
সিনিয়ার রিপোর্টার

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর শূন্য হওয়া এই সাংবিধানিক পদে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে কে আসীন হবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির অভ্যন্তরীণ ভাবনা এবং মনোনয়নের মাপকাঠি নিয়ে নতুন সব তথ্য সামনে আসায় রাজনৈতিক অঙ্গনের উষ্ণতা আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে।
অতীতের বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকটের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বিএনপি এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে চরম সতর্কতা অবলম্বন করতে চাইছে। দলীয় সূত্র ও শীর্ষ নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী রাষ্ট্রপতি মনোনয়নের ক্ষেত্রে মূলত তিনটি মৌলিক বিষয়ের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে—দেশের প্রতি অবিচল আস্থা, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দক্ষতা-প্রজ্ঞা এবং যেকোনো জাতীয় সংকটে সাহসিকতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা।
মনোনয়নের একক ক্ষমতা এবং দলের ভেতর তিন মূল মানদণ্ডের গুরুত্ব
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মনোনয়নের সাংগঠনিক ও চূড়ান্ত এখতিয়ার বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে অর্পিত রয়েছে। তবে দলটির নীতিনির্ধারণী ফোরামের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রয়োজন সাপেক্ষে জাতীয় স্থায়ী কমিটির সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেই এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে। বিএনপি এমন একজন সর্বজনগ্রাহ্য ব্যক্তিত্বকে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে দেখতে চায়, যিনি কেবল রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্যই হবেন না, বরং যেকোনো রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে অনন্য বিচক্ষণতা ও সুদৃঢ় নৈতিকতার পরিচয় দিতে সক্ষম হবেন।
এ প্রসঙ্গে দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে দলের ভেতর প্রাতিষ্ঠানিক ফোরামে আলোচনা করেই সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তার মতে, সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং গণতান্ত্রিক ধারায় বিশ্বাসী একজন সর্বজনগ্রাহ্য ব্যক্তিকেই দল এবার রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনয়ন দিতে আগ্রহী। একই সুরে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও মন্তব্য করেছেন যে, দেশের প্রতি পরিপূর্ণ আনুগত্যশীল, দক্ষ, বিজ্ঞ এবং সর্বমহলে সমাদৃত একজন ব্যক্তিকেই এই পদে দেখতে চায় দল।
---দুটি ঐতিহাসিক উদাহরণ: আবদুর রহমান বিশ্বাসের দৃঢ়তা বনাম অতীতের বিতর্ক
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির অভ্যন্তরীণ আলোচনায় অতীতের বেশ কয়েকজন রাষ্ট্রপতির ভূমিকা গভীর বিশ্লেষণের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। দলটির নেতারা ১৯৯৬ সালের রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাসের কালজয়ী ভূমিকার কথা অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন। তাদের মতে, সে সময় চরম রাজনৈতিক ও সামরিক সংকটের মুহূর্তে আবদুর রহমান বিশ্বাসের বিচক্ষণ ও দৃঢ় অবস্থানের কারণেই তৎকালীন সেনাপ্রধানের একটি সম্ভাব্য অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া সম্ভব হয়েছিল।
পক্ষান্তরে, ২০০৬ সালের জটিল রাজনৈতিক সংকটের সময় রাষ্ট্রপতি ও তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের ভূমিকা নিয়ে দলের অভ্যন্তরে এখনো তীব্র সমালোচনা রয়েছে। একইভাবে সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর ক্ষেত্রেও দলীয় আনুগত্য ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তা থেকেও বর্তমান নেতৃত্ব শিক্ষা নিচ্ছে। অতীতের এই সমস্ত ইতিবাচক ও নেতিবাচক অভিজ্ঞতা মাথায় রেখেই এবার কোনো ধরনের বিতর্ক এড়াতে চাইছে দলটি।
সাংবিধানিক অভিভাবকত্ব ও সুশীল সমাজের মতামত: সেপ্টেম্বরেই কি নির্বাচন?
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ এই সাংবিধানিক পদে এমন একজন সৎ, যোগ্য ও মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিকে বসানো উচিত যিনি সর্বজনগ্রাহ্য। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরীর মতে, সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির নির্বাহী ক্ষমতা সীমিত হলেও যেকোনো জাতীয় সংকটের মুহূর্তে তার অভিভাবকসুলভ ভূমিকা অত্যন্ত নির্ণায়ক হয়ে ওঠে। একইভাবে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাও মনে করেন, রাষ্ট্রপতিকে অবশ্যই সংকটে দেশের প্রকৃত অভিভাবকের ভূমিকা পালনে সক্ষম হতে হবে।
এদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন সম্প্রতি জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সূত্রগুলোর জোরালো ধারণা, আগামী সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় সংসদের অধিবেশনেই দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত ২২ জন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালন করলেও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিতর্ক এড়িয়ে একজন দক্ষ, বিচক্ষণ ও সাহসী ব্যক্তিকে দেশের অভিভাবক হিসেবে বেছে নেওয়াই এখন বিএনপির প্রধান লক্ষ্য।

