
বাংলাদেশের ক্রিকেটে যখন মাশরাফী, সাকিবরা দেশ ও বিদেশের মাটিতে বড় বড় জয়ের রেকর্ড গড়ছে, তখন আরেক ক্রিকেটার, যিনি শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়েও বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন, নিজের জীবিকার জন্য বরিশালের একটি মাছের আড়তে কাজ করছেন। তিনি হলেন আলম খান, যিনি একসময় বাংলাদেশ শারীরিক প্রতিবন্ধী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ছিলেন।
আলম খান, যার বয়স ৩১, এক সময় দলের নেতৃত্বে ছিলেন এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী ক্রিকেটে আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশ নিয়ে বাংলাদেশকে সাতটি জয়ে নেতৃত্ব দেন। তবে, তার জীবন এত সহজ ছিল না। বরিশালের পোর্ট রোডে আজও মাছের আড়তে কাজ করে, সংসার চালাতে কঠোর পরিশ্রম করছেন। শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়েও, কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করে আলম আজও ক্রিকেট খেলার স্বপ্নের পেছনে ছুটছেন।
আলমের শৈশব ছিল সংগ্রামময়। ১৯৮৮ সালের ১০ ডিসেম্বর পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার কোটখালী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। মাত্র সাড়ে তিন মাস বয়সে দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হন এবং শরীরের নিচের অংশ শক্তি হারিয়ে বাঁকা হয়ে যায়। শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হয়ে ওঠা সত্ত্বেও তার পরিবারের সদস্যরা তাকে সব সময় সাহস যুগিয়েছিলেন। তবে জীবনযুদ্ধ শুরু হয় তখনই, যখন তার বাবা কম বকাঝকা করেননি। ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ ছিল তার, তবে পরিবারে অভাবের কারণে অনেকবার ক্রিকেট ছাড়ার শপথও নিতে হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও আলমের ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা অবিচল ছিল।
পিতার মৃত্যুর পর, যখন সংসার চালানোর জন্য আলমের কাঁধে দায়িত্ব আসে, তখন তার জীবন আরও কঠিন হয়ে ওঠে। পিতা ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান এবং তাদের সংসার খরচের জন্য সব কিছু বিক্রি করতে হয়। এরপর, শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও, আলম একটি মাছের আড়তে কাজ পাওয়ার পর সংসার চালাতে শুরু করেন, তবে তার প্রতিদিনের সংগ্রাম চলতে থাকে।
আলমের ক্রিকেট জীবনের শুরুটা হয়েছিল তার শৈশবে। সবার অগোচরে ক্রিকেট খেলা শুরু করেন তিনি। কখনো টেনিস বল দিয়ে, কখনো ফাইভ স্টার, আবার কখনো টেপ টেনিস দিয়ে খেলা শুরু করেন। বাবার কঠোর নিষেধ সত্ত্বেও, আলমের ক্রিকেটে আগ্রহ বাড়ে। সে সময় আলমের মা তার লুকিয়ে ক্রিকেট খেলার জন্য টাকা দিতেন। এই শখের কারণে তাকে বহুবার শারীরিক শাস্তি ভোগ করতে হয়েছে।
২০১৫ সালে, বাংলাদেশ শারীরিক প্রতিবন্ধী ক্রিকেট দল গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হলে আলম তার নিজস্ব দক্ষতা ও প্রতিভার পরিচয় দেন। সারা দেশের ১৫৬ জন ক্রিকেটারের মধ্যে তার নাম ছিল শীর্ষে। তিনি ছিলেন সেই দলটির অধিনায়ক, যা আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে। আলম তার নেতৃত্বে সাতটি ম্যাচে জয় লাভ করেন এবং জাতীয় দলের হয়ে খেলার সম্মান অর্জন করেন।
তবে তার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন ছিল, দারিদ্র্য ও প্রতিবন্ধিতা সত্ত্বেও, ক্রিকেট খেলা কখনো ছাড়েননি। তার মতো একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী ক্রিকেটার, যে কঠোর পরিশ্রম ও সংগ্রামের মাধ্যমে জীবনের চড়াই-উতরাই পার করেছে, সে আমাদের জন্য একটি চিরস্থায়ী অনুপ্রেরণা। আলম খান, যার জীবন সংগ্রামের প্রতীক, আজও নিজের স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা করছেন এবং তার দৃষ্টিভঙ্গি যেন প্রমাণ করে দেয়, কখনোই পরিস্থিতি আপনাকে থামাতে পারবে না যদি আপনি নিজে চাইলে।

