
রিপোর্টার

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে শুক্রবার ভোরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে অন্যতম আকর্ষণীয় এক লড়াই। কানাডার টরন্টোর বিএমও ফিল্ডে মুখোমুখি হবে ইউরোপের দুই পরাশক্তি পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়া। শেষ ৩২-এর এই ম্যাচে জয়ী দল নিশ্চিত করবে শেষ ষোলোর টিকিট, আর পরাজিত দলকে বিদায় নিতে হবে বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে।
তবে ম্যাচটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ মাঠের লড়াইয়ের চেয়েও বেশি দুই কিংবদন্তির মুখোমুখি হওয়া। একদিকে পর্তুগালের অবিনাশী তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, অন্যদিকে ক্রোয়েশিয়ার মিডফিল্ডের জাদুকর লুকা মদ্রিচ। দুই কিংবদন্তির অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব এবং ফুটবলীয় মেধার লড়াইয়ে জমে উঠতে যাচ্ছে টরন্টোর রাত।
গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে নকআউটে দুই দল
গ্রুপ কে-তে রানার্সআপ হয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে পর্তুগাল। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন কলম্বিয়ার চেয়ে দুই পয়েন্ট পিছিয়ে থেকে গ্রুপ পর্ব শেষ করে রবার্তো মার্টিনেজের শিষ্যরা।
অন্যদিকে, গ্রুপ এল-এ ইংল্যান্ডের পর দ্বিতীয় স্থান দখল করে শেষ ৩২-এ উঠেছে ক্রোয়েশিয়া। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের চেয়ে মাত্র এক পয়েন্ট কম নিয়েই নকআউট নিশ্চিত করেছে জ্লাতকো দালিচের দল।
হতাশা দিয়ে শুরু, দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন পর্তুগালের
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে হতাশ করেছিল পর্তুগাল। সেই ম্যাচে তাদের আক্রমণভাগ ছিল নিষ্প্রভ।
তবে দ্বিতীয় ম্যাচেই বদলে যায় চিত্র। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ৫-০ গোলের বিশাল জয় তুলে নিয়ে শক্তিশালী প্রত্যাবর্তনের বার্তা দেয় পর্তুগিজরা। সেই ম্যাচে জোড়া গোল করেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে কলম্বিয়ার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে তারা। যদিও ওই ম্যাচে পর্তুগালকে বেশ চাপে রেখেছিল দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।
গ্রুপে দ্বিতীয় হওয়ায় নকআউটের পথও কঠিন হয়ে গেছে রোনালদোদের জন্য। শেষ ষোলোর টিকিট পেলে সামনে অপেক্ষা করতে পারে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনের মতো কঠিন প্রতিপক্ষ।
ইতিহাস ও সাম্প্রতিক ফর্মে আত্মবিশ্বাসী পর্তুগাল
ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে অতীতের পরিসংখ্যান পর্তুগালের পক্ষেই কথা বলছে।
ইউরো ২০১৬-এর নকআউট পর্বে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়েই শিরোপা জয়ের পথ শুরু করেছিল পর্তুগাল। সেই স্মৃতি এখনও আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে রোনালদোদের।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে নিজেদের শেষ আট ম্যাচে অপরাজিত রয়েছে পর্তুগাল। এই সময়ে পাঁচটি জয় ও তিনটি ড্র করেছে তারা। পাশাপাশি মাত্র চারটি গোল হজম করেছে এবং চারটি ম্যাচে ক্লিন শিট রেখেছে।
