
নিজস্ব প্রতিবেদক: একবিংশ শতাব্দীর পর যারা দুনিয়ায় এসেছে, তারা এমন এক বাস্তবতায় বড় হচ্ছে যেখানে মানুষের মুখ, কণ্ঠস্বর এমনকি চিন্তাও কৃত্রিমভাবে তৈরি করা সম্ভব। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন এমন এক স্তরে পৌঁছেছে যে অনেক বাবা-মাও আর সন্তানদের কণ্ঠস্বর চিনতে পারেন না।
এই প্রযুক্তির যুগে যদি দাজ্জাল আবির্ভূত হয়, যে সত্য-মিথ্যার সীমা মুছে দিতে পারে, তাহলে মানুষ কি সত্যকে চিনে রাখতে পারবে?
অনেকে মনে করেন, দাজ্জাল হয়তো কোনো সুপার-টেকনোলজি, বা এমন একটি রোবটিক সত্তা হতে পারে। তবে সহিহ হাদিসের আলোকে জানা যায়, দাজ্জাল একজন মানুষ, যার থাকবে অলৌকিক ক্ষমতা এবং তিনি হবেন আল্লাহর পক্ষ থেকে পাঠানো এক মহা পরীক্ষা।
হাদিসে বলা হয়েছে, দাজ্জালের একটি চোখ অন্ধ থাকবে এবং সে এমন সব কাজ করে দেখাবে যাতে মানুষ তাকে প্রভু বলে মনে করতে শুরু করবে। আরও বলা হয়েছে, সে আকাশকে আদেশ করবে বৃষ্টি দিতে, মৃত জমিকে বলবে ফসল ফলাতে। প্রশ্ন জাগে—এ ধরনের ক্ষমতা কি কেবল অলৌকিক, নাকি প্রযুক্তির সহায়তায়ও তা সম্ভব?
আজকের প্রযুক্তি ডিপফেক ভিডিও, ভয়েস ক্লোনিং, হিউম্যানয়েড রোবট ও চ্যাটবটের মাধ্যমে মানুষের মুখ, কণ্ঠ এবং চিন্তাভাবনা হুবহু নকল করতে সক্ষম। এমনকি রোবটের মধ্যে আবেগ-অনুভূতির অনুকরণও সম্ভব হচ্ছে।
একটি ভবিষ্যৎ কল্পনা করা যাক—দাজ্জাল হয়তো এমন এক এআই সাম্রাজ্য গড়বে, যেখানে মানুষ ভার্চুয়াল চশমা পরে জান্নাত দেখবে, কিন্তু বাস্তবে থাকবে ধ্বংসের মুখে। হাদিসে আছে, তার এক হাতে থাকবে জান্নাত, অন্য হাতে জাহান্নাম—কিন্তু প্রকৃত অর্থে তা হবে সম্পূর্ণ উল্টো।
বিজ্ঞান বলছে, নিউরো-সিমুলেশন ও ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে মস্তিষ্কে এমন অনুভূতি সৃষ্টি করা সম্ভব, যাতে মানুষ মিথ্যা সুখ বা যন্ত্রণা অনুভব করে। হতে পারে, কেউ দাজ্জালের বিরোধিতা করলে তাকে দেওয়া হবে ভার্চুয়াল শাস্তি—বাস্তবে কিছু ঘটবে না, কিন্তু মনে হবে ভয়াবহ কিছু ঘটছে।
দাজ্জাল হয়তো বলবে, “তোমার মৃত মা-বাবাকে জীবিত করে দেখালে কি তুমি আমাকে প্রভু মানবে?” সেই সুযোগে শয়তান মানুষের মা-বাবার মতো দেখতে রোবট তৈরি করে বলবে, “আমাদের অনুসরণ করো, তিনিই তোমার প্রভু।”
এটি হবে ভয়ানক এক প্রতারণা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স, ভয়েস ক্লোনিং, নিউরাল ম্যাপিং মিলিয়ে এমন একটি বাস্তবতা তৈরি হতে পারে যেখানে মৃত মানুষের মুখ, কণ্ঠ এমনকি স্মৃতিও নকল করে ফেলা সম্ভব। তখন মানুষ হয়তো বিশ্বাস করে বসবে—তাদের প্রিয়জন সত্যিই ফিরে এসেছে।
হাদিসে এসেছে, দাজ্জাল এমন ক্ষমতার অধিকারী হবে যে, সে জড় ও জীব উভয়কেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। বর্তমানে আমরা ইন্টারনেট-সংযুক্ত ডিভাইসের মাধ্যমে ঘরের দরজা, গাড়ি, বাতি, এমনকি মানুষের আচরণও নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। পশুর মস্তিষ্কে ইলেকট্রিক সিগনাল পাঠিয়ে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে—তাহলে দাজ্জাল কেন নয়?
সে হয়তো এমন একটি অ্যালগরিদম তৈরি করবে, যা মানুষের চিন্তা, বিশ্বাস ও আবেগকেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।
কুরআনের সূরা নিসার আয়াতে বলা হয়েছে, শয়তান মানুষকে প্রতিশ্রুতি দেয়, আর সেই প্রতিশ্রুতি হয় ধোঁকামূলক। দুনিয়ার এই ধোঁকা হতে পারে একটি ডিজিটাল স্বর্গ—যেখানে বলা হবে, কেউ গরিব থাকবে না, সবাই সুখে থাকবে, শুধু একটি শর্ত—তাকে প্রভু হিসেবে মেনে নিতে হবে।
এই মিথ্যা স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি আমরা এখনই দেখতে পাই—সোশ্যাল মিডিয়ার স্ক্রিনে মানুষ এতটাই মগ্ন থাকে যে বাস্তবতা ভুলে যায়।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, দাজ্জালের মতো ভয়াবহ ফিতনা আর আসবে না। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন, এই ফিতনা থেকে বাঁচতে হলে কুরআনের আশ্রয় নিতে হবে। যে ব্যক্তি সূরা কাহফের প্রথম ১০ আয়াত মুখস্থ রাখবে, সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকবে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া রয়েছে, যা প্রতিদিনের নামাজে পড়া উচিত:আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিন ‘আযাবিল কবরি, ওয়া মিন ‘আযাবি জাহান্নাম, ওয়া মিন ফিতনাতিল মাহইয়া ওয়াল মামাতি, ওয়া মিন শার্রি ফিতনাতিল মাসীহি আদ-দাজ্জাল।
প্রিয় পাঠক, প্রযুক্তি নিজে কোনো অপরাধ নয়। তবে এটি যদি দাজ্জালের মতো প্রতারকের হাতে পড়ে, তখন তা ঈমান ধ্বংসের অস্ত্রে পরিণত হতে পারে।
তাই আমাদের করণীয় হচ্ছে—প্রযুক্তিকে সঠিকভাবে বোঝা, এর ফাঁদ থেকে সতর্ক থাকা এবং হক পথে অটল থাকা।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে দাজ্জালের ভয়ংকর ফিতনা থেকে হেফাজত করুন। আমিন।
সোহাগ/

