
অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের কিংবদন্তি ওপেনার ইয়ান রেডপাথ ৮৩ বছর বয়সে মারা গেছেন। ১৯৬৪ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলের হয়ে ৬৬টি টেস্ট এবং ৫টি একদিনের আন্তর্জাতিক (ওডিআই) ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি। রেডপাথ ছিলেন একজন ব্যতিক্রমী ব্যাটসম্যান, যিনি তার কঠোর পরিশ্রমী ব্যাটিংয়ের জন্য পরিচিত ছিলেন।
রেডপাথের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল ১৯৬৪ সালে এবং তার প্রথম টেস্টেই তিনি ৯৭ রান করেছিলেন, যা ছিল দুঃখজনকভাবে অপরিপূর্ণ। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে তিনি ৯৭ রানে আউট হন। রেডপাথ নিজে বলেছিলেন, "আমি যখন অফ-ড্রাইভ দিয়ে চার মারলাম, পরবর্তী বলটি আবার সেই জায়গায় আসবে, এমনটা ভাবতেই আমি চোখেমুখে হাসি দিয়েছিলাম।"
তবে, তার প্রথম সেঞ্চুরিটি আসে ১৯৬৯ সালে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এসসিজি)। সেখানে ১৩২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি, যেখানে তাকে চ্যালেঞ্জ জানান ওয়েস হল, চার্লি গ্রিফিথ, গ্যারি সোবার্স এবং ল্যান্স গিবসের মতো বিশ্বমানের বোলাররা। এই ইনিংসটি ছিল রেডপাথের ক্যারিয়ারের মাইলফলক, এবং তার পরে তিনি আরও সাতটি সেঞ্চুরি করেন। ১৯৭০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৭১ রানের ইনিংসটি ছিল তার ক্যারিয়ারের সেরা পারফরম্যান্স।
রেডপাথের ব্যাটিং ছিল একেবারে রক্ষণাত্মক, তিনি সর্বদা তাঁর অফ স্টাম্পে নজর রাখতেন এবং খেলার সময় শরীরী ভাষায় ছিলেন অত্যন্ত শান্ত। তিনি বাউন্সারের বিরুদ্ধে ছিলেন দক্ষ, সোজা খেলে তাকে মোকাবিলা করতেন, এবং তাঁর ব্যাটিং ছিল স্বচ্ছন্দ ও আক্রমণাত্মক না হলেও দারুণ প্রতিরোধমূলক।
তিনি ১৯৭৬ সালে ক্রিকেট থেকে অবসর নেন এবং তার অ্যান্টিক ব্যবসায় মনোনিবেশ করেন, তবে এক বছর পর তিনি বিশ্ব সিরিজ ক্রিকেটে যোগ দেন। তার ব্যক্তিগত জীবনেও ছিল নানা ঘটনা, যেমন ১৯৬৩-৬৪ মৌসুমে তিনি অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো একজন অ্যামেচার হিসেবে খেলেছিলেন, যখন তিনি নিজের ম্যাচ ফি না নিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ফুটবলের খেলোয়াড় হিসেবে ক্যারিয়ার চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
ক্যাপ্টেন গ্রেগ চ্যাপেল একবার বলেছেন, "ইয়ান রেডপাথ ছিল একজন সত্যিকারের ক্রিকেট শিক্ষক, যার কাছ থেকে আমি প্রথম টেস্ট ক্রিকেট সম্পর্কে অনেক কিছু শিখেছি।" তাঁর পারফরম্যান্স এবং শিক্ষা অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের এক অমূল্য অংশ হিসেবে রয়ে গেছে।
এছাড়া, রেডপাথ ১৯৭৫ সালে মেম্বার অব দি অর্ডার অব দি ব্রিটিশ এম্পায়ার (এমবিই) পুরস্কৃত হন এবং ২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট হল অফ ফেমে অন্তর্ভুক্ত হন। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার চেয়ারম্যান মাইক বেয়ার্ড বলেন, "ইয়ান রেডপাথ ছিলেন একজন বিরল ক্রিকেটার, যার সাহস, স্পোর্টসম্যানশিপ এবং হাস্যরসের জন্য সবাই তাকে ভালোবাসত। তাঁর মৃত্যু আমাদের জন্য একটি বড় ক্ষতি।"
ক্রিকেট ভিক্টোরিয়ার চেয়ারম্যান রস হেপবার্নও শোক প্রকাশ করে বলেন, "তিনি শুধু একজন দারুণ ক্রিকেটারই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন অসাধারণ মানুষ। 'রেডার্স' নামে পরিচিত আমাদের প্রিয় বন্ধু ও সতীর্থ আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর উত্তরাধিকার এবং স্মৃতি চিরকাল অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে অমর হয়ে থাকবে।"
ইয়ান রেডপাথের অবদান অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে অসামান্য ছিল, এবং তিনি তাঁর জীবন ও খেলা দিয়ে অস্ট্রেলিয়া এবং বিশ্বের ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে এক স্মরণীয় নাম হয়ে রয়ে গেছেন।

