ঢাকা, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৬ মাঘ ১৪৩২

রাকিব

রির্পোটার

বাংলাদেশের নির্বাচনী ইশতেহারের ইতিহাস: দেখুন ১৯৯১ থেকে ২০২৬-লিংকসহ

জাতীয় ডেস্ক . ২৪ নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৮ ২১:১৭:২০
বাংলাদেশের নির্বাচনী ইশতেহারের ইতিহাস: দেখুন ১৯৯১ থেকে ২০২৬-লিংকসহ

রাকিব: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নির্বাচনী ইশতেহার কেবল একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি নয়, বরং এটি একটি দলের আদর্শ ও দেশ পরিচালনার দর্শনের প্রতিফলন। ১৯৯১ সালের পর থেকে দেশে মোট আটটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিটি ইশতেহারে সময়ের প্রয়োজনে বদলেছে প্রতিশ্রুতির ভাষা ও ধরন। সবার নিচে সব দলের ইশতেহারের লিংক দেয়া থাকবে।

১৯৯১-৯৬: গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও মৌলিক অধিকারের লড়াই

১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল স্বৈরাচার পতন-পরবর্তী প্রথম অবাধ নির্বাচন। তৎকালীন বড় দুই দল—আওয়ামী লীগ ও বিএনপি—উভয়ই তাদের ইশতেহারে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর জোর দিয়েছিল। বিএনপির ইশতেহারে ছিল ‘মুক্তবাজার অর্থনীতি’র সূচনা, আর আওয়ামী লীগের অঙ্গীকার ছিল ‘শোষণমুক্ত সমাজ’ ও সংসদীয় পদ্ধতির সরকারে প্রত্যাবর্তন।

২০০১: সুশাসন ও জঙ্গিবাদ বিরোধী অবস্থান

২০০১ সালের নির্বাচনে ইশতেহারে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন প্রধান্য পায়। বিএনপি ‘উন্নয়ন ও উৎপাদনের’ রাজনীতির কথা বলে, অন্যদিকে আওয়ামী লীগ জোর দেয় তাদের বিগত ৫ বছরের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার ওপর।

২০০৮: ‘দিন বদলের সনদ’ ও ডিজিটাল বাংলাদেশ

বাংলাদেশের নির্বাচনী ইশতেহারের ইতিহাসে ২০০৮ সাল ছিল একটি টার্নিং পয়েন্ট। আওয়ামী লীগ তাদের ইশতেহারে ‘দিন বদলের সনদ’ ও ‘ভিশন ২০২১’ ঘোষণা করে। সেখানে প্রথমবারের মতো ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ ও ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার’-এর অঙ্গীকার করা হয়, যা তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করে। বিপরীতে বিএনপি অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও আওয়ামী লীগের আধুনিক প্রচারণার সামনে তা ফিকে হয়ে যায়।

২০১৪ ও ২০১৮: উন্নয়ন বনাম ডেমোক্রেসি

২০১৪ সালের ইশতেহারে আওয়ামী লীগের মূল স্লোগান ছিল ‘এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’। তবে বিরোধী দলগুলোর বয়কটের কারণে ইশতেহারের চেয়ে রাজনৈতিক সংঘাতই বেশি আলোচনায় ছিল। ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ নিয়ে আসে ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ এবং ‘তারুণ্যের শক্তি, বাংলাদেশের সমৃদ্ধি’। অন্যদিকে বিএনপি (ঐক্যফ্রন্ট) তাদের ইশতেহারে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের প্রতিশ্রুতি দেয়।

২০২৪: স্মার্ট বাংলাদেশ ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ

সদ্য সমাপ্ত ২০২৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ইশতেহারের মূল ভিত্তি ছিল ‘স্মার্ট বাংলাদেশ: উন্নয়ন দৃশ্যমান, বাড়বে এবার কর্মসংস্থান’। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ছিল প্রধান আকর্ষণ। তবে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের অভাব ইশতেহারের গুরুত্ব নিয়ে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

২০২৬: প্রত্যাশিত সংস্কার ও নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ বদলে গেছে। ২০২৬ সালে (যদি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়) রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে আসবে আমূল পরিবর্তন।২০২৬-এর ইশতেহারে যা থাকতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন:

১. রাষ্ট্রীয় সংস্কার: বিচার বিভাগ, পুলিশ এবং নির্বাচন কমিশনের পূর্ণ স্বাধীনতা।২. বৈষম্য দূরীকরণ: ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মূল দাবি ‘বৈষম্যহীন বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকার।৩. সংবিধান সংশোধন: প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা এবং দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী না থাকার বিধান।৪. কর্মসংস্থান: শিক্ষিত বেকারদের জন্য কার্যকর ও টেকসই কর্মসংস্থান।৫. মানবাধিকার: গুম-খুন বন্ধ এবং মতপ্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতার আইনি নিশ্চয়তা।

ইশতেহারের তালিকা দেখতে এখানেক্লিক করুন।

বিশেষজ্ঞ মতামত

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৯১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত ইশতেহারগুলোতে বড় বড় মেগা প্রজেক্টের কথা থাকলেও নাগরিকের ভোটাধিকার এবং টেকসই গণতন্ত্রের নিশ্চয়তা অনেক ক্ষেত্রেই উপেক্ষিত ছিল। ২০২৬-এর নির্বাচনে জনগণ আর স্রেফ গালভরা প্রতিশ্রুতিতে ভুলবে না; বরং দলগুলো কীভাবে রাষ্ট্র সংস্কার করবে, তার স্পষ্ট রোডম্যাপই হবে ইশতেহারের মূল আকর্ষণ।

অতীতের ইশতেহারগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রতিশ্রুতির তুলনায় বাস্তবায়নের হার সবসময় সন্তোষজনক ছিল না। আগামী নির্বাচন কেবল সরকার গঠনের লড়াই নয়, বরং রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের লড়াই। তাই ২০২৬-এর ইশতেহারগুলোই হবে বাংলাদেশের আগামী ৫০ বছরের পথপ্রদর্শক।

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