
সিনিয়ার রিপোর্টার

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সাইবার অপরাধের প্রবণতাও আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে একটি নতুন ও উদ্বেগজনক প্রতারণা চক্র বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছে, যারা দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ বিভিন্ন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার নাম, ছবি ও ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ কর্মকর্তাদের পদমর্যাদা ও সম্মানকে পুঁজি করে ভুয়া ফেসবুক আইডি বা পেজ খুলে অর্থ দাবি এবং বিভিন্ন তদবির বা অবৈধ সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে সাধারণ মানুষের সর্বস্ব লুটে নেওয়ার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে।
নাগরিকদের এই ক্রমবর্ধমান অনলাইন প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা করতে এবং সচেতনতা তৈরি করতে এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। দেশজুড়ে সাধারণ মানুষকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে একটি বিশেষ বার্তা প্রকাশ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এবং সাধারণ মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এই অপকর্ম চালিয়ে আসায় পুলিশ প্রশাসন এখন আরও বেশি তৎপর হয়ে উঠেছে।
ভুয়া আইডির ফাঁদ: বদলি, চাকরি ও মামলা নিষ্পত্তির নামে চলছে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রটি সাধারণত ফেসবুক, মেসেঞ্জার কিংবা অন্যান্য জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো টার্গেট করে। তারা অত্যন্ত সুকৌশলে বিভিন্ন আসল উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা কিংবা সরকারি আমলাদের প্রোফাইল থেকে ছবি ও তথ্য চুরি করে হুবহু একটি ভুয়া অ্যাকাউন্ট বা আইডি তৈরি করে। সাধারণ মানুষ যখন দেখেন যে কোনো বড় পদের কর্মকর্তার আইডি থেকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট এসেছে বা বার্তা পাঠানো হয়েছে, তখন তারা স্বাভাবিকভাবেই বিশ্বাস স্থাপন করেন।
আর এই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়েই প্রতারকরা বিভিন্ন ফাঁদ পাতে। চক্রটি সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করে চাকরি দেওয়া, পুলিশ বিভাগে বদলি করা, চলমান কোনো মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করে দেওয়া কিংবা বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আইনি সহায়তার লোভ দেখায়। এর বিনিময়ে তারা গোপনে বিকাশের মাধ্যমে বা অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। সাধারণ মানুষ যখন বুঝতে পারেন যে তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সতর্কতার আহ্বান: যা বলছে পুলিশ সদর দপ্তর
এই ধরনের সংঘবদ্ধ সাইবার অপরাধ রোধে নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কাবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। সতর্কবার্তায় পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে যে, কোনো ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বা পেজে যদি কোনো সরকারি বা পুলিশ কর্মকর্তার ছবি কিংবা নাম ব্যবহার করা থাকে, তবে অন্ধভাবে সেটিকে আসল অ্যাকাউন্ট হিসেবে বিশ্বাস করা যাবে না। প্রতারকদের মূল হাতিয়ার হলো সাধারণ মানুষের অন্ধ বিশ্বাস, তাই যে কোনো অনলাইন যোগাযোগের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বুদ্ধিমত্তা ও যাচাইয়ের মানসিকতা জরুরি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যদি কখনো হুট করে অর্থ পাঠানোর কোনো অনুরোধ আসে, ব্যক্তিগত বা গোপনীয় কোনো তথ্য চাওয়া হয়, কিংবা কোনো অবৈধ তদবিরের প্রস্তাব দেওয়া হয়—তবে বিন্দুমাত্র দেরি না করে তা যাচাই করতে হবে। যাচাই না করে এ ধরনের কোনো প্রস্তাবে বা প্রলোভনে কখনোই সাড়া দেওয়া যাবে না। সামান্য অসচেতনতা আপনার জীবনকে বড় কোনো বিপদের মুখে ঠেলে দিতে পারে, তাই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে লেনদেন বা যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রয়োজন বাড়তি সতর্কতা।
প্রতারণার শিকার হলে কী করবেন? জরুরি সেবা ও কঠোর আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি
পুলিশ সদর দপ্তর থেকে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করে জানানো হয়েছে যে, পুলিশ সদস্য বা যেকোনো সরকারি কর্মকর্তার নাম ও পরিচয় ভুয়াভাবে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা অত্যন্ত গুরুতর এবং দণ্ডনীয় একটি সাইবার অপরাধ। এই ধরনের অপকর্মে যারাই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না এবং প্রচলিত কঠোর আইনের আওতায় এনে তাদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করা হবে।
যদি কেউ ইতোমধ্যে এই ধরনের কোনো প্রতারণার শিকার হন কিংবা ফেসবুকে সন্দেহজনক কোনো ভুয়া আইডির বার্তা বা প্রস্তাব পান, তবে তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ। দ্রুত প্রতিকার পেতে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করতে পারেন অথবা সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (CPC) কিংবা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগে (DB) সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে অভিযোগ জানাতে পারেন। দ্রুত অভিযোগ করলে অপরাধীদের প্রযুক্তির সহায়তায় সহজে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