হারারে স্পোর্টস ক্লাবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যাট হাতে দারুণ অবস্থানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। জিম্বাবুয়ের টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্তের পর ব্যাট করতে নেমে ৩১.৩ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ২০৯ রান সংগ্রহ করেছে অস্ট্রেলিয়া।
৩ দিন আগে

দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে ভারত ও আফগানিস্তানের মধ্যকার তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে শুরু থেকেই ব্যাট হাতে দাপট দেখাচ্ছে ভারত। টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় আফগানিস্তান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে দ্রুত রান তুলছে ভারত।
৪ দিন আগে

খেলাপ্রেমীদের জন্য আজকের দিনটি বেশ ব্যস্ততায় কাটবে। ক্রিকেট, টেনিস ও ফুটবল—তিন জনপ্রিয় খেলাতেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। এর মধ্যে নারী এশিয়া কাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। পাশাপাশি টেস্ট ক্রিকেট ও ইউএস ওপেনের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচও সরাসরি দেখা যাবে টেলিভিশনে।
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুবাইয়ে নারী এশিয়া কাপের প্রথম সেমিফাইনালে ভারতের দেওয়া ১৫০ রানের লক্ষ্য তাড়া করছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। ভারতের ইনিংস শেষে ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৪৯ রান সংগ্রহ করে ভারত। জবাবে বাংলাদেশের ইনিংসের ২ দশমিক ১ ওভার শেষে ১৪ রান এসেছে, কোনো উইকেট হারায়নি নিগার সুলতানার দল।
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২০২৪ সালের নারী এশিয়া কাপে ভারতের কাছে হেরে সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। এবার সেই হারের স্মৃতি পেছনে ফেলে নতুন লড়াইয়ের অপেক্ষায় নিগার সুলতানা জ্যোতির নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। ডাম্বুলার পর এবার দুবাইয়ের মাটিতে ভারতের বিপক্ষে প্রতিশোধের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে টাইগ্রেসরা।
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সামনে ব্যস্ত সূচি। আগামী অক্টোবর মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের অংশগ্রহণে বসতে যাচ্ছে ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজ। ১৭ অক্টোবর শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টের পর্দা নামবে ২৩ অক্টোবর ফাইনালের মধ্য দিয়ে।
৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটে এবারও পদকের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। তবে পদকের মঞ্চে পৌঁছাতে হলে শুরুতেই কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে দুই দলকে। পুরুষ ও নারী—উভয় দলই সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে নিজেদের অভিযান শুরু করবে। ফলে প্রথম ম্যাচেই জয় তুলে নিতে পারলে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত হবে। আর সেই ধাপ পেরোতে পারলেই ব্রোঞ্জ নয়, সোনার পদকের লড়াইয়ে নামার সুযোগ তৈরি হবে বাংলাদেশের।
৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম থেকে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের ক্রিকেটাররা যখন বের হচ্ছিলেন, তখন তাদের চোখেমুখে ছিল স্পষ্ট হতাশার ছাপ। আনন্দের কোনো কারণও ছিল না। নারী এশিয়া কাপের গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ের দারুণ সম্ভাবনা তৈরি করেও শেষ পর্যন্ত ৪ উইকেটে হেরে মাঠ ছাড়তে হয়েছে নিগার সুলতানা জ্যোতির নেতৃত্বাধীন দলকে।
৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ব্যাটিংয়ে প্রত্যাশামতো রান তুলতে না পারলেও বোলারদের দুর্দান্ত লড়াইয়ে ম্যাচ জমিয়ে তুলেছিল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। ১১৪ রানের পুঁজি নিয়ে শ্রীলঙ্কাকে চাপে ফেলেছিল মারুফা আক্তার ও সুলতানা খাতুনদের বোলিং নৈপুণ্য। তবে শেষ পর্যন্ত আর ম্যাচ নিজেদের করে নিতে পারেনি বাংলাদেশ। ৪ উইকেটের জয় তুলে নিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে শ্রীলঙ্কা।
৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