শিক্ষাব্যবস্থার চরম অব্যবস্থাপনা, বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং চাকরির নিয়োগে ব্যর্থতার অভিযোগে ভারতের তরুণ শিক্ষার্থীদের লাগাতার ও তীব্র আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজপথ। দিন যত গড়াচ্ছে, ভারতের অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতি ততই জটিল ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এবং তীব্র রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে পড়ে এখন নরেন্দ্র মোদির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এক কঠিন ও ঐতিহাসিক পরীক্ষার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যেভাবে পরিস্থিতি রূপ নিচ্ছে, তাতে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের ক্ষমতার পটপরিবর্তন ঘটার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
২৫ জুলাই ২০২৬

গুরুতর শারীরিক অসুস্থতা ও স্বাস্থ্যগত জটিলতার কারণে দেশের রাষ্ট্রপতির পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন।
২৫ জুলাই ২০২৬

২২তম রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের আকস্মিক পদত্যাগের পর শূন্য হওয়া বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ ২৩তম রাষ্ট্রপতির আসনে কে বসছেন, তা নিয়ে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক আলোচনা। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বর্তমান জাতীয় সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থীরই দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধান হওয়া একরকম নিশ্চিত। দলটির নীতিনির্ধারক ও সরকারি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রে এই দৌড়ে মূলত দলের শীর্ষস্থানীয় তিন নেতা এবং একজন দক্ষ আমলার নাম সবচেয়ে জোরালোভাবে উঠে আসছে।
২৫ জুলাই ২০২৬

সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে তৈরি হওয়া দেশজোড়া আলোচিত ভিডিও ও বিতর্ক নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এনেছেন সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক। তিনি দাবি করেছেন, ভাইরাল হওয়া ওই তরুণী নিজেই গাজী নজরুলের আজীবন সেবা করার চরম আবদার করেছিলেন।
২৪ জুলাই ২০২৬

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে একাধিক ব্যক্তিগত ও অন্তরঙ্গ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
২৩ জুলাই ২০২৬

সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের আরও একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে ভিডিওটি বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ভিডিওটি কবে এবং কোথায় ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানা যায়নি।
২৩ জুলাই ২০২৬

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ব্যক্তিগত ভিডিও নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে নিজের অবস্থান তুলে ধরে তিনি দাবি করেছেন, ভিডিওটি পরিকল্পিতভাবে গোপনে ধারণ করা হয়েছে এবং পরে সেটি ব্যবহার করে তাকে ব্ল্যাকমেইল ও রাজনৈতিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছে।
২১ জুলাই ২০২৬

মৃত্যুদণ্ডের সাজা মাথায় নিয়ে প্রায় দুই বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটাতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামী ডিসেম্বরের দিকেই তিনি দেশে ফেরার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করছেন। তবে লুকিয়ে নয়, বরং দেশে ফিরেই দলের শীর্ষ নেতাদের সাথে নিয়ে তিনি স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।
১০ জুলাই ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি মন্তব্যকে ঘিরে বুধবার রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। সকালে সিলেটে সফরের শুরুতেই বিমানবন্দরে উপস্থিত কয়েকজন সংসদ সদস্যকে দেখে প্রধানমন্ত্রী অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এরপর বিকেলেই সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীকে জাতীয় সংসদে উপস্থিত হতে দেখা যায়।
১৭ জুন ২০২৬