প্রবাসী বাংলাদেশি ও দেশের রেমিট্যান্স যোদ্ধা এবং তাদের পরিবারগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা বাজার থেকে এসেছে এক দারুণ স্বস্তিদায়ক সংবাদ। সর্বশেষ আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি একক সৌদি মুদ্রার মান বেশ ভালোভাবেই ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। গত মাসের তুলনায় চলতি জুলাই মাসের এই সময়ে এসে বাংলাদেশি মুদ্রায় সৌদি রিয়ালের বিনিময় মূল্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের অর্থনীতি এবং প্রবাসী পরিবারগুলোর মুখে হাসি ফোটাতে দারুণ ভূমিকা রাখবে।
২৭ মিনিট আগে

আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সঙ্গে প্লাস্টিক এখন ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে। অথচ আমরা বুঝতেও পারছি না যে এই প্লাস্টিক কতটা নীরবে আমাদের শরীরে প্রবেশ করে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। সম্প্রতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)-এর একদল গবেষকের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এক যুগান্তকারী গবেষণায় এক alarming বা ভীতিজনক তথ্য উঠে এসেছে। দেশের বাজারে প্রচলিত বোতলজাত ও খোলা সয়াবিন তেলের নমুনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা জনস্বাস্থ্য ও খাদ্যনিরাপত্তাকে এক মারাত্মক হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
৪৮ মিনিট আগে

সৌদি আরব ভ্রমণ এখন আরও আকর্ষণীয় ও সহজ হতে চলেছে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য। দেশটির সরকার পর্যটন খাতের পরিধি বিস্তৃত করতে এবং বিশ্বব্যাপী ভ্রমণপিপাসুদের আকর্ষিত করতে একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও অভিনব ডিজিটাল উদ্যোগ হিসেবে চালু করেছে ‘প্যাকেজ ভিসা’। এখন থেকে অনুমোদিত কোনো ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে ট্যুর বুকিং করার সঙ্গেই একই সাথে সম্পন্ন করা যাবে পর্যটন ভিসার আবেদন। বাংলাদেশসহ বিশ্বের নির্বাচিত কয়েকটি দেশের নাগরিকরা বর্তমানে এই বিশেষ সুবিধার আওতায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
১ ঘণ্টা আগে

অবশেষে প্রতীক্ষার পালা শেষ হতে চলেছে দেশের কোটি শিক্ষার্থীর জীবনে। আগামী ১০ আগস্ট ২০২৬ তারিখ সোমবার দেশের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হবে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর এই ফল প্রকাশের খবরে লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে এক মিশ্র অনুভূতির উৎকণ্ঠা আর স্বস্তির এক অন্যরকম মেলবন্ধন। কাঙ্ক্ষিত ফল হাতে পাওয়ার দিন ঘনিয়ে আসায় চারদিকে এখন শুধু ফলাফলের আলোচনা।
১১ ঘণ্টা আগে

বাংলাদেশের সোনার বাজারে আরও একবার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে, যার ফলে ক্রেতা সাধারণের জন্য গহনা কেনার খরচ কিছুটা বাড়ল। দেশের সোনার বাজারের একমাত্র শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) তাদের সর্বশেষ ও নতুন মূল্য সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানোর বড় ঘোষণা দিয়েছে।
১২ ঘণ্টা আগে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ জোরেশোরে ছড়িয়ে পড়েছিল যে, আগামী ৩০ জুলাই ২০২৬ তারিখে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। তবে লাখ লাখ পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া এই তথ্যটিকে সম্পূর্ণ অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।
১ দিন আগে

দেশের শিক্ষাঙ্গনের সাড়ে ১৮ লাখেরও বেশি পরীক্ষার্থী এবং তাদের উদ্বিগ্ন অভিভাবক মহলে চলা দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বহুল প্রতীক্ষিত ২০২৬ সালের এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।
১ দিন আগে

দেশের সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রত্যাশিত ও আলোচিত নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও চূড়ান্ত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আরও অন্তত দুই থেকে তিন মাস অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে জানা গেছে। নতুন এই বেতন কাঠামো চূড়ান্ত ও বাস্তবায়নের রূপরেখা নির্ধারণ নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটির দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো জানিয়েছে যে, পুরো প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া নিখুঁতভাবে শেষ করে সরকারি গেজেট প্রকাশের ক্ষেত্রে কিছুটা দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হতে পারে। তবে সরকারের বর্তমান নীতিগত লক্ষ্য রয়েছে চলতি বছরের আগামী অক্টোবরের আগেই এই গেজেট আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করার, যার জন্য সচিব কমিটিকে সামনে আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দফা বৈঠকে অংশ নিতে হবে।
১ দিন আগে

দেশের সাড়ে ১৪ লাখেরও বেশি সরকারি চাকরিজীবীর দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সাম্প্রতিক ভাষ্য অনুযায়ী, বেতন কমিশনের সুপারিশ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করার জন্য গঠিত উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটি আগামীতে আরও দুই থেকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবে এবং এরপরই তাদের চূড়ান্ত সুপারিশমালা আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের উচ্চ মহলে জমা দেবে। এরপরে মন্ত্রিসভার সবুজ সংকেত ও চূড়ান্ত অনুমোদন মিললেই নতুন পে-স্কেলের বহুল প্রত্যাশিত গেজেট প্রকাশের পথ আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত হবে। সব কিছু যদি নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্বিঘ্নে এগোতে থাকে, তবে আগামী আগস্ট মাসের মধ্যেই এই গেজেট প্রকাশিত হতে পারে বলে জোরালো আশা করা হচ্ছে।
১ দিন আগে