ঢাকা, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২

রাকিব

সিনিয়র রিপোর্টার

তবে কি ঈদুল ফিতরের আগেই নতুন পে-স্কেল আসছে!

জাতীয় ডেস্ক . ২৪ নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৪ ১৫:০১:০৪
তবে কি ঈদুল ফিতরের আগেই নতুন পে-স্কেল আসছে!

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে নতুন পে-স্কেল ঘোষণার দাবি নতুন করে জোরালো হয়ে উঠেছে। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তারা মনে করছেন, বর্তমান বেতন কাঠামো দিয়ে সংসার পরিচালনা করা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে উৎসবের সময়টিকে স্বস্তিদায়ক করতে দ্রুত নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার আহ্বান জানানো হচ্ছে নতুন সরকারের প্রতি।

দীর্ঘদিন বেতন কাঠামো অপরিবর্তিত

সরকারি কর্মচারীদের দাবি, সর্বশেষ অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে—যা এখন প্রায় এক দশক পুরোনো। এই সময়ে দ্রব্যমূল্য কয়েক গুণ বেড়ে গেলেও বেতন কাঠামোতে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনের মতে, বর্তমান বেতনে দৈনন্দিন খরচ সামলানো যেমন কঠিন, তেমনি উৎসবের বাড়তি ব্যয় বহন করাও প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। তাই ঈদের আগেই নতুন পে-স্কেল বা উল্লেখযোগ্য বেতন সমন্বয় তাদের অন্যতম প্রধান দাবি।

নতুন সরকারের প্রতি প্রত্যাশা

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সচিবালয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে—এমন সময়ে কর্মচারীদের প্রথম ও প্রধান প্রত্যাশা নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা। তাদের মতে, উৎসবের আগে পর্যাপ্ত আর্থিক স্বস্তি না থাকলে ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে যায়। তাই সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্বের কাছে তারা বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছেন।

প্রশাসনে প্রভাব নিয়ে বিশ্লেষণ

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশাসনের কর্মক্ষমতা ও গতিশীলতা বাড়াতে কর্মচারীদের আর্থিক সন্তুষ্টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নির্বাচনের পর নতুন সরকারের সামনে এটি যেমন একটি বড় চ্যালেঞ্জ, তেমনি একটি বড় সুযোগও। ঈদের আগে যদি নতুন পে-স্কেল বা বড় ধরনের আর্থিক ঘোষণা আসে, তাহলে প্রশাসনে নতুন উদ্দীপনা ও ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হতে পারে।

অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও সম্ভাব্য সমাধান

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন সরকারের বাজেটে বড় চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তবে কর্মচারী নেতাদের দাবি, অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে অন্তত ৫০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা অথবা বেতন দ্বিগুণ করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। তাদের মতে, এতে একদিকে কর্মচারীদের আর্থিক স্বস্তি মিলবে, অন্যদিকে প্রশাসনের কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সারাদেশের কয়েক লাখ সরকারি কর্মচারীর দৃষ্টি এখন নতুন মন্ত্রিসভার প্রাথমিক সিদ্ধান্তগুলোর দিকে। ঈদুল ফিতরের আগেই কি আসবে কাঙ্ক্ষিত সেই সুখবর—এই প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই।

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