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত করলেও লড়াই ছাড়া মাঠ ছাড়তে চায় না। দলটি সাধারণত রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে এবং পাঁচ ডিফেন্ডারের শক্তিশালী রক্ষণ গড়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার চেষ্টা করে। ফলে আর্জেন্টিনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে সেই জমাট রক্ষণ ভেঙে গোলের সুযোগ তৈরি করা।
এই ম্যাচে স্কালোনির লক্ষ্য শুধু জয় নয়। বরং তিনি এমন একটি দল গড়ে তুলতে চাইবেন, যারা প্রয়োজন হলে মেসির ওপর অতিরিক্ত নির্ভর না করেও ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম। নকআউট পর্বের কঠিন লড়াইয়ের আগে সেটিই হতে পারে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
শক্তির বিচারে আর্জেন্টিনা স্পষ্ট ফেভারিট হলেও ম্যাচটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হয়ে উঠেছে স্কালোনির পরীক্ষামূলক একাদশ কতটা কার্যকর হয় এবং মেসিকে আদৌ মাঠে দেখা যাবে কি না। সমর্থকদের অপেক্ষাও এখন সেখানেই।
সম্ভাব্য ফলাফল
ফুটবলীয় শক্তি, অভিজ্ঞতা এবং তারকাসমৃদ্ধ স্কোয়াড বিবেচনায় আর্জেন্টিনা এগিয়ে। তবে জর্ডানের রক্ষণভাগ ভাঙতে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ধৈর্য ও সৃজনশীলতা দেখাতে হবে। নকআউটের আগে এটিই হতে পারে আর্জেন্টিনার শেষ বড় প্রস্তুতির মঞ্চ।