
রির্পোটার

হাসান: সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। মঙ্গলবার গাজীপুর জেলা পরিদর্শনকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, একটি সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের জন্য সশস্ত্র বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত এবং নির্বাচন বন্ধ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা করলে কঠোর ব্যবস্থা
ভোটের দিন কেউ যদি অরাজকতা সৃষ্টি করে বা ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেয়, তাহলে তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন সেনাপ্রধান। তিনি জানান, অপরাধী যে-ই হোক না কেন, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
অবৈধ অর্থ লেনদেনে নজরদারি
নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে মোবাইল ব্যাংকিং বিশেষ করে বিকাশের মতো সেবার মাধ্যমে অবৈধ লেনদেনের ঝুঁকি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। ইতোমধ্যে সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
তিন বাহিনীর সম্মিলিত বার্তা
গাজীপুর ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সমন্বয় সভায় নৌ ও বিমানবাহিনী প্রধানও অংশ নেন।
নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে দিন-রাত অভিযান চলছে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন মাঠে মোতায়েন সদস্যদের দৃশ্যমান উপস্থিতি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, কাউকে অলস বসে থাকতে দেওয়া হবে না ভোটারদের আস্থা ফেরাতে সক্রিয় থাকতে হবে।
নিরপেক্ষতা ও পেশাদারত্বের নির্দেশ
আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, তিন বাহিনীর প্রধান ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় দায়িত্ব পালনকালে সদস্যদের পেশাদারত্ব, নিরপেক্ষতা ও ধৈর্য বজায় রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। নাগরিকবান্ধব আচরণের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই মোতায়েনের মূল লক্ষ্য।
সভায় গাজীপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ জেলার ঊর্ধ্বতন সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টদের আশা, এই সফরের পর নির্বাচনী এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে।