
লিভারের অসুখ অনেক সময় নীরবে শরীরে বাসা বাঁধে। অনেকেই মনে করেন জন্ডিস বা পেটের সমস্যা হলেই বুঝি লিভার খারাপ। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। লিভারের কার্যক্ষমতা কমতে শুরু করলে তার ছাপ প্রথমেই পড়তে পারে ত্বকে। ফ্যাটি লিভার থেকে শুরু করে সিরোসিস— গুরুতর অসুখের ইঙ্গিত মিলতে পারে ত্বকের অস্বাভাবিক কিছু পরিবর্তনে।
লিভার ঠিকভাবে কাজ না করলে শরীরে টক্সিন জমতে থাকে। রক্তে পিত্তরঞ্জক ও বিভিন্ন রাসায়নিকের মাত্রা বেড়ে যায়। এর ফলেই ত্বকে দেখা দেয় নানা লক্ষণ।
হাতের তালুতে লালচে ভাব (Palmar Erythema)
দুই হাতের তালু লালচে হয়ে যেতে পারে, তবে সাধারণত চুলকানি বা জ্বালা থাকে না। কখনও তালু কিছুটা ফুলেও যায়। লিভারের সমস্যায় হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে রক্তনালিগুলো প্রসারিত হয়— আর তখনই দেখা দেয় এই লক্ষণ।
স্পাইডার অ্যাঞ্জিয়োমা (Spider Angioma)
লিভার সিরোসিসের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণগুলোর একটি। ত্বকের নিচে ছোট ছোট রক্তনালির অস্বাভাবিক প্রসারণ ঘটে, যা দেখতে অনেকটা মাকড়সার জালের মতো। বুক, মুখ বা হাতের ওপর বেশি দেখা যায়। এমন লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়।
স্পাইডার ভেন (Spider Veins)
বিশেষ করে পায়ের পাতায় নীল বা সবুজ শিরা জালের মতো দৃশ্যমান হলে তাকে স্পাইডার ভেন বলা হয়। লিভারের সমস্যায় ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা বেড়ে গেলে এমন পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
স্ট্যাটিস ডার্মাটাইটিস (Stasis Dermatitis)
পায়ের গোড়ালি ফুলে যাওয়া, কালচে দাগ পড়া বা চুলকানি— এগুলো গুরুতর সংকেত হতে পারে। লিভারের গভীর ক্ষতি বা সিরোসিসে শরীরে জল জমতে শুরু করে, যার ফলে পায়ের ত্বকে প্রদাহ ও রঙের পরিবর্তন দেখা যায়।
কখন সতর্ক হবেন?
ত্বকে এমন অস্বাভাবিক পরিবর্তন দীর্ঘদিন ধরে থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। লিভারের অসুখ প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে চিকিৎসা অনেক সহজ হয়।
সুস্থ জীবনযাপন, পরিমিত খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা— লিভার সুস্থ রাখার প্রধান উপায়।