
রিপোর্টার

হাসান: রমজান মাস আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন ও আল্লাহর রহমত লাভের এক অনন্য সময়। এ মাসে প্রতিটি ইবাদতের সওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। তবে রোজা কেবল পানাহার থেকে বিরত থাকার নাম নয়; বরং আচরণ, কথা-বার্তা ও দৈনন্দিন কাজেও সংযম বজায় রাখা জরুরি।
প্রখ্যাত আলেম মুফতি জাকারিয়া হারুন বলেছেন, রোজা অবস্থায় কিছু কাজ সরাসরি রোজা ভঙ্গ না করলেও তা মাকরুহ (অনুচিত) হিসেবে বিবেচিত হয়, যা রোজার মর্যাদা ও সওয়াব কমিয়ে দিতে পারে। নিচে এমন কয়েকটি বিষয়ের আলোচনা তুলে ধরা হলো—
অজু বা গোসলে অতিরিক্ত কুলি ও নাকে পানি দেওয়া
রোজা অবস্থায় কুলি বা নাকে পানি দেওয়ার সময় অতিরিক্ত গভীর পর্যন্ত পানি পৌঁছে দেওয়া মাকরুহ। বিশেষ করে নাকের নরম অংশ পর্যন্ত পানি পৌঁছানো থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
লাকিত ইবনে সবিরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “অজু বা গোসলের সময় ভালোভাবে নাকে পানি দাও, তবে রোজাদার হলে নয়।”
(তিরমিজি, হাদিস: ৭৬৬; আবু দাউদ: ১/৩২২)
এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, রোজা অবস্থায় অপ্রয়োজনীয় বাড়াবাড়ি থেকে সতর্ক থাকা উচিত।
শরীরকে দুর্বল করে এমন কাজ
রোজা অবস্থায় এমন কাজ করা মাকরুহ, যা শরীরকে অতিরিক্ত দুর্বল করে ফেলে। যেমন—শিঙা লাগানো।
ফিকহের কিতাব আলমুহীতুল বুরহানী (৩/৩৫৬) ও ফাতাওয়া হিন্দিয়া (১/২০০)-তে উল্লেখ আছে, যদি কোনো কাজের কারণে রোজাদার মারাত্মক দুর্বল হয়ে পড়ে, তবে তা পরিহার করাই উত্তম।
রক্ত বের হওয়া ও ইনজেকশন প্রসঙ্গ
রোজা অবস্থায় শরীর থেকে রক্ত বের হলে রোজা ভেঙে যায় না। এমনকি ইনজেকশনের মাধ্যমে রক্ত বের হলেও রোজা সহিহ থাকবে।
তবে ইচ্ছাকৃতভাবে এমনভাবে রক্ত বের করা, যাতে রোজাদার দুর্বল হয়ে পড়ে—তা মাকরুহ।
সাবেত আল-বুনানী (রহ.) বর্ণনা করেছেন, আনাস (রা.) বলেন: “রোজা অবস্থায় শিঙা ব্যবহার করা নিজে মাকরুহ নয়; তবে যদি এতে দুর্বল হয়ে যায়, তা মাকরুহ হবে।”
(বুখারি, হাদিস: ১৯৪০; রদ্দুল মুহতার ২/৩৯৫)
গিবত, গালি ও গুনাহ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ
রোজার প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো আত্মসংযম ও নৈতিক শুদ্ধি অর্জন। তাই গিবত, গালি-গালাজ, অশ্লীল কথা, টিভি-সিনেমা দেখা, গান-বাদ্য শোনা কিংবা বড় ধরনের গুনাহে লিপ্ত হওয়া রোজার আত্মাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং তা মাকরুহ হিসেবে বিবেচিত হয়।
হাদিসে কুদসিতে মহান আল্লাহ বলেন: “তোমাদের কেউ যখন রোজা রাখে, তখন সে যেন অশ্লীল কথা না বলে এবং হট্টগোল ও শোরগোল থেকে বিরত থাকে।”
(বুখারি, হাদিস: ১৯০৪)
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “যে ব্যক্তি মিথ্যা-প্রতারণা ও গুনাহের কাজ ত্যাগ করে না, মহান আল্লাহর কাছে তার পানাহার থেকে বিরত থাকা কোনো মূল্য নেই।”
(বুখারি, হাদিস: ১৯০৩; আবু দাউদ, হাদিস: ৩৩৬২)
রোজার মূল শিক্ষা
রোজা কেবল ক্ষুধা-তৃষ্ণা সহ্য করার নাম নয়; বরং এটি আত্মশুদ্ধির এক মহাসাধনা। তাই মাকরুহ ও গুনাহের কাজ থেকে দূরে থেকে ইবাদত, ধৈর্য ও উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে রমজানের প্রকৃত তাৎপর্য অর্জন করাই একজন মুমিনের লক্ষ্য হওয়া উচিত।

বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু। মধ্যপ্রাচ্যের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এই প্রণালী দিয়েই বিশ্ববাজারে প্রবেশ করে।
৬ ঘণ্টা আগে

মানুষের জীবনে প্রতিদিনের ব্যস্ততা ও দুশ্চিন্তার মাঝেও আত্মিক শান্তির সন্ধান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম আমাদের শেখায়, দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করা যায়।
১৯ ঘণ্টা আগে

রোগ মানুষের জীবনের এমন এক অধ্যায়, যা কখনোই পুরোপুরি এড়ানো যায় না। শরীর অসুস্থ হলে শুধু দেহ নয়, মনও ভেঙে পড়ে। এই দুর্বল মুহূর্তেই একজন মানুষ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বোধ করে আশ্রয়, সান্ত্বনা এবং আল্লাহর রহমতের।
২ দিন আগে

জীবনে মানুষের চাহিদা ও প্রয়োজন কখনোই শেষ হয় না। অভাব ও লোভের চাপ অনেক সময় মানুষকে হালাল-হারামের সীমা ভুলিয়ে দেয়। কিন্তু ইসলামে একজন মুমিনকে শেখানো হয়েছে, সে যেন সবসময় পবিত্র ও বরকতময় রিজিকের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করে।
১০ এপ্রিল ২০২৬

মুসলমানদের জন্য জুমার দিন শুধু সাপ্তাহিক দিবস নয় এটি বরকত, রহমত ও নূরে পরিপূর্ণ এক মহান দিন। এই দিনের প্রতিটি মুহূর্ত আল্লাহর মেহেরবানির ছায়ায় ঢাকা। আর সেই বিশেষ দিনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আমল হলো সুরা কাহাফ তিলাওয়াত।
১০ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: পবিত্র রমজান মাসের এক মাস সিয়াম সাধনার পর যখন শাওয়ালের চাঁদ দেখা যায়, তখন মুসলিম বিশ্বের হৃদয়ে নেমে আসে আনন্দ, প্রশান্তি ও কৃতজ্ঞতার আবহ। সেই আনন্দকে পূর্ণতা দেয় পবিত্র ঈদুল ফিতরের দুই রাকাত নামাজ। মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হিসেবে ঈদের নামাজ মুসলিম সমাজে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
২১ মার্চ ২০২৬

রাকিব: পবিত্র মাহে রমজান ধীরে ধীরে বিদায়ের পথে। রহমত ও মাগফিরাতের পর এখন চলছে নাজাতের পর্ব রমজানের শেষ দশ দিন। ইসলামে এই সময়টিকে ইবাদত-বন্দেগির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
১০ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: বর্তমান বিশ্ব এক অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত ক্রমবর্ধমান, আর বিশ্বের নানা অঞ্চলে যুদ্ধের উত্তেজনা বাড়ছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এই পরিস্থিতি হাদিসে বর্ণিত শেষ জামানার মহাযুদ্ধ বা ‘মালহামা’-র আগাম সংকেত। বিশেষ করে ইরানের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান এবং সেখানে সংঘটিত সাম্প্রতিক ঘটনা ১৪০০ বছর আগের নবীর পূর্বাভাসের আলোকে নতুনভাবে আলোচিত হচ্ছে।
৩ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইসলামি ইতিহাসের পাতায় চৌদ্দশ বছর আগে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এমন কিছু কালজয়ী ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, যা বর্তমান বিশ্বের—বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার—রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিচ্ছে। হাদিস শরীফে বর্ণিত এই সুদূরপ্রসারী বার্তাটি 'গাজওয়াতুল হিন্দ' বা 'হিন্দুস্তানের যুদ্ধ' নামে পরিচিত। বর্তমানের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ক্ষমতার রদবদল কি সেই প্রাচীন বার্তার দিকেই কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছে? এই প্রশ্নটি এখন কেবল ধর্মীয় মহলে নয়, বরং অনেক সমর বিশ্লেষকের মনেও ঘুরপাক খাচ্ছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