নতুন ইতিহাসের স্বপ্নে ক্রোয়েশিয়া
২০১৮ বিশ্বকাপের রানার্সআপ এবং ২০২২ বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান অধিকারী ক্রোয়েশিয়া আবারও বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখছে।
যদিও এবারের আসর শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডের কাছে ৪-২ গোলের হার দিয়ে। তবে পরে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে পানামাকে ১-০ এবং ঘানাকে ২-১ গোলে হারিয়ে নকআউট নিশ্চিত করে তারা।
ঘানার বিপক্ষে ম্যাচে জয়সূচক গোলে অ্যাসিস্ট করে নতুন রেকর্ড গড়েন লুকা মদ্রিচ। তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে অ্যাসিস্ট করা ফুটবলার হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে শেষ ১৬ ম্যাচে ১১টি জয় পেয়েছে ক্রোয়েশিয়া। তবে তাদের চারটি হারই এসেছে নিজেদের চেয়ে উচ্চ র্যাঙ্কিংয়ের দলের বিপক্ষে।
মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে পর্তুগাল
দুই দলের পরিসংখ্যানও পর্তুগালের পক্ষেই।
শেষ ১০ দেখায় সাতবার জয় পেয়েছে পর্তুগাল। সর্বশেষ ছয়টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের পাঁচটিতেই জয় পেয়েছে তারা।
যদিও ২০২৪ সালে দুই দল ১-১ গোলে ড্র করেছিল, তবুও সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনায় কিছুটা এগিয়ে থেকেই মাঠে নামবে পর্তুগিজরা।
দলীয় সর্বশেষ খবর
পর্তুগাল শিবিরে নতুন কোনো ইনজুরির খবর নেই। নকআউট ম্যাচে শক্তিশালী একাদশ নিয়েই মাঠে নামতে পারেন রবার্তো মার্টিনেজ।
আক্রমণে নেতৃত্ব দেবেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। বিশ্বকাপের টানা ছয় আসরে গোল করা প্রথম ফুটবলার হিসেবে নিজের রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করার সুযোগ রয়েছে তার সামনে।
অন্যদিকে, ক্রোয়েশিয়া শিবিরেও বড় কোনো চোটের সমস্যা নেই। লুকা মদ্রিচ, মাতেও কোভাচিচ এবং ইভান পেরিসিচদের নিয়ে পূর্ণ শক্তির দল নিয়েই মাঠে নামবে তারা।
সম্ভাব্য একাদশ
পর্তুগাল: কস্তা; ক্যানসেলো, দিয়াস, ভেইগা, মেন্দেস; ভিতিনিয়া, জোয়াও নেভেস; নেতো, ব্রুনো ফার্নান্দেজ, ফেলিক্স; রোনালদো।
ক্রোয়েশিয়া: লিভাকোভিচ; স্তানিসিচ, সুতালো, পংগ্রাচিচ, গভার্দিওল; সুচিচ, মদ্রিচ, কোভাচিচ; বাতুরিনা, বুদিমির, পেরিসিচ।
কী বলছে পরিসংখ্যান?
পর্তুগালের জয়ের সম্ভাবনা: ৫৪ শতাংশ
ক্রোয়েশিয়ার জয়ের সম্ভাবনা: ১৯ শতাংশ
ড্র হওয়ার সম্ভাবনা: ২৭ শতাংশ
ফুটবল বিশ্লেষকদের ধারণা, নির্ধারিত সময়ে ম্যাচটি ১-১ সমতায় শেষ হতে পারে। তবে অতিরিক্ত সময় কিংবা টাইব্রেকারে পর্তুগাল এগিয়ে থাকতে পারে।
বিশ্বকাপের নকআউট মানেই অন্যরকম চাপ, অন্যরকম আবেগ। টরন্টোর এই লড়াইয়েও তার ব্যতিক্রম হওয়ার সুযোগ নেই। একদিকে রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপের স্বপ্ন, অন্যদিকে মদ্রিচের আরেকটি রূপকথা লেখার আকাঙ্ক্ষা—সব মিলিয়ে ফুটবল বিশ্বের চোখ এখন টরন্টোর সবুজ গালিচায়।

