
নিজস্ব প্রতিবেদক: আখেরি জামানার অন্যতম বড় নিদর্শন হিসেবে ইমাম মাহদী (আ.)-এর আগমন গণ্য করা হয়। হাদিস ও প্রাচীন ইসলামী কিতাবসমূহে বর্ণিত রয়েছে যে, ইমাম মাহদী (আ.)-এর আগমনের পূর্বে পৃথিবীতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও চিহ্ন ঘটবে। আজ আমরা আলোচনা করবো সেই তিন মহান ব্যক্তির আগমনের বিষয়ে, যাঁদের আগমন হবে ইমাম মাহদী (আ.)-এর খেলাফতের পথ সুগম করার উদ্দেশ্যে।
১. ইমাম মাহমুদ ও সাহেবে কেরাম
হযরত ফিরোজ তাইলা (র.আ.)-এর বর্ণিত একটি হাদিসে উল্লেখিত হয়েছে যে, ইমাম মাহদী (আ.)-এর আগমনের পূর্বে একজন মহান নেতা আত্মপ্রকাশ করবেন, যাঁর নাম হবে ইমাম মাহমুদ। তিনি এক মহাবিশাল যুদ্ধের নেতৃত্ব দেবেন, যা আধুনিক সভ্যতার ভিত কাঁপিয়ে দেবে। এই যুদ্ধের ফলস্বরূপ সভ্যতা এমন এক অবস্থায় ফিরে যাবে, যেখানে প্রযুক্তির আধিপত্য থাকবে না।
এই যুদ্ধে তাঁকে সহায়তা করবেন তাঁর বিশ্বস্ত সহকর্মী সাহেবে কেরাম বা শামিম বাররা। হাদিসে বলা হয়েছে যে, ইমাম মাহমুদ বেলাল ইবনে রাবাহ (র.আ.)-এর বংশধর হবেন এবং যুদ্ধটি হিন্দুস্তান অঞ্চলে পরিচালিত হবে।
২. ইমাম মানসুর ও হারিস ইবনে হারস
হাদিস অনুসারে, ইমাম মাহদী (আ.)-এর আগমনের পূর্বে দ্বিতীয় একজন মহান নেতা আত্মপ্রকাশ করবেন, যাঁর নাম হবে ইমাম মানসুর। তিনি ইয়েমেন থেকে আত্মপ্রকাশ করবেন এবং তাঁকে সহায়তা করবেন হারিস ইবনে হারস নামক একজন বিশ্বস্ত সেনাপতি।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "নদীর পেছন থেকে একজন ব্যক্তির আগমন ঘটবে, যার নাম হবে হারিস ইবনে হারস। তার আগে আসবেন মানসুর, যিনি ইমাম মাহদী (আ.)-কে আশ্রয় দেবেন, যেভাবে কুরাইশরা রাসূল (সা.)-কে আশ্রয় দিয়েছিল।"
এই হাদিসটি আবু দাউদ শরীফ, হাদিস নম্বর ৪২৪০-এ বর্ণিত হয়েছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, ইমাম মানসুর ও তাঁর সহযোগী ইমাম মাহদী (আ.)-এর খেলাফতের প্রস্তুতির অন্যতম স্তম্ভ হবেন।
৩. শোয়েব ইবনে সালেহ: তামিমি বীর
তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবেন শোয়েব ইবনে সালেহ (বা সালেহ ইবনে শোয়েব)। তিনি তামিম গোত্রের সদস্য হবেন এবং তার বাহিনীর টুপি কালো ও পোশাক সাদা হবে। তাঁর বাহিনী খোরাসান থেকে আগমন করবে এবং শাম থেকে আসা সিরিয়ার ৩০০ সৈন্য তাঁর সঙ্গে মিলিত হবে।
এদের সংগ্রাম এমন দৃঢ় ও অটল হবে যে, হাদিসে উল্লেখিত হয়েছে: "যদি তিনি পাহাড়ের সম্মুখীন হন, তবে পাহাড়কেও কাঁপিয়ে দেবেন।"
শোয়েব ইবনে সালেহ (র.)-এর আত্মপ্রকাশের পর ৭২ মাসের মধ্যে ইমাম মাহদী (আ.) খেলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তাঁর নেতৃত্বে বাহিনী সুফিয়ানি বাহিনীকে পরাজিত করে বাইতুল মাকদাসে প্রবেশ করবে।
সোহাগ/

পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ শুধু জীবদ্দশায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং তাদের মৃত্যুর পরও এই দায়িত্ব অব্যাহত রাখার নির্দেশনা এসেছে হাদিসে।
১ জুন ২০২৬

মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে আনন্দের দিনগুলোর একটি ঈদুল আজহা। ত্যাগ, আনুগত্য ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের শিক্ষা নিয়ে প্রতি বছর জিলহজ মাসের ১০ তারিখে আসে কোরবানির এই ঈদ। এই দিনটিকে ঘিরে মুসলমানদের মধ্যে থাকে বিশেষ প্রস্তুতি, আর দিনের শুরু হয় ঈদের নামাজের মাধ্যমে।
২৭ মে ২০২৬

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর মুসলমানদের মধ্যে কুরবানি নিয়ে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা দেখা যায়। বিশেষ করে যৌথ পরিবারে বসবাসকারীদের মধ্যে একটি প্রচলিত ধারণা হলো, পরিবারের একজন সদস্য, বিশেষ করে পরিবারের প্রধান ব্যক্তি কুরবানি দিলেই পুরো পরিবারের পক্ষ থেকে দায়িত্ব আদায় হয়ে যায়। কিন্তু ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি ভিন্ন।
২২ মে ২০২৬

প্রত্যেক প্রাণীকেই একদিন এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী ছেড়ে চিরস্থায়ী জীবনের পথে যাত্রা করতে হবে এটাই মানবজীবনের চিরন্তন বাস্তবতা। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন: প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। আর কিয়ামতের দিন তোমাদের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে। যে ব্যক্তি জাহান্নাম থেকে রক্ষা পেয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে, সেই-ই প্রকৃত সফল। আর পার্থিব জীবন শুধুই ছলনার বস্তু।
২ মে ২০২৬

ঈদুল ফিতরের আনন্দ-উৎসব শেষ না হতেই মুসলিম বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহার প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে শুরু হয়েছে আগাম আলোচনা ও অপেক্ষা। এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ আরব আমিরাত ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছে, যার ভিত্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য তারিখ নিয়েও ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।
২১ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু। মধ্যপ্রাচ্যের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এই প্রণালী দিয়েই বিশ্ববাজারে প্রবেশ করে।
১৯ এপ্রিল ২০২৬

মানুষের জীবনে প্রতিদিনের ব্যস্ততা ও দুশ্চিন্তার মাঝেও আত্মিক শান্তির সন্ধান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম আমাদের শেখায়, দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করা যায়।
১৮ এপ্রিল ২০২৬

রোগ মানুষের জীবনের এমন এক অধ্যায়, যা কখনোই পুরোপুরি এড়ানো যায় না। শরীর অসুস্থ হলে শুধু দেহ নয়, মনও ভেঙে পড়ে। এই দুর্বল মুহূর্তেই একজন মানুষ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বোধ করে আশ্রয়, সান্ত্বনা এবং আল্লাহর রহমতের।
১৬ এপ্রিল ২০২৬

জীবনে মানুষের চাহিদা ও প্রয়োজন কখনোই শেষ হয় না। অভাব ও লোভের চাপ অনেক সময় মানুষকে হালাল-হারামের সীমা ভুলিয়ে দেয়। কিন্তু ইসলামে একজন মুমিনকে শেখানো হয়েছে, সে যেন সবসময় পবিত্র ও বরকতময় রিজিকের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করে।
১০ এপ্রিল ২০২৬