হাসান: বিশ্বজুড়ে দ্রুত বিস্তার ঘটছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও রোবোটিক্স প্রযুক্তির। প্রযুক্তির এই অগ্রযাত্রা এখন শুধু শিল্প-কারখানা বা গবেষণাগারেই সীমাবদ্ধ নেই; ঢুকে পড়েছে রূপচর্চার জগতেও। আধুনিক প্রযুক্তির এই ধারাবাহিকতায় তৈরি হয়েছে ‘এআই স্কিন অ্যানালাইজার’, যা এআই অ্যালগরিদম ও রোবোটিক্স প্রযুক্তির সমন্বয়ে কাজ করে।
৪ দিন আগে

নিজস্ব প্রকিবেদক: জীবনে সফলতা অর্জনের মূল চাবিকাঠি হলো ইতিবাচক মানসিকতা। জীবনে বাধা, ব্যর্থতা বা সমালোচনা আসবেই, কিন্তু সেগুলোকে শেখার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করলে মানুষ তার ব্যক্তিত্ব ও দক্ষতা বিকশিত করতে পারে। ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে, সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ করে এবং মানসিক চাপ কমায়।
৩ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: অর্থ সঞ্চয় কেবল বেশি আয় করার ওপর নির্ভর করে না বরং সঠিক পরিকল্পনা, খরচ নিয়ন্ত্রণ ও দায়িত্বশীল ব্যয়ই মূল চাবিকাঠি। অনেকেই মাস শেষে টাকা শেষ হয়ে যাওয়ায় হতাশ হন, অথচ কিছু সহজ নিয়ম মানলে আর্থিক স্থিতিশীলতা সহজেই অর্জন করা যায়।
৩ মার্চ ২০২৬

