
নিজস্ব প্রতিবেদক: ইসলামের ইতিহাসে এমন কিছু চরিত্র রয়েছে, যাদের নাম আজও উচ্চারিত হয় ঘৃণা ও শিক্ষা হিসেবে। তারা শুধু নবীর বিরোধিতা করেনি, চেয়েছিল সত্য ও ন্যায়ের আলোকে চিরতরে নিভিয়ে দিতে। তেমনই একজন ছিলেন উম্মে জামিল—একজন নারী, যার নাম স্বয়ং কুরআনে চিরন্তন অভিশাপে লিপিবদ্ধ।
তিনি ছিলেন প্রভাবশালী কুরাইশ বংশের কন্যা এবং নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর চাচা, আবু লাহাবের স্ত্রী। সম্মান, বিত্ত, প্রভাব—সমস্ত কিছুই ছিল তার দখলে। কিন্তু তার অন্তর ছিল অহংকারে পূর্ণ, বিদ্বেষে অন্ধ, এবং ঘৃণায় পুড়ে ছাই।
যখন নবী মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বার্তা প্রচার শুরু করেন, তখন উম্মে জামিল সেই বার্তার প্রথম ও অন্যতম প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠেন। ইসলাম তার কাছে শুধু একটি ধর্ম ছিল না, ছিল তার সামাজিক মর্যাদা ও ক্ষমতার জন্য এক ভয়ানক হুমকি। তিনি বিশ্বাস করতেন, নবীর আহ্বান ছড়িয়ে পড়লে তার রাজত্ব শেষ হয়ে যাবে।
এই নারী শুধুমাত্র বিরোধিতা করেই থেমে থাকেননি—তিনি চক্রান্তে লিপ্ত হন। মক্কার বাজারে দাঁড়িয়ে প্রচার করতেন, “মুহাম্মদ এক যাদুকর, পাগল, মিথ্যাবাদী।” তিনি নারীসমাজকে উস্কে দিতেন নবী ও তাঁর স্ত্রী খাদিজার বিরুদ্ধে। গুজব ছড়ানো, অপবাদ রটানো—এসব ছিল তার প্রতিদিনের অস্ত্র।
উম্মে জামিলের শত্রুতা এতটাই গভীর ছিল যে, তিনি মাঝে মাঝে নবীর চলার পথে কাঁটা ছড়িয়ে দিতেন, সাহাবিদের হুমকি দিতেন, এমনকি নিজ হাতে পাথর তুলে নবীকে আঘাত করতে মসজিদ পর্যন্ত ছুটে গিয়েছিলেন। কিন্তু আল্লাহর হেফাজতে নবীকে সেই মুহূর্তে তিনি দেখতে পাননি।
আবু লাহাব ও উম্মে জামিল একত্র হয়ে ইসলামকে মুছে ফেলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পরিণতি হলো বিপরীত—তাদের নামই হয়ে গেলো কিয়ামত পর্যন্ত কলঙ্কের প্রতীক। কুরআনের সূরা আল-মাসাদে তাদের অভিশপ্ত পরিণতির বর্ণনা এসেছে স্পষ্টভাবে—“তারা জ্বলন্ত আগুনে পোড়াবে, আর উম্মে জামিল গলায় মোটা দড়ি বেঁধে কাঠ বহন করবে।”
আবু লাহাব এক জঘন্য রোগে মারা যান, এতটাই ভয়ঙ্কর ছিল তার অবস্থা যে, মৃতদেহের কাছে যাওয়ার সাহসও কেউ করেনি। উম্মে জামিল তাকে একা ফেলে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তার নিজের মৃত্যুও হয়েছিল এক করুণ, অবমাননাকর অবস্থায়—কখনো বলা হয়, পাথরের নিচে চাপা পড়ে, আবার কেউ বলেন, দড়িতে শ্বাসরোধ হয়ে।
এই ঘটনা শুধু অতীত ইতিহাস নয়, এটি একটি সতর্কবার্তা। যখন অহংকার, ঘৃণা ও অন্যায়ের পথ বেছে নেওয়া হয়, যখন সত্যকে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়—তার পরিণতি হয় ভয়াবহ, এই দুনিয়া ও আখিরাতে উভয় জগতেই।
মক্কার এই ক্ষমতাধর নারী এক সময় মানুষের ভয়ে কাঁপাতেন, কিন্তু তার অন্তরের অন্ধতা তাকে এমন গহ্বরে ফেলে দেয়, যেখান থেকে মুক্তি ছিল না। ইতিহাস আজও তাকে মনে রাখে—একজন নারী হিসেবে নয়, বরং 'জাহান্নামের মা' হিসেবে।

