
নিজস্ব প্রতিবেদক: যখন আল্লাহ কাউকে ভালোবাসেন, তখন তার জীবনে কিছু বিশেষ নিদর্শন বা আলামত দেখা যায়। এসব আলামত হাদিসে বর্ণিত রয়েছে। এখানে চারটি গুরুত্বপূর্ণ আলামত তুলে ধরা হলো:
১. মানুষ আপনাকে ভালোবাসবে
আল্লাহ যদি কাউকে ভালোবাসেন, তাহলে তিনি তা ফেরেশতাদের জানান। ফেরেশতারা সেই ব্যক্তির প্রতি ভালোবাসা ঘোষণা করেন। এরপর আসমান ও জমিনে, মানুষের হৃদয়ে সেই ব্যক্তির প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি হয়। এর ফলে মানুষ তাকে সম্মান করে, ভালোবাসে এবং তার পাশে থাকতে চায়। তবে যদি আল্লাহ কাউকে অপছন্দ করেন, তিনি ফেরেশতাদের মাধ্যমে সেটি জানান, এবং ধীরে ধীরে সেই ব্যক্তি পৃথিবীতে অপ্রিয় হয়ে পড়ে।
২. জীবনে পরীক্ষা ও কষ্টের আগমন
আল্লাহ যাদের ভালোবাসেন, তাদেরকে তিনি নানা ধরনের বিপদ, কষ্ট, রোগ ও দুঃখ দিয়ে পরীক্ষা করেন। এই কষ্টগুলো আসলে তার ভালোবাসার নিদর্শন। যে ব্যক্তি ধৈর্য সহকারে এসব কষ্ট সহ্য করে, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য, তার জন্য জান্নাতের প্রতিদান অপেক্ষা করছে। কিন্তু কেউ যদি কষ্টের সময় অস্থির হয়ে যায়, অভিযোগ করতে থাকে বা আল্লাহর প্রতি অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে, সে আল্লাহর ভালোবাসা থেকে দূরে চলে যেতে পারে।
৩. দুনিয়ার মোহ থেকে দূরে থাকেন
যে ব্যক্তি আল্লাহর ভালোবাসায় মত্ত থাকে, তাকে আল্লাহ কখনো কখনো দুনিয়ার মোহ, টাকা-পয়সা, পদ-বদলি এসব থেকে দূরে রাখেন। কারণ, তিনি জানেন, এই দুনিয়ার অনুষঙ্গগুলো তার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। যেমন, একজন মা তার অসুস্থ সন্তানকে পানির হাত থেকে দূরে রাখে যাতে সে আরো অসুস্থ না হয়, তেমনি আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাকে দুনিয়ার ক্ষতি থেকে রক্ষা করেন। আমরা যে কিছু চাই তা না পাওয়া, মাঝে মাঝে আল্লাহর রহমত হতে পারে।
৪. ভালো কাজের তাওফিক দেন
আল্লাহ যাকে ভালোবাসেন, তাকে ভালো কাজ করার সুযোগ দেন — নামাজ, রোজা, দান, ইবাদত, ভালো আচরণ ইত্যাদি। যদি আপনি নিজের মধ্যে এমন পরিবর্তন লক্ষ্য করেন যে, আপনি নেক আমলের প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন, তবে বুঝতে হবে — এটি আল্লাহর বিশেষ রহমত ও ভালোবাসার আলামত।
আল্লাহর ভালোবাসা কোনো সাধারণ বিষয় নয়। আমাদের উচিত নিজেদের আমল সঠিকভাবে করা, ধৈর্য ধরতে শেখা, দুনিয়ার মোহ কমিয়ে ভালো কাজে উৎসাহী হওয়া। আল্লাহ যেন আমাদেরকে তাঁর প্রিয় বান্দাদের কাতারে শামিল করেন।

দাম্পত্য জীবনে নানা কারণে টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন বিরোধ চলতে থাকলে এবং পারস্পরিকভাবে তা সমাধানের কোনো পথ খুঁজে পাওয়া না গেলে ইসলামে বিবাহবিচ্ছেদের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে বিচ্ছেদকে সহজ বা প্রথম সমাধান হিসেবে গ্রহণ না করে সম্ভব হলে দাম্পত্য সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য উদ্যোগ নেওয়ার প্রতি কোরআন ও হাদিসে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে

ইমানের পর ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো সালাত বা নামাজ। নামাজ ইসলামের প্রাণ এবং একজন মুমিনের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ আদায়ের পাশাপাশি ইসলামী শরিয়তে বিভিন্ন নফল নামাজ আদায়েরও বিধান রয়েছে।
২ দিন আগে

মুসলমানদের কাছে জুমার দিন সপ্তাহের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ দিন। এ দিনকে ঘিরে রয়েছে বিশেষ কিছু ইবাদত ও আমল। এর মধ্যে অন্যতম হলো বেশি বেশি দোয়া করা। হাদিসে জুমার দিনের এমন একটি বিশেষ সময়ের কথা বর্ণিত হয়েছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কল্যাণকর কিছু চাইলে আল্লাহ তাকে তা দান করেন। তবে সেই বিশেষ সময়টি দিনের ঠিক কোন অংশ—এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে একাধিক মত রয়েছে।
২৮ আগস্ট ২০২৬

ইমানের পর একজন মুমিনের জন্য ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ আমল হলো নামাজ। একজন মুমিন ও কাফেরের মধ্যে বড় পার্থক্যগুলোর একটি হলো নামাজ। নিয়মিত নামাজ মানুষকে দুনিয়ার বিভিন্ন খারাপ ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
২১ আগস্ট ২০২৬

চলতি বছরটি শেষ হওয়ার আগেই আগামী ২০২৭ সালের (১৪৪৮ হিজরি) পবিত্র রমজান মাস এবং ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে মুসলিম বিশ্বের পাশাপাশি দেশের সাধারণ মানুষের মাঝেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল ও আগ্রহ। মধ্যপ্রাচ্যের জ্যোতির্বিজ্ঞান ভিত্তিক গবেষণা এবং প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৭ সালে পবিত্র রমজান মাস শুরুর সম্ভাব্য তারিখ এবং দুই ঈদের মূল কাঠামো কেমন হতে পারে, সে বিষয়ে একটি প্রাথমিক ধারণা পাওয়া গেছে।
৩০ জুলাই ২০২৬

দিনভর ব্যস্ততা, কর্মজীবনের চাপ আর নানা দুশ্চিন্তার পর রাতের ঘুমই হয়ে ওঠে মানুষের সবচেয়ে বড় প্রশান্তির সময়। কিন্তু অনেকেই ঘুমানোর আগে সময় কাটান মোবাইল ফোনে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিংবা অপ্রয়োজনীয় কাজে। অথচ ইসলাম একজন মুমিনের জন্য ঘুমানোর আগেও রেখে দিয়েছে সহজ কিন্তু অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি আমল, যা পালন করতে সময় লাগে মাত্র এক মিনিট।
১৮ জুন ২০২৬

পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ শুধু জীবদ্দশায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং তাদের মৃত্যুর পরও এই দায়িত্ব অব্যাহত রাখার নির্দেশনা এসেছে হাদিসে।
১ জুন ২০২৬

মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে আনন্দের দিনগুলোর একটি ঈদুল আজহা। ত্যাগ, আনুগত্য ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের শিক্ষা নিয়ে প্রতি বছর জিলহজ মাসের ১০ তারিখে আসে কোরবানির এই ঈদ। এই দিনটিকে ঘিরে মুসলমানদের মধ্যে থাকে বিশেষ প্রস্তুতি, আর দিনের শুরু হয় ঈদের নামাজের মাধ্যমে।
২৭ মে ২০২৬

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর মুসলমানদের মধ্যে কুরবানি নিয়ে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা দেখা যায়। বিশেষ করে যৌথ পরিবারে বসবাসকারীদের মধ্যে একটি প্রচলিত ধারণা হলো, পরিবারের একজন সদস্য, বিশেষ করে পরিবারের প্রধান ব্যক্তি কুরবানি দিলেই পুরো পরিবারের পক্ষ থেকে দায়িত্ব আদায় হয়ে যায়। কিন্তু ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি ভিন্ন।
২২ মে ২০২৬