
নিজস্ব প্রতিবেদক: ইসলামে কোরবানি শুধু একটি প্রথা নয়, বরং এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি মহান ইবাদত। সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য ঈদুল আজহার নির্দিষ্ট দিনে কোরবানি করা ওয়াজিব। কিন্তু শুধু পশু জবাই করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। কিছু সাধারণ ভুল অজান্তেই কোরবানিকে অগ্রহণযোগ্য করে তুলতে পারে।
প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—সঠিক নিয়ত। কোরবানি একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হতে হবে। যদি কেউ মানুষের প্রশংসা বা সামাজিক মর্যাদার উদ্দেশ্যে কোরবানি করে, তবে তা আল্লাহর দরবারে গৃহীত হবে না। সহিহ হাদিসে আছে, “সব কাজ নিয়তের ওপর নির্ভর করে।” তাই নিয়ত খাঁটি না হলে কোরবানির কোনো ফজিলত পাওয়া যাবে না, বড় পশু জবাই করলেও নয়।
এ ছাড়া কোরবানির অর্থ অবশ্যই হালাল উপার্জন থেকে আসা উচিত। হারাম উপার্জনে কেনা পশু আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। রাসূল (সা.) বলেছেন, “আল্লাহ পবিত্র, তিনি শুধু পবিত্র জিনিসই গ্রহণ করেন।” (মুসলিম: ১০১৫)
পশুটির বয়সও শরিয়তের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী হতে হবে:
* উট: ৫ বছর
* গরু ও মহিষ: ২ বছর
* ছাগল: ১ বছর
* ভেড়া ও দুম্বা: ১ বছর (তবে যদি ৬ মাস বয়সী ভেড়াটি দেখতে ১ বছরের মতো হয়, তবে তা গ্রহণযোগ্য)
শরীয়তে কিছু পশুকে কোরবানির অযোগ্য বলা হয়েছে। যেমন:
* যেগুলোর চোখ সম্পূর্ণ অন্ধ
* গুরুতর অসুস্থ
* পঙ্গু বা এক পা টেনে হাঁটে
* এমনভাবে আহত যার অঙ্গ ভেঙে গেছে বা চলাচলে অক্ষম
জবাই করার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে বিসমিল্লাহ না বললে কোরবানি হবে না। তবে ভুলবশত না বললে তা মাফযোগ্য।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোরবানিতে শরিক হলে তার নিয়ত ও অর্থের উৎসও বিশুদ্ধ হতে হবে। যদি কোনো শরিকের উপার্জন হারাম হয়, বা তার নিয়তে গড়বড় থাকে, তাহলে তার কারণে অন্য অংশীদারদের কোরবানি পর্যন্ত বাতিল হতে পারে। তাই শরিক নির্বাচনেও সচেতনতা আবশ্যক।
সঠিক নিয়ম মেনে না চললে কোরবানি শুধু অর্থ ব্যয়ে সীমাবদ্ধ থাকে, তা আল্লাহর নৈকট্য এনে দেয় না। তাই এই পবিত্র ইবাদত কবুল করতে চাইলে সততা, নিয়তের বিশুদ্ধতা, হালাল আয় এবং শরীয়তের সকল নির্দেশনা মেনে কোরবানি আদায় করা জরুরি।
প্রতিবেদন: আশা

দিনভর ব্যস্ততা, কর্মজীবনের চাপ আর নানা দুশ্চিন্তার পর রাতের ঘুমই হয়ে ওঠে মানুষের সবচেয়ে বড় প্রশান্তির সময়। কিন্তু অনেকেই ঘুমানোর আগে সময় কাটান মোবাইল ফোনে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিংবা অপ্রয়োজনীয় কাজে। অথচ ইসলাম একজন মুমিনের জন্য ঘুমানোর আগেও রেখে দিয়েছে সহজ কিন্তু অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি আমল, যা পালন করতে সময় লাগে মাত্র এক মিনিট।
১৮ জুন ২০২৬

পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ শুধু জীবদ্দশায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং তাদের মৃত্যুর পরও এই দায়িত্ব অব্যাহত রাখার নির্দেশনা এসেছে হাদিসে।
১ জুন ২০২৬

মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে আনন্দের দিনগুলোর একটি ঈদুল আজহা। ত্যাগ, আনুগত্য ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের শিক্ষা নিয়ে প্রতি বছর জিলহজ মাসের ১০ তারিখে আসে কোরবানির এই ঈদ। এই দিনটিকে ঘিরে মুসলমানদের মধ্যে থাকে বিশেষ প্রস্তুতি, আর দিনের শুরু হয় ঈদের নামাজের মাধ্যমে।
২৭ মে ২০২৬

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর মুসলমানদের মধ্যে কুরবানি নিয়ে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা দেখা যায়। বিশেষ করে যৌথ পরিবারে বসবাসকারীদের মধ্যে একটি প্রচলিত ধারণা হলো, পরিবারের একজন সদস্য, বিশেষ করে পরিবারের প্রধান ব্যক্তি কুরবানি দিলেই পুরো পরিবারের পক্ষ থেকে দায়িত্ব আদায় হয়ে যায়। কিন্তু ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি ভিন্ন।
২২ মে ২০২৬

প্রত্যেক প্রাণীকেই একদিন এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী ছেড়ে চিরস্থায়ী জীবনের পথে যাত্রা করতে হবে এটাই মানবজীবনের চিরন্তন বাস্তবতা। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন: প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। আর কিয়ামতের দিন তোমাদের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে। যে ব্যক্তি জাহান্নাম থেকে রক্ষা পেয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে, সেই-ই প্রকৃত সফল। আর পার্থিব জীবন শুধুই ছলনার বস্তু।
২ মে ২০২৬

ঈদুল ফিতরের আনন্দ-উৎসব শেষ না হতেই মুসলিম বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহার প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে শুরু হয়েছে আগাম আলোচনা ও অপেক্ষা। এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ আরব আমিরাত ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছে, যার ভিত্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য তারিখ নিয়েও ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।
২১ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু। মধ্যপ্রাচ্যের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এই প্রণালী দিয়েই বিশ্ববাজারে প্রবেশ করে।
১৯ এপ্রিল ২০২৬

মানুষের জীবনে প্রতিদিনের ব্যস্ততা ও দুশ্চিন্তার মাঝেও আত্মিক শান্তির সন্ধান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম আমাদের শেখায়, দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করা যায়।
১৮ এপ্রিল ২০২৬

রোগ মানুষের জীবনের এমন এক অধ্যায়, যা কখনোই পুরোপুরি এড়ানো যায় না। শরীর অসুস্থ হলে শুধু দেহ নয়, মনও ভেঙে পড়ে। এই দুর্বল মুহূর্তেই একজন মানুষ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বোধ করে আশ্রয়, সান্ত্বনা এবং আল্লাহর রহমতের।
১৬ এপ্রিল ২০২৬