দাম্পত্য জীবনে নানা কারণে টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন বিরোধ চলতে থাকলে এবং পারস্পরিকভাবে তা সমাধানের কোনো পথ খুঁজে পাওয়া না গেলে ইসলামে বিবাহবিচ্ছেদের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে বিচ্ছেদকে সহজ বা প্রথম সমাধান হিসেবে গ্রহণ না করে সম্ভব হলে দাম্পত্য সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য উদ্যোগ নেওয়ার প্রতি কোরআন ও হাদিসে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে

ইমানের পর ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো সালাত বা নামাজ। নামাজ ইসলামের প্রাণ এবং একজন মুমিনের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ আদায়ের পাশাপাশি ইসলামী শরিয়তে বিভিন্ন নফল নামাজ আদায়েরও বিধান রয়েছে।
২ দিন আগে

মুসলমানদের কাছে জুমার দিন সপ্তাহের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ দিন। এ দিনকে ঘিরে রয়েছে বিশেষ কিছু ইবাদত ও আমল। এর মধ্যে অন্যতম হলো বেশি বেশি দোয়া করা। হাদিসে জুমার দিনের এমন একটি বিশেষ সময়ের কথা বর্ণিত হয়েছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কল্যাণকর কিছু চাইলে আল্লাহ তাকে তা দান করেন। তবে সেই বিশেষ সময়টি দিনের ঠিক কোন অংশ—এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে একাধিক মত রয়েছে।
২৮ আগস্ট ২০২৬

ইমানের পর একজন মুমিনের জন্য ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ আমল হলো নামাজ। একজন মুমিন ও কাফেরের মধ্যে বড় পার্থক্যগুলোর একটি হলো নামাজ। নিয়মিত নামাজ মানুষকে দুনিয়ার বিভিন্ন খারাপ ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
২১ আগস্ট ২০২৬

চলতি বছরটি শেষ হওয়ার আগেই আগামী ২০২৭ সালের (১৪৪৮ হিজরি) পবিত্র রমজান মাস এবং ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে মুসলিম বিশ্বের পাশাপাশি দেশের সাধারণ মানুষের মাঝেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল ও আগ্রহ। মধ্যপ্রাচ্যের জ্যোতির্বিজ্ঞান ভিত্তিক গবেষণা এবং প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৭ সালে পবিত্র রমজান মাস শুরুর সম্ভাব্য তারিখ এবং দুই ঈদের মূল কাঠামো কেমন হতে পারে, সে বিষয়ে একটি প্রাথমিক ধারণা পাওয়া গেছে।
৩০ জুলাই ২০২৬

দিনভর ব্যস্ততা, কর্মজীবনের চাপ আর নানা দুশ্চিন্তার পর রাতের ঘুমই হয়ে ওঠে মানুষের সবচেয়ে বড় প্রশান্তির সময়। কিন্তু অনেকেই ঘুমানোর আগে সময় কাটান মোবাইল ফোনে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিংবা অপ্রয়োজনীয় কাজে। অথচ ইসলাম একজন মুমিনের জন্য ঘুমানোর আগেও রেখে দিয়েছে সহজ কিন্তু অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি আমল, যা পালন করতে সময় লাগে মাত্র এক মিনিট।
১৮ জুন ২০২৬

পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ শুধু জীবদ্দশায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং তাদের মৃত্যুর পরও এই দায়িত্ব অব্যাহত রাখার নির্দেশনা এসেছে হাদিসে।
১ জুন ২০২৬

মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে আনন্দের দিনগুলোর একটি ঈদুল আজহা। ত্যাগ, আনুগত্য ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের শিক্ষা নিয়ে প্রতি বছর জিলহজ মাসের ১০ তারিখে আসে কোরবানির এই ঈদ। এই দিনটিকে ঘিরে মুসলমানদের মধ্যে থাকে বিশেষ প্রস্তুতি, আর দিনের শুরু হয় ঈদের নামাজের মাধ্যমে।
২৭ মে ২০২৬

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর মুসলমানদের মধ্যে কুরবানি নিয়ে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা দেখা যায়। বিশেষ করে যৌথ পরিবারে বসবাসকারীদের মধ্যে একটি প্রচলিত ধারণা হলো, পরিবারের একজন সদস্য, বিশেষ করে পরিবারের প্রধান ব্যক্তি কুরবানি দিলেই পুরো পরিবারের পক্ষ থেকে দায়িত্ব আদায় হয়ে যায়। কিন্তু ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি ভিন্ন।
২২ মে ২০২৬