হাসান: সামাজিক মাধ্যমে সম্প্রতি একটি ছবি ঘুরে বেড়াচ্ছে, যেখানে রাস্তায় দুটি কুকুরকে একে অপরের সঙ্গে পেছন দিকে সংযুক্ত অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। অনেকেই এই দৃশ্য দেখে বিস্মিত হন, কেউ কেউ এটিকে অস্বাভাবিক মনে করেন। তবে বাস্তবে এটি কুকুরের স্বাভাবিক প্রজনন প্রক্রিয়ার অংশ।
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষক ও সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি) একাধিক অচেনা নম্বর থেকে ফোনকলের মাধ্যমে হত্যার হুমকি পাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) নিজের ফেসবুক পোস্টে বিষয়টি প্রকাশ করে তিনি হুমকির কলগুলোর একাধিক স্ক্রিনশটও শেয়ার করেন। পোস্টে দেখা যায়, বিভিন্ন অপরিচিত মোবাইল নম্বর থেকে তাকে ধারাবাহিকভাবে কল দেওয়া হয়েছে। ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ১৩ ফেব্রুয়ারির পর থেকে তিনি অসংখ্য মৃত্যুর হুমকির সম্মুখীন হচ্ছেন এটি তার মধ্যে একটি মাত্র উদাহরণ। বিএনপি ...
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, সমুদ্র, নদী কিংবা ছোট্ট কোনো পুকুরের ধারে সময় কাটালে আমাদের শরীরে স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা দ্রুত কমতে শুরু করে। পানির ঢেউয়ের ছন্দময় শব্দ আমাদের স্নায়ুতন্ত্রে এক ধরনের প্রশান্ত সিগন্যাল পাঠায়। এই শব্দ ও দৃশ্য একসঙ্গে কাজ করে হৃদস্পন্দনকে স্থিতিশীল রাখে এবং মস্তিষ্ককে ‘ফাইট অর ফ্লাইট’ অবস্থা থেকে বের করে আনে। ফলে অকারণ উদ্বেগ বা মানসিক চাপ কমে আসে স্বাভাবিকভাবেই। গবেষণার চমকপ্রদ তথ্য গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত পানির ধারে সময় কাটান—তাদের মধ্যে ...
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

হাসান: সৌরজগতের তৃতীয় গ্রহ পৃথিবীই এখন পর্যন্ত প্রাণের জন্য সবচেয়ে উপযোগী পরিবেশের একমাত্র নিশ্চিত উদাহরণ। সূর্য থেকে উপযুক্ত দূরত্ব, অনুকূল কক্ষপথ ও জটিল পরিবেশগত ভারসাম্যের কারণেই এখানে জীবন বিকশিত হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক এক মহাকাশ আবিষ্কার নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে বিজ্ঞানীরা এমন একটি নতুন গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন, যা বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে অনেকটাই পৃথিবীর মতো, যদিও বর্তমানে সেটি বরফশীতল। মহাকাশ গবেষণার অগ্রগতির ফলে সৌরজগতের বাইরের গ্রহ আবিষ্কার এখন নিয়মিত ঘটনা হয়ে উঠেছে। ...
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

হাসান: “বিয়ের লাড্ডু খেলে সবাই পরে পস্তায়”—এই প্রচলিত কথাটি বাস্তবে কাদের ক্ষেত্রে বেশি প্রযোজ্য? সাম্প্রতিক একাধিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা বলছে, বিয়ের পর হতাশার পাল্লা নারী-পুরুষের ক্ষেত্রে সমান নয়। বরং পুরুষদের তুলনায় নারীদের অসন্তুষ্টি বাড়ার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি। মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, বিয়ে বা সঙ্গীর সঙ্গে বসবাস শুরু করার পর পুরুষরা সাধারণত মানসিকভাবে বেশি সন্তুষ্ট থাকেন। অন্যদিকে অনেক নারী জানান, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের অসন্তুষ্টি বেড়ে যায়। ...
২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

রাজধানীর সরকারি বাঙলা কলেজে অধ্যয়নরত ময়মনসিংহ জেলার শিক্ষার্থীদের অন্যতম সংগঠন 'ময়মনসিংহ জেলা ছাত্র কল্যাণ পরিষদ'-এর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। নবগঠিত এই কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সোহান শেখ এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন মো. আজিজুল ইসলাম। নেতৃত্বের অঙ্গীকার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কমিটি ঘোষণার পর এক প্রতিক্রিয়ায় সভাপতি সোহান শেখ বলেন, "আমাদের লক্ষ্য ময়মনসিংহ জেলা ছাত্র কল্যাণ পরিষদকে ক্যাম্পাসের একটি আদর্শ সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। ময়মনসিংহের মানুষের যে চিরায়ত আন্তরিকতা, ...
৩১ জানুয়ারি ২০২৬