ঢাকা, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২

শহরের যান্ত্রিকতায় প্রশান্তির নতুন দাওয়াই ‘ব্লু হেলথ’: পানির সান্নিধ্য মস্তিষ্কের জন্য অপরিহার্য?

স্বাস্থ্য ডেস্ক . ২৪ নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৫ ১১:২৫:৩০
শহরের যান্ত্রিকতায় প্রশান্তির নতুন দাওয়াই ‘ব্লু হেলথ’: পানির সান্নিধ্য মস্তিষ্কের জন্য অপরিহার্য?

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, সমুদ্র, নদী কিংবা ছোট্ট কোনো পুকুরের ধারে সময় কাটালে আমাদের শরীরে স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা দ্রুত কমতে শুরু করে। পানির ঢেউয়ের ছন্দময় শব্দ আমাদের স্নায়ুতন্ত্রে এক ধরনের প্রশান্ত সিগন্যাল পাঠায়।

এই শব্দ ও দৃশ্য একসঙ্গে কাজ করে হৃদস্পন্দনকে স্থিতিশীল রাখে এবং মস্তিষ্ককে ‘ফাইট অর ফ্লাইট’ অবস্থা থেকে বের করে আনে। ফলে অকারণ উদ্বেগ বা মানসিক চাপ কমে আসে স্বাভাবিকভাবেই।

গবেষণার চমকপ্রদ তথ্য

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত পানির ধারে সময় কাটান—তাদের মধ্যে বিষণ্ণতা বা দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগের ঝুঁকি শহরের ঘিঞ্জি এলাকায় বসবাসকারীদের তুলনায় প্রায় ২৫% কম।

এটি শুধু মন ভালো রাখার বিষয় নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদে মানসিক স্থিতি ও কর্মক্ষমতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

শহরে থেকেও কীভাবে পাবেন ‘ব্লু হেলথ’?

সবাই সমুদ্রের ধারে বাড়ি করতে পারবেন না, কিংবা প্রতিদিন নদীর তীরে হাঁটাও সম্ভব নয়। তবে ছোট কিছু পরিবর্তন বড় প্রভাব ফেলতে পারে—

সপ্তাহে অন্তত একদিন কাছের নদী, লেক বা জলাধারের পাশে সময় কাটানো

বাড়িতে ছোট একটি অ্যাকুরিয়াম রাখা

কাজের ফাঁকে পানির শব্দ শোনা (রেইন সাউন্ড, ওয়েভ সাউন্ড)

ছুটির দিনে জলাভূমি বা সমুদ্রসৈকতে ছোট ভ্রমণ

এই ছোট অভ্যাসগুলো দীর্ঘমেয়াদে মনোযোগ, উৎপাদনশীলতা ও মানসিক স্থিতি বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।

সারকথা

যান্ত্রিক এই যুগে মানুষ ক্রমেই কংক্রিটের দেয়ালে বন্দী। কিন্তু প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ, বিশেষ করে পানির নীল বিস্তৃতির সঙ্গে সম্পর্ক, আমাদের মানসিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে পারে।

‘ব্লু হেলথ’ কোনো বিলাসিতা নয়—এটি হতে পারে আধুনিক জীবনের মানসিক প্রশান্তির একটি টেকসই সমাধান।

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