ক্রিকেট ও ফুটবলপ্রেমীদের জন্য আজ রয়েছে ব্যস্ত ক্রীড়াসূচি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের চতুর্থ দিনে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। একই দিন ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। এ ছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকা-অস্ট্রেলিয়ার কেপটাউন টেস্টের পঞ্চম দিনের খেলাও অনুষ্ঠিত হবে।
৩ দিন আগে

লা লিগার চলতি মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকোতে আজ রাতে মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদ। বহুল প্রতীক্ষিত এই ম্যাচ ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে টেলিভিশনের পাশাপাশি মোবাইলেও সরাসরি দেখা যাবে হাইভোল্টেজ লড়াইটি।
২৫ অক্টোবর ২০২৬

ফ্রান্সে ব্যাপক বিক্ষোভ ও সহিংসতার কারণে আগের দিনের দর্শক আয়োজন বাতিল হলেও নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী মাঠে গড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় আমেরিকান ফুটবল লিগ এনএফএলের ম্যাচ। রোববার (২৫ অক্টোবর) প্যারিসের স্তাদ দ্য ফ্রঁস স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছে পিটসবার্গ স্টিলার্স ও নিউ অরলিন্স সেইন্টস। ম্যাচ শুরুর সময় স্টেডিয়ামটি প্রায় দর্শকপূর্ণ ছিল। পরিস্থিতি বিবেচনায় মাঠ ও আশপাশে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা।
২৫ অক্টোবর ২০২৬

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার সিটির টানা জয়ের ধারা থামিয়ে দিয়েছে অ্যাস্টন ভিলা। নিকোলাস জ্যাকসনের জোড়া গোলে নিজেদের মাঠ ভিলা পার্কে ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছে স্বাগতিকরা। এই হারে চলতি লিগ মৌসুমে প্রথমবারের মতো পয়েন্ট হারানোর পাশাপাশি প্রথম পরাজয়ের স্বাদ পেল ম্যানচেস্টার সিটি।
২৪ অক্টোবর ২০২৬

নভেম্বরে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। এ মাসে জাপান ও স্বাগতিক সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে দুটি ম্যাচ খেলবে কার্লো আনচেলত্তির দল। দুই ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে। ফলে ব্রাজিলের সমর্থকেরা বাংলাদেশ সময় বিকেলেই ম্যাচ দুটি উপভোগ করতে পারবেন।
১৩ অক্টোবর ২০২৬

এশিয়ার মাটিতে আবারও দেখা যাবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে। আগামী নভেম্বরে সিঙ্গাপুরে চার জাতির ফুটবল আয়োজনে দুটি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। প্রথম ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ জাপান, আর দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাগতিক সিঙ্গাপুর।
৪ অক্টোবর ২০২৬

কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে দাপুটে জয় পেয়েছে পাঁচবারের বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল। শনিবার (৩ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত ম্যাচে স্বাগতিক ভারতকে ৪-০ গোলে হারিয়েছে ব্রাজিল। এস্তেভাও, পেদ্রো ও স্যামুয়েল লিনোর গোলে জয় নিশ্চিত করে দলটি। স্যামুয়েল লিনো করেছেন জোড়া গোল।
৩ অক্টোবর ২০২৬

কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে চলছে ভারত ও পাঁচবারের বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলের ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ। প্রথমার্ধে দুই গোল করে এগিয়ে থাকা ব্রাজিলকে পিছনে রেখেই দ্বিতীয়ার্ধের খেলায় নেমেছে ভারত। বিরতির পর শুরু হয়েছে ম্যাচের শেষ ৪৫ মিনিটের লড়াই।
৩ অক্টোবর ২০২৬

কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে চলছে ভারত ও পাঁচবারের বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলের ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ। সিনিয়র পুরুষ জাতীয় দলের পর্যায়ে প্রথমবার মুখোমুখি হওয়া দুই দলের লড়াইয়ে প্রথমার্ধ শেষে ২-০ গোলে এগিয়ে রয়েছে ব্রাজিল।
৩ অক্টোবর ২০২৬