ঢাকা, বুধবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২

রাকিব

সিনিয়র রিপোর্টার

রাজধানীতে পুলিশ ফাঁড়ির টয়লেটে কনস্টেবলের ঝুল’ন্ত ম’রদেহ উদ্ধার

জাতীয় ডেস্ক . ২৪ নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২৮ ২০:৩০:০৮
রাজধানীতে পুলিশ ফাঁড়ির টয়লেটে কনস্টেবলের ঝুল’ন্ত ম’রদেহ উদ্ধার

রাকিব: রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার একটি পুলিশ ফাঁড়ি থেকে মর্মান্তিক এক ঘটনা সামনে এসেছে। ফাঁড়ির ওয়াশরুমের ভেতর থেকে শফিকুল ইসলাম (৪২) নামে এক পুলিশ কনস্টেবলের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের মধ্যেও গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।

সকালে উদ্ধার, ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে যাত্রাবাড়ী থানার সংশ্লিষ্ট পুলিশ ফাঁড়ির টয়লেট থেকে শফিকুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে দুপুর দেড়টার দিকে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মৃত্যুর আগে মেয়েকে পাঠানো শেষ বার্তা

পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুর আগে রাত ৩টা ২৫ মিনিটে শফিকুল ইসলাম তার বড় মেয়ের মোবাইল ফোনে একটি খুদে বার্তা পাঠান। মেসেজে তিনি লেখেন—‘আমি তোমার জন্য কিছু করতে পারলাম না। আমাকে ক্ষমা করে দিও। জুনায়েদ ও জিহাদকে দেখে রাখিও।’

এরপর মেয়ের পক্ষ থেকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।

দীর্ঘদিন মানসিক অবসাদে ভোগার তথ্য

মৃত কনস্টেবলের চাচাতো ভাই পারভেজ মল্লিক জানান, শফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অবসাদ বা ডিপ্রেশনে ভুগছিলেন। তাকে চিকিৎসকের কাছেও নেওয়া হয়েছিল। তিনি প্রায়ই অভিযোগ করতেন যে ঘুমের সমস্যা রয়েছে।

শফিকুল ইসলাম দুই ছেলে ও এক মেয়ের বাবা। তিনি ২০০৩ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন। তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর থানার মৌটুপী গ্রামে। তিনি ওই এলাকার মান্নান মল্লিকের ছেলে।

পুলিশের বক্তব্য ও পরবর্তী কার্যক্রম

যাত্রাবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) রাসেল জানান, ফাঁড়ির ওয়াশরুমে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় শফিকুল ইসলামের মরদেহ পাওয়া যায়। রাজারবাগ পুলিশ লাইনে জানাজা শেষে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে দাফনের জন্য নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