খেলাপ্রেমীদের জন্য আজকের দিনটি বেশ ব্যস্ততায় কাটবে। ক্রিকেট, টেনিস ও ফুটবল—তিন জনপ্রিয় খেলাতেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। এর মধ্যে নারী এশিয়া কাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। পাশাপাশি টেস্ট ক্রিকেট ও ইউএস ওপেনের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচও সরাসরি দেখা যাবে টেলিভিশনে।
৬ দিন আগে

দুবাইয়ে নারী এশিয়া কাপের প্রথম সেমিফাইনালে ভারতের দেওয়া ১৫০ রানের লক্ষ্য তাড়া করছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। ভারতের ইনিংস শেষে ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৪৯ রান সংগ্রহ করে ভারত। জবাবে বাংলাদেশের ইনিংসের ২ দশমিক ১ ওভার শেষে ১৪ রান এসেছে, কোনো উইকেট হারায়নি নিগার সুলতানার দল।
৬ দিন আগে

২০২৪ সালের নারী এশিয়া কাপে ভারতের কাছে হেরে সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। এবার সেই হারের স্মৃতি পেছনে ফেলে নতুন লড়াইয়ের অপেক্ষায় নিগার সুলতানা জ্যোতির নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। ডাম্বুলার পর এবার দুবাইয়ের মাটিতে ভারতের বিপক্ষে প্রতিশোধের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে টাইগ্রেসরা।
৬ দিন আগে

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সামনে ব্যস্ত সূচি। আগামী অক্টোবর মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের অংশগ্রহণে বসতে যাচ্ছে ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজ। ১৭ অক্টোবর শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টের পর্দা নামবে ২৩ অক্টোবর ফাইনালের মধ্য দিয়ে।
৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটে এবারও পদকের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। তবে পদকের মঞ্চে পৌঁছাতে হলে শুরুতেই কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে দুই দলকে। পুরুষ ও নারী—উভয় দলই সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে নিজেদের অভিযান শুরু করবে। ফলে প্রথম ম্যাচেই জয় তুলে নিতে পারলে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত হবে। আর সেই ধাপ পেরোতে পারলেই ব্রোঞ্জ নয়, সোনার পদকের লড়াইয়ে নামার সুযোগ তৈরি হবে বাংলাদেশের।
৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম থেকে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের ক্রিকেটাররা যখন বের হচ্ছিলেন, তখন তাদের চোখেমুখে ছিল স্পষ্ট হতাশার ছাপ। আনন্দের কোনো কারণও ছিল না। নারী এশিয়া কাপের গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ের দারুণ সম্ভাবনা তৈরি করেও শেষ পর্যন্ত ৪ উইকেটে হেরে মাঠ ছাড়তে হয়েছে নিগার সুলতানা জ্যোতির নেতৃত্বাধীন দলকে।
৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ব্যাটিংয়ে প্রত্যাশামতো রান তুলতে না পারলেও বোলারদের দুর্দান্ত লড়াইয়ে ম্যাচ জমিয়ে তুলেছিল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। ১১৪ রানের পুঁজি নিয়ে শ্রীলঙ্কাকে চাপে ফেলেছিল মারুফা আক্তার ও সুলতানা খাতুনদের বোলিং নৈপুণ্য। তবে শেষ পর্যন্ত আর ম্যাচ নিজেদের করে নিতে পারেনি বাংলাদেশ। ৪ উইকেটের জয় তুলে নিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে শ্রীলঙ্কা।
৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৩৮০ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চাপে পড়েছে Worcestershire। Kent-এর বিপক্ষে County Championship Division Two-এর ম্যাচে দলটি ৩৯.৫ ওভার শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৪০ রান সংগ্রহ করেছে। ফলে জয়ের জন্য তাদের এখনও প্রয়োজন ২৪০ রান।
৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফুটবল, ক্রিকেট ও টেনিস তিন খেলাতেই আজ রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে মাঠে নামবে লিভারপুল। লা লিগায় বেতিসের বিপক্ষে খেলবে রিয়াল মাদ্রিদ। পাশাপাশি নারী এশিয়া কাপ ও ইউএস ওপেনের ম্যাচও রয়েছে আজকের সূচিতে।
৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