
সিনিয়ার রিপোর্টার

যৌথ মালিকানাধীন খতিয়ানের ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করতে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে হয়রানি ও জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে, তা নিরসনে একগুচ্ছ নির্দেশনা জারি করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে যৌথ মালিকানার জমি নিয়ে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ এবং পরবর্তী সময়ে জমি হস্তান্তর বা পৃথক খতিয়ান সৃষ্টির ক্ষেত্রে জটিলতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাইজেশন, নলেজ ম্যানেজমেন্ট ও পারফরমেন্স অনুবিভাগ থেকে এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করা হয়। সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদের সই করা ওই পরিপত্রে যৌথ মালিকানাধীন খতিয়ানের ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যাগুলো তুলে ধরে করণীয় নির্ধারণ করা হয়েছে।
ভূমি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে যৌথ মালিকানার খতিয়ানের ক্ষেত্রে পুরো খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত জমির ভূমি উন্নয়ন কর একসঙ্গে পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফলে কোনো খতিয়ানে একাধিক মালিক থাকলে তাদের মধ্যে একজন বা একাধিক মালিক নিজের হিস্যা অনুযায়ী কেবল তার মালিকানাধীন অংশের ভূমি উন্নয়ন কর আলাদাভাবে পরিশোধ করতে পারেন না।
এতে একদিকে যেমন কোনো কোনো মালিক নিজের অংশের কর পরিশোধ করতে না পেরে সমস্যায় পড়ছেন, অন্যদিকে কোনো একজন মালিকের পক্ষে পুরো যৌথ খতিয়ানের ভূমির কর একসঙ্গে পরিশোধ করাও অনেক সময় কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মালিকের প্রয়োজন ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় পুরো খতিয়ানের কর একজনের মাধ্যমে পরিশোধের বিষয়টি যৌক্তিক বা সমীচীনও নয় বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইনে কী বলা আছে
‘ভূমি উন্নয়ন কর আইন, ২০২৩’-এর ৬(৩) ধারায় বলা হয়েছে, উত্তরাধিকার সূত্রে কিংবা অন্য কোনোভাবে হস্তান্তরের কারণে কোনো ভূমির মালিকানা একাধিক ব্যক্তির ওপর বর্তালে এবং তারা জমা-খারিজ করে পৃথক নামজারি না করলে ওই ভূমিকে একই খতিয়ানভুক্ত হিসেবে গণ্য করে ভূমি উন্নয়ন কর নির্ধারণ করতে হবে।
এই বিধানের কারণে যৌথ খতিয়ানের সব মালিক ভূমি উন্নয়ন কর দিতে আগ্রহী না হলে এক বা একাধিক মালিক নিজেদের হিস্যা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট অংশের কর পৃথকভাবে পরিশোধ করতে পারছেন না। আবার একজন মালিকের পক্ষেও পুরো খতিয়ানের ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করা অনেক ক্ষেত্রে কঠিন হয়ে পড়ে।
ফলে যৌথ মালিকানার খতিয়ানের কোনো মালিক তার নিজস্ব অংশ হস্তান্তর করতে চাইলে কিংবা অন্য কোনো প্রয়োজনে ভূমি উন্নয়ন করের দাখিলা প্রয়োজন হলে সমস্যায় পড়ছেন। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্যই নতুন নির্দেশনাগুলো দেওয়া হয়েছে।
বণ্টননামা থাকলে মিলবে পৃথক খতিয়ানের সুযোগ
ভূমি মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অনিবার্য কোনো কারণে যৌথ মালিকানাধীন খতিয়ানের পুরো ভূমির ভূমি উন্নয়ন কর একসঙ্গে পরিশোধ করা সম্ভব না হলে ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান বা দাখিলা ছাড়াই নিবন্ধিত বণ্টননামা দলিল অথবা আদালতের মাধ্যমে বণ্টননামা সম্পাদন করা যাবে।
এরপর ওই বণ্টননামার ভিত্তিতে যৌথ খতিয়ানের এক বা একাধিক মালিক ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ না করেও একক বা পৃথক খতিয়ান সৃষ্টির জন্য নামজারির আবেদন করতে পারবেন।
মালিকানার সঠিকতা যাচাই করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ভূমি উন্নয়ন কর আদায় বা দাখিলা ছাড়াই ওই নামজারির আবেদন মঞ্জুর করতে পারবেন। অর্থাৎ যৌথ খতিয়ানের পুরো জমির কর পরিশোধের বাধ্যবাধকতার কারণে পৃথক মালিকানা প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া যেন আটকে না থাকে, সে বিষয়টি নতুন নির্দেশনায় গুরুত্ব পেয়েছে।
নতুন খতিয়ানে কীভাবে কর দিতে হবে
বণ্টননামার ভিত্তিতে নামজারির মাধ্যমে নতুন খতিয়ান সৃজনের পর সংশ্লিষ্ট মালিককে তার হিস্যা অনুযায়ী পূর্বতন যৌথ খতিয়ানের ভূমি উন্নয়ন করের বকেয়া, প্রযোজ্য হারে, এবং হালদাবি পরিশোধ করে দাখিলা গ্রহণ করতে হবে।
তবে শুধু যৌথ খতিয়ানে মালিকানা থাকার ভিত্তিতে কোনো মালিক নিজের অংশের ভূমি উন্নয়ন কর এককভাবে পরিশোধ করতে পারবেন না। যৌথ খতিয়ান থেকে বণ্টননামার মাধ্যমে নামজারি করে পৃথক খতিয়ান সৃজনের পরই সংশ্লিষ্ট মালিকের জন্য নিজস্ব অংশের ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের সুযোগ তৈরি হবে।
অনলাইন ভূমিসেবা ব্যবস্থায় পরিবর্তন
নতুন নির্দেশনা কার্যকর করতে অনলাইন বা স্বয়ংক্রিয় ভূমিসেবা ব্যবস্থাতেও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার কথা বলা হয়েছে। এ জন্য বিদ্যমান ব্যবস্থায় প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন বা নতুন মডিউল সংযোজন করতে হবে।
এর ফলে যৌথ মালিকানাধীন জমির বণ্টন, নামজারি, পৃথক খতিয়ান সৃষ্টি এবং ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের বিষয়গুলোকে আরও সহজ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে জনস্বার্থে জারি করা এসব নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। ফলে যৌথ মালিকানাধীন খতিয়ানের ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ নিয়ে যেসব মালিক এতদিন জটিলতা ও হয়রানির মুখে পড়ছিলেন, নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে সেই সমস্যার সমাধানের পথ তৈরি হলো।

