ঢাকা, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২

হাসান

রিপোর্টার

প্রতি ১০ জনে ১ জন ঝুঁকিতে: জানুন কিডনি সমস্যার আগাম সতর্কবার্তা

স্বাস্থ্য ডেস্ক . ২৪ নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৫ ১২:১৩:৫৫
প্রতি ১০ জনে ১ জন ঝুঁকিতে: জানুন কিডনি সমস্যার আগাম সতর্কবার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে কিডনি রোগ একটি ক্রমবর্ধমান কিন্তু নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকি। ২০২২ সালের এক সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশে প্রতি ১০০ জনে প্রায় ৮ থেকে ১০ জন কিডনি সমস্যায় ভুগছেন—অথচ অধিকাংশই তা জানেন না। আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বিশ্বে প্রতি ১০০ জনের মধ্যে প্রায় ২৩ জনের কোনো না কোনো ধরনের কিডনি জটিলতা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিডনি রোগের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—এটি দীর্ঘদিন কোনো স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই অগ্রসর হয়।

কেন এত বিপজ্জনক?;

মানবদেহে দুটি কিডনি রয়েছে। সাধারণত ৭০–৮০ শতাংশ কার্যক্ষমতা হারানোর আগে তেমন গুরুতর উপসর্গ প্রকাশ পায় না। ফলে অনেকেই শেষ পর্যায়ে গিয়ে রোগটি শনাক্ত করেন।

তবে শরীর আগে থেকেই কিছু সূক্ষ্ম সংকেত দেয়—যেগুলো সচেতন হলে সহজেই ধরা সম্ভব।

প্রাথমিক সতর্কতা চিহ্ন;

শুরুতেই যে লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে—

অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা শক্তি কমে যাওয়া

ক্ষুধামান্দ্য ও খাবারের প্রতি অনিচ্ছা

হঠাৎ বমি বমি ভাব

কোনো চর্মরোগ ছাড়াই চামড়া শুষ্ক ও চুলকানি

প্রস্রাবে তীব্র দুর্গন্ধ

ফেনাযুক্ত প্রস্রাব

ঘন ঘন প্রস্রাব, কিন্তু পরিমাণ কম

এসব লক্ষণকে অবহেলা করা ঠিক নয়, বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে থাকলে।

গুরুতর লক্ষণ যেগুলো দেখলে দেরি নয়;

কিডনির ক্ষতি বাড়লে দেখা দিতে পারে—

প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া বা ব্যথা

তলপেট বা কোমরের দুই পাশে স্থায়ী ব্যথা

প্রস্রাবের রঙ লালচে বা রক্তমিশ্রিত হওয়া

চোখের নিচে, মুখে বা শরীরের বিভিন্ন অংশে ফোলাভাব

হঠাৎ উচ্চ রক্তচাপ (আগে ইতিহাস না থাকলেও), সঙ্গে শ্বাসকষ্ট

মাংসপেশিতে বা রগে টান

জ্বরসহ উপসর্গ

এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ;

ঢাকার স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেড-এর রেসিডেন্ট মেডিকেল অফিসার ডা. হিমেল বিশ্বাস বলেন,“শুরুতেই কিডনি রোগের সতর্কতা চিহ্নগুলো চিনে নেওয়া প্রয়োজন। নিয়মিত পরীক্ষা ও সচেতন জীবনধারা কিডনি ক্ষতি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”

কারা বেশি ঝুঁকিতে?;

নিচের ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বছরে অন্তত দুইবার কিডনি পরীক্ষা করানো জরুরি—

ডায়াবেটিস রোগী

উচ্চ রক্তচাপ আছে এমন ব্যক্তি

অতিরিক্ত ওজনধারী

লবণ বেশি খান

ধূমপায়ী

পরিবারের কারো কিডনি রোগের ইতিহাস আছে

ঘন ঘন প্রস্রাবের সংক্রমণে ভোগেন

কিডনি সুস্থ রাখতে করণীয়;

পর্যাপ্ত পানি পান

লবণ কম খাওয়া

নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা

ওজন নিয়ন্ত্রণ

ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার

নিয়মিত ব্যায়াম

প্রস্রাবের সংক্রমণ হলে দ্রুত চিকিৎসা

কিডনি সমস্যা: প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ);

১. কিডনি রোগ কি ধীরে ধীরে বাড়ে?হ্যাঁ। এটি সাধারণত উপসর্গহীনভাবে অগ্রসর হয় এবং ৭০–৮০% ক্ষতি না হওয়া পর্যন্ত ধরা পড়ে না।

২. প্রাথমিক লক্ষণ কী?দুর্বলতা, ক্ষুধামান্দ্য, বমি ভাব, চুলকানি, ফেনাযুক্ত প্রস্রাব, দুর্গন্ধযুক্ত প্রস্রাব, ঘন ঘন কিন্তু কম প্রস্রাব।

৩. গুরুতর লক্ষণ কীভাবে বুঝব?ব্যথা, রক্তমিশ্রিত প্রস্রাব, ফোলাভাব, হঠাৎ উচ্চ রক্তচাপ, শ্বাসকষ্ট, জ্বর।

৪. কারা বেশি সতর্ক থাকবেন?ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ রোগী, স্থূল ব্যক্তি, ধূমপায়ী এবং পারিবারিক ইতিহাস আছে এমনরা।

৫. কখন চিকিৎসকের কাছে যাব?উপরের যে কোনো লক্ষণ দেখা দিলে বা ঝুঁকিপূর্ণ গ্রুপে থাকলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