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬-এর পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি প্রকাশ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ২০ ডিসেম্বর শুরু হবে পরীক্ষা, চলবে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত। চার দিনব্যাপী এ পরীক্ষা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।
১ ঘণ্টা আগে

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) থেকে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শুরু হচ্ছে ছুটি। সাপ্তাহিক বন্ধ ও নির্ধারিত ছুটি মিলিয়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে টানা ১০ দিন এবং কলেজে সর্বোচ্চ ১৬ দিনের ছুটি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে মাদ্রাসায় ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে তিন দিন।
১ দিন আগে

মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নির্ধারিত মাপ ও নিয়ম মেনে ম্যানুয়াল নম্বরপ্লেট লাগানোর নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। এ জন্য আগামী ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা না মানলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১ দিন আগে

বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর তাঁদের রেখে যাওয়া জমি, বাড়ি বা অন্যান্য সম্পত্তি কীভাবে সন্তানদের মধ্যে ভাগ হবে—এ নিয়ে অনেক পরিবারে প্রশ্ন ও বিরোধ তৈরি হয়। কেউ জানতে চান, ছেলে ও মেয়ে সমান সম্পত্তি পাবেন কি না; আবার কেউ জানতে চান, ওয়ারিশ হিসেবে নিজের অংশ বুঝে পেতে কী করতে হবে।
৩ দিন আগে

জমি কেনা, বিক্রি কিংবা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তির মালিকানা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে খতিয়ান গুরুত্বপূর্ণ একটি নথি। কিন্তু অনেকেই জানেন না, জমির খতিয়ান কোথায় পাওয়া যায়, অনলাইনে কীভাবে দেখা যায় এবং খতিয়ান নম্বর না জানলে কী করতে হবে।
৩ দিন আগে

১৪ অক্টোবর ২০২৬, বুধবার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়ার পরিস্থিতি এক রকম থাকবে না। জেলা-ভিত্তিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা কম থাকলেও কয়েকটি জেলায় সামান্য বৃষ্টির ইঙ্গিত রয়েছে। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩০ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে। ফলে কোথাও গরম বেশি অনুভূত হতে পারে, আবার কিছু এলাকায় তুলনামূলক কম তাপমাত্রা থাকতে পারে।
৩ দিন আগে

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য টানা পাঁচ দিনের ছুটির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ অক্টোবর অতিরিক্ত সরকারি ছুটি যুক্ত হওয়ায় পূজার ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে পাঁচ দিন ছুটি কাটানোর সুযোগ পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা।
৪ দিন আগে

নিজের নামে জমির বৈধ দলিল রয়েছে, অথচ সেই জমিতে ঘর তুলে বসবাস করছেন অন্য কেউ, করছেন চাষাবাদ কিংবা জমি ছাড়তে চাইছেন না—এমন সমস্যায় পড়লে কী করবেন? শুধু দলিল দেখালেই সব ক্ষেত্রে জমির দখল ফিরে পাওয়া যায় না। জমির মালিকানা, সরকারি রেকর্ড, আগের দখলের ইতিহাস এবং দখলকারীর দাবির ধরন যাচাই করে সঠিক আইনি পদক্ষেপ নিতে হয়।
৪ দিন আগে

দেশের বাজারে আবারও কমেছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকা নির্ধারণ করেছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে।
৪ দিন আগে